শুভ জন্মদিন


আজ এক বিশেষ দিন, শব্দের নিবিড় সাধক, নান্দনিক অনুভবের নির্মাতা পিয়াল রায়ের জন্মদিন।

জন্মসূত্রে ‘ইস্পাত’ নগরীর মানুষ, যেখানে ধাতব শব্দ, কঠোরতা ও যান্ত্রিকতার ভিড়ে মানুষ প্রায়ই হারিয়ে ফেলে নিজের ভেতরের কোমল সুর। অথচ সেই বাস্তবতার অন্তরালেই পিয়াল রায় নির্মাণ করেছেন এক সম্পূর্ণ ভিন্ন ভুবন যেমন; নীরব, গভীর, নান্দনিক এক সাহিত্যলোক; যেখানে শব্দ শুধু উচ্চারণ নয়, অনুভূতির সুদূর প্রতিধ্বনি।

তাঁর ভেতর বয়ে চলে এক অন্তঃসলিলা স্রোত, সাহিত্যের, চিন্তার, আর আত্মমগ্ন অন্বেষণের। সাহিত্যের আঙিনাতেই তাঁর জীবন-বীক্ষা ও দীক্ষার বিস্তার; এখানেই তিনি শিখেছেন শব্দকে স্পর্শ করতে, নীরবতাকে শুনতে, আর অনুভূতিকে রূপ দিতে এক পরিশীলিত নান্দনিকতায়। তাঁর কাছে লেখা মানে কেবল সৃষ্টি নয়, এ এক আত্মসংলাপ, এক নিরবচ্ছিন্ন ধ্যান, যেখানে মানুষ নিজের ভেতরের অদৃশ্য স্তরগুলোকে আবিষ্কার করে।

নিজেকে তিনি উপস্থাপন করেছেন শব্দের নিবিড় মায়ায়। তাঁর কবিতায় ভাষা কখনো সরল বর্ণনা হয়ে ওঠে না; বরং তা গড়ে তোলে এক জটিল অথচ সুশৃঙ্খল রূপক-জগৎ, যেখানে প্রতিটি চিত্রকল্প, প্রতিটি বিরাম, প্রতিটি নৈঃশব্দ্য বহন করে গভীর তাৎপর্য। তিনি জানেন, সৌন্দর্য উচ্চকণ্ঠ নয়; তা থাকে সংযমে, থাকে অন্তর্লীন দীপ্তিতে। আর সেই সংযত দীপ্তিই তাঁর লেখাকে করে তোলে স্বতন্ত্র, গভীর, এবং দীর্ঘস্থায়ী।

বর্তমানে সাহিত্যপত্রিকা ‘শিকড়’-এর সহসম্পাদক হিসেবে তিনি এক নান্দনিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে কাজ করে চলেছেন। তাঁর সম্পাদনায় ‘শিকড়’ হয়ে উঠেছে কেবল একটি পত্রিকা নয়, বরং এক সৃজন-সংলাপের ক্ষেত্র, যেখানে শব্দের সঙ্গে শব্দের, প্রজন্মের সঙ্গে প্রজন্মের, অনুভূতির সঙ্গে অনুভূতির এক গভীর মেলবন্ধন ঘটে। তিনি নবীনদের মধ্যে খুঁজে পান সম্ভাবনার আভাস, আর সেই সম্ভাবনাকে লালন করেন মমতা ও প্রজ্ঞায়, নীরবে, নিবিড়ে।

এ পর্যন্ত তাঁর চারটি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিটি গ্রন্থ যেন তাঁর অন্তর্জাগতিক ঋতুচক্রের স্বতন্ত্র অনুবাদ। কোথাও নৈঃশব্দ্যের স্থির জলরেখা, কোথাও সময়ের অস্থির ঢেউ, কোথাও আবার প্রেম, বেদনা ও মানবিকতার অনুচ্চারিত স্পন্দন। তাঁর কবিতায় সময় সরলরেখায় প্রবাহিত হয় না; বরং তা ভাঙে, বাঁকে, ফিরে আসে, আর সেই ভাঙা-গড়া সময়ের মধ্যেই পাঠক খুঁজে পান নিজেরই প্রতিফলন।

তিনি বিশ্বাস করেন, সাহিত্য কেবল ব্যক্তিগত উচ্চারণ নয়, বরং এক গভীর মানবিক সংযোগ; যেখানে একজনের অনুভব অন্যের হৃদয়ে প্রতিধ্বনিত হয়। সেই বিশ্বাস থেকেই তাঁর লেখালেখি, তাঁর সম্পাদনা, তাঁর সমগ্র সাহিত্যযাত্রা, এক অনন্ত সংলাপের অংশ।

ব্যক্তিগতভাবে তাঁর প্রতি রইল গভীর শ্রদ্ধা ও আন্তরিক শুভকামনা, তাঁর কলম আরও দীপ্ত হোক, তাঁর ভাবনার পরিসর আরও প্রসারিত হোক, আর তাঁর সৃষ্টির ভুবন ছুঁয়ে যাক আরও অসংখ্য মননশীল পাঠকের হৃদয়।

শিকড় ও গ্লোবাল পরিবারের পক্ষ থেকেও জানাই অফুরন্ত শুভেচ্ছা, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা।
শুভ জন্মদিন, প্রিয় পিয়াল রায়। নান্দনিক শব্দের আলোকযাত্রায় শুভময় ও আলোকিত হোক পথের প্রতিটি বাঁক । জয়তু কবি।

ফারুক আহমেদ রনি
সম্পাদক, শিকড়


কবি পিয়াল রায়ের কিছূ কবিতা


চিকনকারী মেঘ

তোমাকে আন্দাজে স্পর্শ করি যুবক
আন্দাজে ছুঁয়ে ফেলি তোমার সেতার
তারপর ছাদময় ছোট্ট শহর
কুচি কুচি মাছরাঙা স্মৃতিমল্লার

হাসিতে দেখেছি কত বনজ্যোৎস্নায়
মিহিন চিকন তার উলুঝুলু শ্বাস
রাত্রি রাত্রি চরাচর দুলিয়েছে মাথা
কী এক মহাবোধ, ঐশী বিশ্বাস

জানি না কী ছিল সেই ঐশী বিশ্বাসে
ছুঁয়ে তো দিয়েছি তাঁকে, পূর্ণ বনমালি
কীভাবে পড়তে হবে জানি না তখনো
তর্জমা দেবে কি করে সালভাদর দালি?

শেষমেশ গৃহশান্তি,আশ্চর্য মাস
সোনালী কল্পলতা শীতের বাতাস
হাঁটতে হাঁটতে রাস্তা বেলা দশটায়
ডুবচোখে ভয় ভয় রাজস্ব আদায়

ভিজে জামা, ভিজে মন সপসপে মেঘ
জানলায় উড়োঝুড়ো ঝড়-তাণ্ডব
ভাসাল আগাগোড়া যুবক নিমেখ
এ যাবৎ নতমুখে যত ফলভোগ

আমিও প্রস্তুত। ছোট শীতের বেলায়
শিগগির দেখা হবে জগৎ মেলায়
স্টেশনের শেষ রোদ, টুকটুকে লাল
প্রেমের বিবসনা উচ্চ কপাল

যুবকের নামধাম আত্মপরিচয়
সবই জানা, দূরে দূরে থাকার সময়
‘দুঃখে দুঃখ মিশিয়ে কী দরকার আর?’–
এ কথা নিজেকে আমি বলেছি কতবার

তবু হার মেনে শেষে নিজ পরাজয়ে
সামিল করেছি তাকে যুগ্মের জয়ে
এ কি কম? উঁহু, বেশি পাওয়াই হবে
ধুলোকড়ি বিনিময়ে অমিয় বৈভবে

রাজায়-প্রজায় সর্বদুঃখে জড়াব
ভাবিনি কখনো, শুধু একবার ভাবো,
ব্রহ্মবাদ, দেববাদ, যোগবাদের পরে
নিজেদেরই রাখি কিনা সবার উপরে!

যেখানে নিরাকার শান্ত সাগর
মৎসসুখে জাল ফেলে প্রণয়ধীবর
যেখানে দু’টো পা নিকটে শ্মশান
নিবিড় পিঠোপিঠি ছন্দ ও প্রাণ



ভয় বলে কিছু নেই…

রাত যে এখন পাগল হয়ে আছে
মধুর স্বরে গাইছে পূরবীও
আগে তোমার দু’হাত ভরে নাও
পরে নাহয় ফেলে ছড়িয়ে দিও

পরে নাহয় ছড়িয়ে ফেলো তাকে
হু হু বাতাস ছুটন্ত ট্যাক্সির —
বিদ্যুতে যার আকাশ ছেয়ে আছে
তারও আবার বাঁচার শখ কী?

বাঁচতে গিয়ে দোতলা তিনতলা
ছুটোছুটি। জল ভাঙে কান্নায়।
এমন লোকের সঙ্গে কী আর বলো
সারাজীবন থাকতে পারা যায়?

সারাজীবন থাকার কথা ছিল?
বেশ করেছ। চলেই গেছ শ্যাম।
দ্রাক্ষাবনে কাঁপছে যে এক তারা
ওই তারাটার রাইকমলী নাম

কে আর দেখে যাচ্ছে একা মারা
কোথাকার এক রাইকমলী তারা



হে গৃহস্থ আমার

যদি হারিয়ে যাই সত্যিই কি খুঁজবে আমায়?
এই জনারণ্যে,এই অকারণ যুদ্ধ, মহামারির ছায়ায়

যেখানে বিস্মরিত দিন, যেখানে দুর্ভেদ্য বর্ষার ক্রোধ
যেখানে বেদী জুড়ে দাঁড়িয়ে থাকে ঘাতক অবোধ

সেখানে আমার নাম দুঃখবিষাদের মতো
যদি হারিয়েও যায় তাতেই বা কী? আমার জ্বলন্ত

মুখ মেঘভার সয়ে সয়ে আজ মৃত্যুপূত ঋতু
সে কি তোমার যোগ্য আদৌ? যোগ্য অহেতুক?

কেন তবে কাটাকুটি খেলো? স্বপ্নে বোনো রুমাল?
কেন তবে টানাটানি করে দীর্ঘাতিদীর্ঘ করো কাল?

প্রশ্ন কোরো না, আহ! চুপ করো দোহাই দোহাই
পুড়ে যেতে দাও সারাদিন, আজ শুধু পুড়ে যেতে চাই

শরীরে পুঁতে দাও নখ, পুঁতে দাও আরাধ্য ফুল
পরোক্ষে রূপোলী হও মাছ, প্রত্যক্ষে উপাচারী ভুল

হোক ভুল, হোক অভিশপ্ত আজ যত চম্পকনগর
তোমাকে প্রতিষ্ঠা করি প্রাণে হে আমার ক্লান্ত সদাগর

হে আমার অশান্ত কবি, হে আমার অব্যর্থ সাপ,
ফুঁসে উঠেছে মাটি, শান্ত করো তার তাপ



আ মিডনাইট টু ইউ…

তুমি জল দাও, তুমি মাটি দাও, তুমি গাছ দাও সেই নগরের
তুমি ডাক দাও, তুমি শ্বাস দাও, তুমি ঘুম দাও শেষ প্রহরের

তুমি অগ্নির শিখা জেগে আছ কত দূর থেকে কোন সুদূরে
মহানির্মান, মহানির্বাণ কত শূন্যচারীর নূপুরের —

তুমি শব্দ, তুমি ব্রহ্ম, তুমি দ্যুতিময় দাও অক্ষর
তুমি সাতরঙে ভরা নিয়তির কোন ভাসমান হিমশৈলর

(ওগো) কাছে এস তুমি, নাগচূরামণি, প্রেমে দাও কালঘূর্ণি
আমি ডুবে যেতে যেতে জানাব তোমাকে মধ্যরাতের কুর্ণিশ

তুমি একশো, আমি একশো, চলো, আঙুলে আঙুল জড়াব
সারি সারি লীলাজন্ম বাঁচাতে পৈতৃক দেহ পোড়াব

দেখ শূন্যের ভ্রূণে ক্রমশ গলছে তুষারপ্রাচীন কুয়াশা
তুমি আসমুদ্রপাখি নীল হয়ে কর কল্পান্তের সূচনা

এস এইখানে, বসো এইখানে, তুমি গোলা ভরে দাও প্রেমে আজ
এস দুর্দিনে, স্মৃতিমন্থনে ওগো, পুরানগরের সম্রাট


ভয়

ছায়ায় যেতে ভয় করে খুব
যদি অন্ধকার গ্রাস করে আমার ললাট
বাঁচব কীভাবে? 

