আবু মকসুদ
জীবনের শুরুতে যেখানে
পিতৃপুরুষের হাড় জমে আছে স্মৃতিস্তূপে,
আমি লাঠি দিয়ে খুঁচিয়ে নামিয়ে আনি
ধুলোয় মিশে যাওয়া তাদের অভিশাপ
“সেতু বাঁধো না, পোড়াও সাঁকো!”
কারণ এই সেতুর নিচে
কুকুরের মতো পঁচে গেছে
মানুষের মুখোশধারী ভালোবাসা।
আমার বাবা-মা আজ
শুধু দুইটি জীর্ণ কবর,
যারা শেখাতে চেয়েছিল
“মানুষ মঙ্গলচিন্তা করে”।
কিন্তু আমি দেখেছি মায়ের বোনকে
বাবা-মায়ের সম্পত্তি নিয়ে
জিহ্বায় বিষ মেখে হাসতে,
আর বাবার ভাইকে
মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে আদালতে।
তাই এখন আমি বিশ্বাস করি:
“রক্তের সম্পর্কে জড়িয়ে থাকে
শুধু স্বার্থের দড়ি”।
কিশোর বয়সে আমি
গল্প লিখতাম প্রেমের,
হাত বাড়াতাম অচেনাকে জড়াতে;
কিন্তু একদিন দেখলাম
যে প্রেমিক মুখে বলেছিল “চিরকাল”,
সে চুরি করে নিয়েছে আমার ডায়েরি
বানিয়েছে বিদ্রূপের মেমে।
তাই এখন লিখি:
“প্রেম মানে ছুরি,
আর বিশ্বাস মানে কাপুরুষতা”।
সন্তানকে শিখাই
“ভুবনগ্রামের পথে যেতে হলে
পকেটে রাখো অ্যাসিড,
কারণ প্রতিটি মুখ
তোমাকে পিষে নেবে সুযোগে”।
নাতিকে বলি গল্প জুড়ে:
“দাদার হাতে ছিল সোনার মেডেল,
কিন্তু সহকর্মীরা খুঁড়ে খুঁড়ে
খেয়ে ফেলেছিল তার আলো”।
মাঝে মাঝে মনে হয়
আমার হৃদয় এখন পাথরের ফসল,
যেখানে আগে ছিল রক্তের নদী।
কিন্তু দোষ কার?
যেদিন দেখলাম
রিকশাওয়ালার ভিক্ষা দেওয়া টাকায়
মাদ্রাসার হুজুর কিনেছে আইফোন,
যেদিন জানলাম
বন্ধুর টুইটারে ছড়ানো গুজব
আমার চাকরিটা কেড়ে নিয়েছে,
সেদিন বুঝেছিলাম
“মানুষই মানুষকে মেরে ফেলার
সর্বোচ্চ প্রযুক্তি”।
তাই আজ আমি লিখি না
কবিতা বা গান;
লিখি শুধু ইস্পাতের গুঁড়ো দিয়ে
একটা কবরখানার নকশা:
“এখানে শায়িত আছে
সমস্ত মানবিকতার লাশ,
মৃত্যুর কারণ
নিজের প্রজাতির হাতে ছুরি”।






এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান