ওবায়েদ আকাশ
প্রত্যেকে যে যার মতো পক্ষ নিয়ে বলে:
এখন গর্জন ও নীরবতার চেয়ে
মধ্যরাত অবধি গুনগুন করে উড়িয়ে দাও প্রেম
কে কাকে বলল ঠিক বুঝে উঠবার আগেই দেখি
চৌকাঠে দাঁড়িয়ে কবি কাজী নজরুল ইসলাম
আমার মতো তিনিও সতর্ককানে বিস্ময়-রুদ্ধ হলেন!
কেউ যখন ভাঙার গান, অগ্নিবীণা কিছুই মানছে না
তখন কে আর মানে প্রেমের কবির কণ্ঠে সাম্যের গীত!
প্রমত্ত ভোর, আমি নবযৌবনে রণতরী ভাসিয়ে দিয়েছি
উত্তাল স্রোতে; পেছনে কালো মেঘ, দুর্দমনীয় ঝড়
আমি কবিকে চিৎকার করে বলি, “এবার ফেরাও দেখি”
মুহূর্ত আগেই কবি বলেছেন, “বল বীর, বল উন্নত মম শির”
আমার ছিন্নভিন্ন তরী, নিথর-ক্লান্ত দেহ কূলে এসে ভিড়তেই বুঝি
আমার কাঁধভর্তি অর্ধমৃত শিশুর কান্না, শতবর্ষী বৃদ্ধ ও নারী
যারা আমাকে অজস্র সলিল পুষ্পে ভরিয়ে দিয়ে বলছে:
“আজ যদি আপনি না থাকতেন!”…
আপাত শান্ত স্রোতের দিকে তাকিয়ে দেখি: ভেঙে পড়া
অগণ্য সবুজ বৃক্ষের ডালে ভেসে যাচ্ছেন মানবতার কবি নজরুল
কূলে কূলে জোয়ার উঠেছে গণমানুষের, ঐ তো আসছেন তিনি
আর কবি স্রোতের উজান বেয়ে গাইছেন:
“আমি বিশ^ ছাড়ায়ে উঠিয়াছি একা”…
এদিকে সর্বত্র তুমুল গর্জন ব্যতীত কিছুই রইল না
জানি এমন গর্জন কোনো ভাষাতেই অনূদিত হয়নি কোনোদিন!





এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান