Powered by
WordPress
  • অনার্য শান্ত

    জনপদে শ্লেষা জীবন ক্ষয়ে যাওয়া বিকেল ঠারেঠোরে বুঝিয়ে যায় নিজের ছায়াকে অস্বীকার করার কৌশল। সেই দৃশ্যের ভেতর হাড়ের নৌকা ভাসে নীরব শঙ্খজলে। জ্বরগ্রস্ত নরম আর্তনাদে পাঁজরের ফাঁকে কুলকুচি সভ্যতা আঁচিয়ে নিয়ে আমি বিনম্র মায়া জোৎস্নার পকেট বানাই। আরো অতলে হিরণ্ময় সন্ধ্যানে পিশাচের জিভে যে মানুষ দাঁড়িয়ে থাকে- তার সাথে ঈশ্বরের সম্পর্ক আলাদা। সম্পর্কের আড়ালে থাকে…

  • সাদিয়া নাজিব

    মেডুসা জল থেকে জন্ম নেয়া আগুন আমিচোখে অনন্ত সম্মোহন,বারবার ভেঙে দেয় দেবতার ধ্যান।বীরেরা হয় নতজানু,পাণিপ্রার্থীর দীর্ঘ লাইনে বাঁধে হট্টগোল তুমুল। উপেক্ষা করি তাদের।উপেক্ষা,এবং উপেক্ষা। কাপুরষ পসাইডন!প্রত্যাখানের আগুন ঝলসে দিয়েছে তোমার অহমিকাপুস্পোদ্যান তুমি লুটবে,কিন্তু পুস্পাঞ্জলি পাবে না। এই চোখে চোখ রেখো নাপাথর হয়ে যাবে। আমাকে খুঁচিয়ো নাহিসহিসিয়ে উঠবে আমার প্রতিটি কেশজল থেকে জন্ম নেয়া আগুন আমিদোহাই,চোখে…

  • কামরুন নাহার

    আলো আঁধারির ভাষা ও আকাশ তুমি এমনি করে নীরব হয়ে থেকো,আমার দখিন দুয়ার, খোলা বাতায়ন, মন্দির মন,শীতল সমীরণে গহন হৃদয় পাড়ি দিয়ে যায়চন্দ্র মালতী বনে, ও বাতাস তুমি চুপ করে শুনো,তব সংগীত জোয়ার, রংধনু আঁকা পথ প্রান্তর,অভয় নিশি রাত, সন্ধ্যা তারারা জোনাক হয়ে পথ আলো করে থাকুক, রাতের আকাশে একা চাঁদ তার মিষ্টি চিবুকে হাসুক।…

  • শুভদীপ রায়

    প্রখর রমণী এবং সিঁথিরেখা তোমার নামে উহ্য রইলো কথার জোনাকিআর অপেক্ষার বারান্দায় সোহাগ গুছিয়ে রাখা মৌনআদরসাজিয়ে রেখেছি দ্যাখো ধান-দূর্বার মাঙ্গলিক শীষতবু তোমাকে ভাবিনি শাপ,আসলে লালন করেছি বুকে তীব্র আশিসতুমি তো প্রখর নারী, উল্কা রমণী,সচ্ছল আগুন রাখো অক্ষর-স্রোতেআমি যে পুড়ে যাওয়া উদ্বাস্তু যুবাতবু কেন বারবার প্রস্তুত রাখো শব্দের দহন,ও মেয়ে অতলযোনি ….আমি তো ভাসতে শিখিনি শঙ্খনদীতে

  • কোয়েল তালুকদার

    চন্দ্রালোকের অন্তরালে তুমি তোমাকে দেখলেই মনে হয়রাত্রির আকাশে হেলে পড়া চাঁদ,স্বর্ণভূষণের মৃদু ঝংকারেজেগে ওঠে কোনো প্রাচীন সুর।তোমার গাত্রে যেন আলো মাখানো দুধসাদা স্বপ্ন,আঙুল ছুঁতে গেলেই ভেঙে যাবেএমন কোমল এক আশঙ্কাআমার প্রতিটি স্পন্দনে কেঁপে ওঠে।ঘন কেশের ভিতরে লুকিয়ে থাকেবৃষ্টিভেজা মেঘের অন্ধকার ডাক,আর তোমার চোখসমুদ্রের মতো গভীর, অথচ টানে অবিরাম,ডুবিয়ে দেয় আমাকে কোনো নীলতায়।ওষ্ঠের কোণে লালিমাফুটে থাকা…

  • মুকুল ম্রিয়মাণ

    নাচস্থান পরিবেশিত হচ্ছে-ঘুঙুরের শব্দ ও রেওয়াঅনুরাগ দৃশ্যগুলো নথিভুক্ত হওয়ার আগেইহাওয়া মণ্ডলে ঢলে পড়ছো তুমিকী হলো তোমার?এটা অশেষ সুন্দরক্লান্তিমীন মিথুন ও আলোর ঘনত্বপাশাপাশিতোমার পায়ের সাথেঘুমোতে যাচ্ছেরাত ও নাচস্থান

  • আবীর ইমন

    বারোমাসি কোকিল কোকিল ভালোহ’লে কোকিল বারোমাসি।বসন্তের যে কোকিল হয় সে কোকিল নয় তোজটিল কুটিল ষড়যন্ত্রী;সর্বনাশের কলকাঠি তার হাতে থাকে। চাতুরিতে মন থাকে হাঁ ওই কোকিলেরস্বরে থাকে কালা যাদু :মালা ভেবে গলায় নিলে গলগণ্ড হয়ভালোবেসে বুকে নিলে  মরণ যক্ষ্মা!সুর দিয়ে তার     পো ড়া র স্ব ভা ব। এমন কোকিল চায় না তো কেউবসন্তে যে গলা ছাড়ে!মরার…

  • নাসরীন জাহান

    দেখো, আমি কত তীব্র মলিন এসো সূর্যগ্রহণ!এসো জোসনায় ভেজানো অমাবস্যা!ডিম ফাটা শব্দের রং গাঢ় লাল, কত কালচে, কত বাকলের মত খসখসে, কত বেদনার মত খয়েরি! এসো অনেক পাতার সবুজ অথবা, অনেক মৃত্যুশাদা অনেক কালো পিতল স্রোত!আমি কত মলিন দ্যাখো,আমাকে কৃষ্ণকলি বলে, আমার রঙের মলিনতাকে উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছো মনে করেছ?এই সান্ত্বনার ভাষা আমি চিনি।এ মলিনতা পাতার…

  • নাহার মনিকা

    প্রসঙ্গক্রমে প্রসঙ্গক্রমে ভুল করে বসি।বীজের ভেতরে বুনি সন্দেহের শাঁস,বপনের ইচ্ছা নিয়ে চোখ বুজে থাকে বীজতলা।তবুও সেই অনির্দিষ্ট পথ,মধ্যরাত ইষদুষ্ণ ছড়িয়ে ছিটিয়ে শুয়ে থাকেখসখসে ঘুমহীন চাঁদ বুকের কাছেদু’হাঁটু গুটিয়ে বসে থাকে,বুক উজিয়ে উঠে আসে শিথানহীন ভোর।অবিশদ আলো দ্রুতহাতেহাওয়া ভাঁজ করে, মাটিতে কোপায়বীজ ফেটে প্রাণ নিয়ে ব্যথাবোধেভোররাত হাঁটু গুজে কাঁদে। ভুলের মাশুল দিই হাওয়ায় হাওয়ায়।

  • দিলারা হাফিজ

    ওহে মানুষ ওহে মানুষতুমি কি ভুলে গেছো—-মায়ের জরায়ু থেকে কাঁদতে কাঁদতে স্বর্গ থেকে একদিননেমে এসেছিলে এই স্বপ্নপুরিতে… মা ও বাবা নামে যে দুজন অলৌকিক দিব্যমানুষতোমার বেড়ে উঠতে সমূহ অনুপানের সবররাহআজীবন সুষম রেখেছে—এই পৃথিবীতে তারাই তোমার এ্যাঞ্জেল…ছিলো! তুমি সাবালক হতে হতে তাদের বিরুদ্ধেই তোমারপ্রথম অনুযোগ তুলে ধরলে,ভালোবাসার অসম বণ্টনে। এই ছায়াকুঞ্জের প্রেম ও প্রত্যয়ে পেতে চাইলে…

  • শামীম আজাদ

    বোধ তোমরা এভাবে কথাগুলো বলছ যেনসততার সঙ্গেই মোচন করে দিচ্ছো সমস্ত দাগ।আসলে তো পাপের চাপকলে ঘাম ধু’য়েঘুড়ি হয়ে যাচ্ছো,আমাদের হাতে এখন রয়ে যাবে শুধু কাচকাটা আঁক। এদিকে যে আমি সহঅন্তত আরো নিরানব্বুই জনসচল সাধারণ অপদার্থ মানুষঅন্যায়ভাবে ভুগছি তা ভাবছো না।তাজ্জব ব্যাপার! শোনো, সেই শুরুর কালেমানুষ যখন রক্তরূপ মদও মাংসরূপ রুটিখন্ড হাতেপ্রাচীণ ধংসস্তুপ দ্বারেক্রন্দনরূপ প্রার্থনা করেঅর্গানিক…

  • ব্রতশ্রী বসু ঘোষ

    অপারগ যে প্রেম চেয়েছ অঞ্জলি পেতেজীবনের অলিগলিশোন প্রিয়তম সে গোপন কথা,রহস্য আজ বলি…. অপারগ সে-ও দ্বিধায় জড়ানোলুকানো উপন্যাসশেকলে বেঁধে সে আছে যুগে যুগেআজন্ম কারাবাস পাবে না সে প্রেম , যত তুমি খোঁজোআছাড়ি পিছাড়ি কাদোঁচোখে চোখ রেখে ঠোঁটে ঠোঁট রেখেযত কষে তাকে বাঁধো… যে প্রেম খুঁজেছ অখিল ভুবনেপরশপাথর মণি…রাতজাগানিয়া নদী দিয়ে যাকেকরেছ হীরের খনি যত্নে সেধেছ…

  • সৈয়দা তুহিন চৌধুরী

    সলতের জীবন শোবার ঘরের কোণে যে আয়নাতার মুখোমুখি দাঁড়াতে ভয় করে তোমার যেন অবিচল সত্য নিয়ে ঠায় এক প্রহরী। খড়ি ওঠা দেয়াল,অনাবৃষ্টি ঠেকাতে কিনে আনো রংধনু । নতুন রঙের মাদকতা, মাথা ঝিমঝিম ভারসময়ে-অসময়ে কপাট খোলো দক্ষিণের জানালার । চাঁদ হতে গিয়ে আমি আজ অমাবশ্যা প্রায়লুটিয়ে পড়ে আছি তোমার চৌকাঠ ছুঁয়ে,যেন এই তো বেশ আছি । প্রমাণ স্বরূপ এই স্পন্দন, এই সলতের জীবন!অবহেলা সয়ে সয়ে মাটিও একদিন পাথর হয়ে যায়!আর ঈশ্বরের প্রাণী তুমি! মগ্ন থাকো…

  • মাসুদ মুস্তাফিজ

    যিনি ঈশ্বর তিনি বিভক্ত ঢেউয়ের মতোন আমি  কবিতার ডায়োজিনিজঢেউ— অন্তরের স্বর্গীয় ভাবধারা আমি ছাড়া আর কোনো পবিত্রতা নেইকবিতা ছাড়া আর কোনো বিশ্বাস নেই আমি সময়ের বদ্ধাঞ্জলিতে ঈশ্বরকে লালনপালন করিধারণাতীত নিজেকে ছাড়িয়ে এক বুর্জোয়া আদমঈশ্বর!শান্ত—অর্ধ-দিবালোকে পৃথিবীর সমান মানুষবেদান্তের পরমাত্মা— সীমার কাছে নতজানুযে ঈশ্বর বাস্তবতা হারিয়ে ফেলে ফিলিপ লারকিন কিংবা হুমায়ূন আজাদের সাথে তর্কাতীত হয় মানুষই সেখানে…

  • আতাউর রহমান মিলাদ

    খিড়কি তুমি আমার পক্ষে,আমিও তোমার পক্ষেকেউ কারো পক্ষে না,তৃতীয় কারো লক্ষে!সময় মেপে শত্রু করেছে,মিত্র হয়েছে পরহিংসা ও ক্রোধে ভাঙছে এ সাজানো ঘর। উদ্বাস্ত স্বভাব যাক মিথ্যা কোলাহল ঠেলেরোদের তালাশে বের হই বন্ধ দরজা খোলে

