জাকিয়া রহমান

একাত্তুরের ২৬শে মার্চ, পৃথিবী নামের এক গ্রহে
রক্ত তুলির আখরে লেখা হলো বাংলাদেশের নাম,
মধ্যরাতের পর পড়ল আঁচড় মানচিত্রে।
রক্তিম সূর্য উঠবে বলে,
স্বাধীনতা’ নামের রক্ত কুসুম মেললো প্রথম পাপড়ি।

চারদিকে আগুন! জলপাই রঙের ট্যাঙ্ক করে চিৎকার
ধরার বুক কাঁপিয়ে দোর্দণ্ড রোষে,
দানবের দল- আকাশ বাতাস ঝাঁঝরা করে
প্রচন্ড জুলুমে থেঁতলে দিতে চেয়েছিল,
‘স্বাধীনতা’ নামের রক্ত কুসুমের প্রথম পাপড়ি
আর বাংলাদেশ নামের এক ছোট চারাগাছ।

দানবের বিদীর্ণ মানসে চলে ক্রীড়া
বিভাজিত করবে হৃদপিণ্ড বাঙালির-
নিশ্চিহ্ন করবে সে রক্ত কুসুম!
পাপড়িতে পাপড়িতে যার জয়গান রণিত-
তোলে আরাধ্য ঝংকার, জয় বাংলা আমার!
রণিত কণ্ঠস্বর আকাশে বাতাসে তরঙ্গিত
পদ্মা-যমুনায় উচ্ছলি হয়ে উঠে সম্মোহিত।

দিক্বিদিক বিদারী- রোষ সর্বত্র বিস্তারি,
উপড়ে ফেলতে চায় বাংলাদেশ নামের এক ছোট চারাগাছ।
ঝাঁপিয়ে পড়ে দানবের অস্ত্র- লক্ষ বারুদের ফুলকিতে-
দানবের জিঘাংসার পদতলে দলে,
নির্মম আঘাত রুধিতে,
স্বাধীনতার প্রেরণার তেজস্বী অঙ্গীকার-
মায়ের বক্ষের অস্থি প্রতিরক্ষার।

নিজস্ব ভূমিতে প্রস্ফুটিত করতেই হবে,
সে রক্ত কুসুম উৎসর্গ করে প্রাণ!
শপথ ছিল রক্ষার- দেশ মাতার সম্মান,
প্রাণের বুলি বাংলা আর আত্নশক্তি উৎসের আধার।

সেদিন করেছিল প্রতিজ্ঞা সন্তানেরা,
নির্ভীক অন্তরে বিজয়ের আকাঙ্ক্ষায়
পদতল ছুঁয়ে, মায়ের অস্তিত্ব চিহ্নিত করবেই মানচিত্রে।
ভূমিষ্ঠ হবেই স্বাধীনতা নামের রক্ত কুসুম,
নামকরণ হবে তার ‘বাংলাদেশ’
এ আমোঘ সত্য ছিল চিরদিনের!
আর বাংলাদেশ নামের সেই এক ছোট চারাগাছ,
একদিন গ্রথিত হবে মহা বৈভবে এক অবিনশ্বর মহীরুহ।


Discover more from Shikor

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান

Trending