মাসুদ খান
বাবারা যদিও ছেড়ে যায়
মায়েরা পারে না।
বাবারা বহিরাগত, প্রাকৃতিকভাবে। অনুপ্রবেশক।
বাইর থেকে আসে তারা, ছেড়ে তাই বাইরেই চলে যায় কখনো কখনো।
কিন্তু মা তো মা-ই, জৈবপ্রাকৃতিক।
নাড়িসূত্রে পরস্পরে আকড়ে-থাকা জাতক-জননী।
একক বৃক্ষের মতো দাঁড়িয়ে থাকে মা।
বজ্রে-পোড়া মাথা, ঝড়ে-ভাঙা দক্ষিণের বাহু,
শীর্ণ পাতাবিরল প্রশাখা–
খরায় নিষ্ফলাপ্রায়।
এইদিকে ছোট্ট কাঠবিড়ালিটা ক্ষুধার দহনে
খামচিয়ে কষাক্ত করে তোলে বৃক্ষমায়ের শরীর।
ঠুকরে ঠুকরে খোড়ল বানিয়ে ফেলে কাঠঠোকরা।
হন্যে হয়ে খাদ্য খোঁজে তিনটি পাখি–
বুক পিঠ পাঁজর বাকল খুঁটে খুঁটে
হয়তো-বা পেয়ে যায় কিছু পোকাপতঙ্গ, দু-একটি কীটদষ্ট ফল।
তা-ই খেয়ে বেঁচে থাকে ওরা।
এভাবে, সন্তানদের বুকে-পিঠে কোলে-কাঁখে আগলে রেখে
কোনোমতে টিকে থাকে সর্বংসহা। থাকতেই হয়।
বাবা ছেড়ে চলে গেছে, মা-ও যদি না-ই থাকে
সন্তানেরা তবে আর যাবে-বা কোথায়
জহরিলা কার্বনে ভরা এ নির্দয় আবহাওয়ায়!





এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান