ফারুক আহমেদ রনি

মিথিলা আবারও বিশ্বাসকে টেনে হেছড়ে
শরবিদ্ধ নাভিতে নিয়ে আসতে চেষ্টা করছে,
নাড়ি বলে কথা…
বিশুদ্ধ উচ্চারণে আজ সে অগ্নিমানবি
সঙ্গিন সময়ের প্রতিনিধিত্ব করছে তার বিবেক!
অশ্লিল নৃত্যরত পঙ্গপাল খেয়ে নিচ্ছে তার মহেন্দ্রস্বপ্ন
মিথিলা অবাক চেয়ে থাকে;
কেমন ফিকে হয়ে যাচ্ছে সময়
কুয়াশার ছায়ায় অজগরে বিষেয় ছোবল
মিথিলার কুসুম স্বত্বাকে কলঙ্কিত করছে
আরো বিষাক্ত আর্থ্রোপোডার নীল জিভ।

মুজিবনগরের আকাশে পুড়ছে পূর্ণিমার চাঁদ
এখনও কি সেখানে জেগে আছে কোনো অসমাপ্ত প্রতিজ্ঞা?
জল্লাদখানার মাটিতে হাত রাখলেই
কেঁপে ওঠে মিথিলার উনুনেবুক,
রায়েরবাজারের ইটগুলো নিঃশব্দ, বিক্ষুব্ধ ভারী?
মিথিলা খুঁজে ফিরে অরণ্যে পদছাপ…
ভেঙেপড়া স্মৃতির নিচে বত্রিশ নাম্বারের চাবি।

মিথিলা ছুটে যায় সোহরাওয়ার্দীর বাতাসে
লুকিয়ে থাকা অমোঘ আহ্বানে,
যেখানে একদিন উচ্চারণ হয়েছিল ভবিষ্যৎ,
যেখানে বিকেলের আলো থেমে গেছে হঠাৎ,
বিশ্ববিদ্যালয়ের করিডরে,
যেখানে পায়ের শব্দও যেন স্মৃতি হয়ে আছে
যে স্মৃতি জ্বালিয়ে দেয় অপারেশন চার্চ লাইট!
তীব্র যন্ত্রণায় রোধের ভেতরে জ্বলে নারকীয় দহন ।

কৃষ্ণচুড়ার পালকে জমে আছে কসাইখানার মৃতরক্ত
শূন্যাবর্ত দুপুরের বিস্তৃর্ণ মাঠ যেন চিতার আগুন।
দীর্ঘ নির্বাসনে গেছে বিবেকের সজীব করতল
চুয়ান্ন বছর পর মিথিলার যোনি ভেদ করেছে
অজস্র কেউটেশাবকের শিশ্ন!
তবুও ক্লান্ত উঠোনে হৃদপিণ্ডের উষ্ণ আয়জন
আজ আবার মিথিলা
রক্তজলে ধুয়ে নেবে তার বিবস্ত্রশরীর।

ইতিহাসের প্রস্রবণে নেমে এসেছে কালবোশেখি
স্মৃতিসৌধ ফ্যালফ্যাল তাকিয়ে থাকে…
কেন মনে হয় উচ্চতা নয়, নীরবতাই বেশি গভীর?
আর দূরে কোথাও মিথিলা শুনতে পায়
একটি কণ্ঠ…
জল আর বাতাসের ভেতর দিয়ে বয়ে আনে
সেই প্রথম উচ্চারণের কম্পন…
জয় বাংলা।।
এই দীর্ঘ ক্লান্তির পথ পেরিয়ে
মিথিলা যেন আবার ফিরে আসবে নিজের কাছেই।

কবিতাটি ২০২৫ সালের স্বাধীনতা দিবসে লেখা


Discover more from Shikor

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান

Trending