  • শান্ত চৌধুরী

    বৈশাখের রঙঢঙ নতুন দিনের আগমনসুরে গানে উল্লাসেতাকডুম তাকডুম।নতুন দিনের নতুন ভোরঢাকের তালে হৈহুল্লোড়।আগুনরাঙা রোদে ভিজেললনার লাল-সাদাশাড়ির পাড়েকাঁচের চুড়ির ঝংকার।ঢাকের তালেতাকডুম তাকডুম।নতুন স্বপ্নে বৈশাখ আসেকিশোরীর হাসির অদ্ভুত মাধুর্যে।চারদিক জুড়ে রঙঢঙেরউচ্ছ্বাস, বসন্তের শেষে।বৈশাখ এলো, বৈশাখ এলোনতুন দিনের নতুন গানেনিপুণ সুর উল্লাসেতাকডুম তাকডুমবাঙালী’র প্রাণে প্রাণে।

  • আসাদ মান্নান

    যে দেশে মানুষ অন্ধ না, আর হলো না দেখা সোনালী যুগের ওই নদী —যে নদী পাখির মতো ডানা মেলে উড়ে যায়ফসলের মাঠে আর চুল খোলা বঁধুয়ার খাটে। না, আর হলো না ফেরা সুফি রবীন্দ্রনাথের গানে —যে গানে ধানের শীষে সুর তুলে দক্ষিণা হাওয়াঘরে ঘরে জনে জনে বিলি করে নবান্নের ঘ্রাণ। না, আর হলো না গান…

  • সৈকত হাবিব

    একগুচ্ছ কণাকবিতা ১.যদিও আমি ব্রহ্মাণ্ডেরসামান্য ধূলিও নাতবু আমার ভেতর আছেপরমের কণা ২.যতই তারকা হওএত বেশি দেখিও নানিজেকেযাতে সুন্দরেও ক্লান্তি আসে ৩.অনেক বেদনার মূল্যেএ জীবনতাই আনন্দে আছে তোমারসহজাত অধিকার ৪.জীবন একপাঠশালা ও পানশালাতুমি তাকে করোগভীরতর পাঠ ও পান ৫.জীবন মানেইবিচিত্র যন্ত্রণাতা তুমি যতইকরো নাকো মন্ত্রণা

  • সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল

    ১১ মাসে এক বছর হঠাৎ একদিন সব নদী উল্টোস্রোতে বয়ে গেলো ভাটির দিকেএ এক হাইপোথেটিক্যাল স্বপ্ন, জলধর্মের বিপরীতে। যদি আমরা কোনোদিনই দেখা না করতাম—সে অনুপস্থিতিও হতো এক হাইপোথেটিক্যাল জীবন । ধরা যাক, আকাশেরও ক্লান্তি আছে—তাহলে বৃষ্টিগুলোই হতো তার হাইপোথেটিক্যাল কান্না। সময় যদি থেমে থাকতো তোমার দৃষ্টিঘড়ির গভীরে—সে মুহূর্তই হতো এক অনির্দিষ্ট হাইপোথেটিক্যাল চিরকাল। কেউ যদি…

  • সর্ণালী মণ্ডল

    জগৎ দেখা কষ্টের সাথে ওঠা বসা কষ্টের সাথে দেখাকষ্টের সাথে যাপন করে কষ্ট কে নিয়ে খেলা।কষ্ট যখন ঘিরে ধরে অমর স্মৃতি কথা। কষ্ট যখন সবটা জানে সবটা চেনে সেই তখন আপন হয়তাকে নিয়েই রাত্রি দিয়ে ভোর হয়।নিত্য সহবাস  দিয়ে প্রশান্তি প্রকট হয়। ঘর সাজিয়ে আরতি করি যখন কেউ থাকেনা চারপাশেতেতখন কষ্ট এসে সঙ্গী হয়।  সব চেয়ে যদি পেয়ে…

  • শঙ্খ রঞ্জন পাত্র

    এক সকাল একটা অলস সকালের ঘুম ভাঙল ধীরে ধীরে রোদ উঠল , তাকে ডাকলতার মনে নেই কাল রাতের কথাযে রাতে তার ঘুম আসেনি মাথার উপর ছাদ ছিলনা ছিল যে শুধু ভীষন শীত ।ছিলনা তার শীতের পোশাক ছিলনা তার প্রেমের আগুন ছিল কিছু স্বপ্ন নিয়ে কাটাকুটিপরে দিনের হিসেব কি? কতটা পথ হাঁটতে হবে ?হয়ত আবার পথ হারাবে ।এমন একটা সকালের ঘুম ভাঙল যার…

  • নিরঞ্জন হীরা

    মাটির সানকি প্রভাকর প্রতিনিয়ত ছড়ায় তেজোদীপ্ত আভাভরে উঠে পূবের আকাশ কেটে যায় দিনপান্তা ইলিশ খেজুরের গুড় পিঠা পায়েসনানান বর্ণে মনপাখি দুল চুড়ি ফিতায় সেজে উঠেনতুন প্রকৃতির ভাবনায়। দুলতে থাকে নাগরদোলার এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত সেজে উঠে প্রতিনিয়তপ্রকৃতির মতো আর সমুদ্রে ঢেউ খেলে যায় নতুন করেএইতো আমরা নিত্য জেগে থাকিবাঙালিয়ানার বাতিঘরে…ঠালিবনের

  • সাদিয়া নাজিব

    মর্মমূলে কামড় মেয়েটি ছিল পাতার আড়ালে আরেকটি সবুজ পাতা।ঝিকমিক আলোয় করছিল চিকচিকতার সবুজ চোখ,চুল এবং সর্বাঙ্গ। সোঁদামাটির পেট ফুঁড়ে বেরিয়ে আসাদূর্বাঘাস ছিল সে।আমরা যত্নকরে তার সবুজ কেশ দিয়ে ছাইলামগৃহের ছাউনিসবুজ চোখ দুটো ঢেকেদূরের জানালার পর্দা দিলামএবংনিত্যই আঙিনায় গরু চরালামলোভনীয় দূর্বা খাওয়াতে। আজ আমরা মহাখুশি অন্ধকার ঘরেআজ আমরা স্বাস্থ্যবান খাঁটি দুগ্ধ পান করে।সবুজ অকেজো পাতা পুড়িয়েদাঁতের…

  • নজমুল হেলাল

    বৈশাখী পদাবলী বৈশাখসহসা নোতুনের জয়গানে জাগায় জীবনআনন্দের মেলায় নিয়ে আসে উচ্ছ্বাসবৈচিত্র্যময় জীবনকে ক’রে তোলে দৃঢ় প্রত্যয়ীপ্রেমের মাধুরী মিশিয়ে বৈশাখলাগামহীন পাগলা হাওয়ায় দুলে ওঠে মনটিকে থাকতে শেখায়সাথে নিয়ে সুবাসিত ফুল আর সজীব পাতাহরষিত বরষায় যেন অমৃতের স্মৃতি চিহ্ন হয়ে বৈশাখসৃষ্টিশীল এ’ আমাদের যোদ্ধা জীবনসংগ্রামে সাফল্যের পথ বাতলে দেয়সাবলীল সাইরেন বাজিয়েস্বপ্নের ভেতরেও ছড়ায় উদ্দীপ্ততার সুঘ্রাণ বৈশাখঘুণপোকার রাজত্ব…

  • সুবিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বক্রতা কবির সঙ্গে মেট্রোস্টেশন এর বাইরে দেখাঘাড় নীচু করে বেরিয়ে আসছেন যেন এক সাধারণ লোক।(তাঁকে নিয়ে আমাদের কত গল্প, আলোচনা নিজস্ব বৃত্তে )সচকিত করে নমস্কার জানাতেই  সম্বিত ফিরে পেলেন।তাকালেন স্পষ্ট চোখে মুখের দিকে, মুখে যোগ হল যেন কয়েকটি বাড়তি রেখা।(শূন্যতা, রহস্য ও কৌতুকঘন মাত্র কয়েকটি রেখা।) তবে কী কবি আর অকবির চেহারার পার্থক্য কিছু বক্র রেখা!কবিতা কি আসলে সেই সব…

  • কাবেরী মুখার্জী

    সাকুরা সাকুরা তুমি ওড়ো না কেন,বেশ তো মেলেছো ডানা…বসন্তের রঙে রাঙানো আকাশ বাতাসগোলাপী শরীরে সফেস চাঁদর…।তুমি দাঁড়িয়ে আছো এক অদৃশ্য প্রান্তসীমায়,যেখানে রূপ মানে ক্ষণস্থায়ী দীপ্তি,তবুও তোমার এত অহংকার…। কেনো ছিন্ন করো না শিকড়…শিকড় কি তবে মাটির চেয়ে গভীরকোনো বিস্ময়ে বাঁধা…কিসের মায়ায় আটকে আছো?নাকি সময়ের ভিতর তোমার একমাত্র আশ্রয়।আমি বুঝতে পারি হারিয়ে যাবার ভয়েতোমার ভিতরের সেই…

  • শঙ্কর বসু

    গেটওয়ে অফ হেভেন শঙ্কর বসু তোমার এলিয়ে পড়া ঘনকেশরাশি, গৌরী,ধূর্যটির জটা হ’য়ে, মহামায়ামেঘ হ’য়ে,ঢেকে দিচ্ছে তপবন, পুনর্জন্মঘোর লাগাবিরাট এ রাতে..ত্রিনয়ন – শৃঙ্গার তিলক হ’য়ে দপদপে..থেকে থেকে, ঠোঁটের ছোঁয়ায়.. এই ঠোঁটে রজঃ-লালা-নিম-মধু-বাটালঙ্কা-কষা-অম্লঅমৃত ও হলাহল..এই ঠোঁটে অক্ষয় ত্রিগুন.. তোমার বিস্ময়চক্ষু বিস্ফারিত … উৎকর্ন সজাগ শ্রুতি ~মধুময় দংশনাভাসে –ওই চোখে কপোতাক্ষী ময়ূরাক্ষী মাথাভাঙ্গা জলোচ্ছ্বাসেতিস্তা চূর্ণী অঘোর সুনামি ওই…

  • নাহার আলম

    নক্ষত্রপুর অথবা অভিমানী ফাগুন অথচ, কোনো পিছুটান না রেখে কী অনায়াসেইচলে যায় শাওন কিংবা ফাগুন!নির্জন করিডোরে মুখ গুঁজে পড়ে থাকেভাঁজখোলা ভাবনার হা-দিগন্ত সুখ…উন্মুখ শাবক পরাগরেণু বসন্ত ছুঁয়ে গেলেমার্জিত বুক ডুবে থাকে এক অন্তহীন টানে…শামুক ধ্যানে!দূরে… জলভরা দিঘির তীরে পানাফুলরঙাভেষজ মায়ায় ভরে ওঠে চিবুক…আসবে না জেনেও, লাজনম্র অপেক্ষারাদাঁড়িয়ে অনন্তের অন্বেষণে…উটের গ্রীবার মতো জমাট নীরবতার থকথকে হাহাকার,বৈতালিক…

  • জাকিয়া রহমান

    শান্তি কি এক অভিলাষ কত বিবর্ণ মুখ এসে ফিরে গেছে ধীর পায়,একদার ভাবনা উজ্জ্বল মনের রাস্তায়     সে রাস্তার দুপাশে ছিল নীল পাহাড়ের স্নেহ-    নাচতো পুষ্পের ঝাড় রংধনুর প্রেম ঝরা ভালোবাসা নিয়ে।     আজ কেন সে পথ রুদ্ধ? রূপবতী কত পুষ্পিত তরুসে পাহাড়ের গায় অবসন্নকিসের আঘাতে মৃতপ্রায়।তখন সে পথটা ছিল স্বপ্নের মতো,সে পথ ধরে চলেছি দূর কোন…

  • সাঈদা আজিজ চৌধুরী

    অশ্রুত দেবভাষা নিশুতি রাতে বুকের ভেতর বাঁশি কাঁদে নিরন্তরতোমার হৃদয় কি তেমনি কাঁদে রাতের প্রহর ?চেয়ে দেখো,যুগল নক্ষত্র আবেগঘন জ্বলজ্বলআঙুল চালাও চুলে,হৃৎপিণ্ড ছুঁয়ে গুচ্ছ ফুল।সবগুলি বাতি বন্ধ করে অন্ধকার রাতজোছনা ছেনে মুঠো মুঠো রুপোলি স্রোতরাতের ঔরসে প্রেম দাবানল আলো ঝলমলশেষ দেখা ষোড়সী কুমারী উচ্ছল ছলছল।দেখা হলে জমাকৃত ভালোবাসা শতগুণমুহূর্তগুলো বেগুনী অজি বৃক্ষ হেরিটেজএবার হিসেবের খাতা…