আতিকা হাসান
আমার গেরুয়া শরীরে প্রবাহমান
নানান জাতির রক্ত , বিবিধ ধর্মীয় বোধ
বৈচিত্র্যময় দেহে হাজার বছরের আর্য-অনার্য ,
মোগল-পাঠান, মঙ্গোলিয়া, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান,
মুসলমান ও বিভিন্ন জাতির বাস,
মিলেমিশে থাকে আমার চৌষট্টিটি মজবুত
হাড়ের বিন্যাসে।
আমাকে ছুঁয়ে থাকে ছয় ঋতুর শরীরের ঘ্রাণ
বুক ভরে শ্বাস নিয়ে বেঁচে থাকি অবলীলায়।
কত যুদ্ধ, কত দুর্যোগ, কত তীক্ষ্ণ নখরের
রক্তাক্ত থাবা …
তবুও হার না মানা লড়াইয়ে বেঁচে থাকি
মাথা উঁচু করে।
আমার সন্তানের নাম যেমন শেখ মুজিব,সেলিনা হোসেন, নির্মলেন্দু গুণ
তেমনি মারিয়া কস্তা, দিপু বড়ুয়া,উমরা চাকমা,মালিতা মারমা… আরো কত কী !
কুমোরপাড়ার পারুল রানী দাস,বিপ্লব দাস
ঘোষ বাড়ির শিল্পী ঘোষ, অরুণ ঘোষদের আজও খুঁজে ফিরি গুমরে ওঠা হাহাকারে,
ঝরে পড়া জোসনা বেদনায়,
কোন এক অবাক ভোরে যারা হারিয়ে গিয়েছে
আমার গৃহকোণ খালি করে!
আমার হৃদয়ের কোণায় কোণায়
আজান আর উলুধ্বনির মূর্ছনা
গির্জার ঘন্টাধ্বনির ঢং ঢং শব্দ।
আমি কখনো পুড়ি খরায়
কখনো ভাসি বন্যার জলে
কখনো কাঁদি রোগ-শোক-মহামারিতে।
কখনো কখনো বিস্মিত চোখে তাকিয়ে দেখি
অজানা শত্রুর হিংসাত্মক তাণ্ডবলীলা,
বুকের গভীরে বহে কষ্টের রক্তক্ষরণ
দৃঢ়হাতে করি প্রতিরোধ।
আমার শীতল করতল গা ছুঁয়ে মাপে
সকল জাতির ভালোবাসার উত্তাপ
জড়িয়ে রাখি নিবিড় মমতায়,
শিরায় শিরায় মাটি ও শেকড়ের টান অশেষ
নিগূঢ় প্রেমের বন্ধন আমি;
আমি বাংলাদেশ।






এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান