জয় গাঙ্গুলি

“মানুষ নিকটে গেলে প্রকৃত সারস উড়ে যায়”—
এ কথা কেউ উচ্চারণ করে না,
কেবল কাদামাটির ভেতর থরথর করে কাঁপে
অদৃশ্য জলের উৎস।

যখন তোমার দিকে এক পা বাড়াই,
আমার প্রলম্বিত ছায়া আগেই পৌঁছে যায়—
দীর্ঘ, কুৎসিত, অভ্যাসে বিকৃত।
সেই ছায়ায় শাপলার সাদা মুখে ফুটে ওঠে কালো দাগ।
সারস তখনও জলে দাঁড়িয়ে—
নিজের প্রতিবিম্বকে চঞ্চুতে ছুঁয়ে দেখে,
যেন সত্যের যাচাই; ডানা, না ডানার সম্ভাবনা।

মানুষ নিকটে গেলে প্রথমে জলে বৃত্তাকার ঢেউ,
তারপর আকাশে।
আমার দৃষ্টির লোভ তার হাড়ে হাড়ে ঢুকে যায়—
আমি তাকে পেতে চাই না, নিশ্চিত করতে চাই।
আর নিশ্চিত হওয়ার ভয়েই সে পালক হয়ে যায়—
হাড় থেকে মাংস খসে পড়ে, থেকে যায় কেবল উড়ান।

সারস এক অন্তর্লীন সততা, দূরত্বের ভিতর জন্মায়!
আমরা যত কাছে যাই, আমাদের নাম, পদবি, স্মৃতি,
ভালোবাসার পুরোনো সংজ্ঞায় ঐন্দ্রজালিক ঘোর —
মিহি, কারুকার্যখচিত, তবু শ্বাসরোধী।

হাত বাড়ালেই তার পায়ের তলায় স্মৃতির শিশির শুকিয়ে যায়,
আকাশে ফুটে ওঠে এক শূন্যের রেখাচিত্র—
যেখানে সে ছিল, সেখানে কেবল অনুপস্থিতির আলো।

“মানুষ নিকটে গেলে প্রকৃত সারস উড়ে যায়”—
কাছে যাই স্পর্শহীন , শুধুই অধিকার ।
এক অদৃশ্য খাঁচায় আটকে থাকা দৃষ্টি :
শেষে দেখি—জল ফাঁকা, আকাশও।
একা দাঁড়িয়ে আছি, হয়তো সারস কোথাও যায়নি,
সে কেবল উড়ে গেছে ক্ষণিকের ডানায়।
যেখানে শব্দের কংকাল ঝুলে থাকে, দূরত্বই একমাত্র নৈকট্য,
যেখানে অক্ষত কেউ কারও দিকে এগোয় না।


Discover more from Shikor

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান

Trending