অনেকদূরের একটা শহর
ভালোবাসা মাখিয়ে জল পাঠায়, বাতাস পাঠায়
আমাকে রেখে দেয় ছোট্ট একটা বীজে

আমি কি বীজের ভিতর শুধুই ঘুমোবো?
আমি কি শুধুই ঘুমোবো অনন্তে?

আজ খুব ভোরে ডেকে উঠেছিল এক কোকিল
শুনে মনে হল বুঝি সেইই
বুকের ভিতর কুহু কুহু তান
ঠোঁটে ধীরে ধীরে বড় হয়ে উঠছে অবিকল বীজ

ছায়ায় যেতে ভয় করে আমার
যদি পুরনো বুকের ব্যথাটা ফিরে আসে আবার
যদি আবার হারিয়ে ফেলি ওষুধের বাক্স
আর কোনোদিন নামিয়ে রাখতে পারব
আমাকে আমার ঘাড় থেকে? 

রোদে রোদে অনর্গল ঘামতে থাকি
দশচক্রের ছায়া বড় হতে থাকে আমার ভিতর


যাত্রা

তবুও জীবন নিস্তরঙ্গ আকাশের ধ্বনি তুলে
স্রোতে ভেসে ভেসে আসে

তখন আমি তোমাকে চাই খুব করে
পুরনো বাড়িগুলোর ছাদে যখন লোকে
জামাকাপড় কেচে শুকোতে দেয় ঘন বর্ষার দিনে
সামান্য একফালি রোদ যেমন ভাবে তাদের
মুখে তখন ফুটিয়ে তোলে হাসি,
আমি তেমন ভাবে তোমাকে চাই

তুমি তো জানো গতবছর এই দিনে বিকেল এসেছিল
অনেকগুলো অ্যালোভেরা গাছ হাতে
প্রতিটা গাছেই তোমার নাম লেখা
ও কি জেনে ফেলেছিল তুমি আসবে?
ও কি আমার শরীরে আগাম ঘ্রাণ পেয়েছিল তোমার? 

এখন আমি তোমাকে চাই খুব করে
মিস্তিরিরা যেমন একটা একটা করে ইঁট গেঁথে
নির্মান করে আয়ুর কোলাহল
মায়েরা যেমন ভাবে দরজা জানলা হাট করে খুলে
ভাদ্রের সকালে শুকোতে দেয় আষাঢ় শ্রাবণ
আমি তেমন করে তোমাকে চাই

তোমাকে চাইতে চাইতে ঘুমিয়ে পড়ি
সকালে উঠে বেরিয়ে পড়ি অকূল যাত্রায়


নেশা

আড়াল করে দাঁড়াও
ছুঁয়ে থাকো সর্ব স্তব্ধতা দিয়ে

মোহ ফেলে এস
মহাশূন্যে ফেলে এস তোমার জামাকাপড়
নগ্ন হয়ে এস
নগ্নতায় জেগে উঠুক তন্ময় জ্যোৎস্না

আমাকে জাগ্রত করো…মৌন করো
আড়ালের পর্দা দিয়ে ঘেরা পূর্ববর্তী সমস্ত জন্ম
ঘিরে ফেলো মেঘের ঘেরাটোপে

আমাকে তাবীজ করে মহাকালের
বাহুবন্ধন করো,  রাহু বন্ধন করো

স্বেচ্ছা হোক আমার মৃত্যতুল্য চোখের কাজল


ক্ষত

তারপর ধীরেধীরে বদলে যায় মুখ
নির্বাসন থেকে ফিরে আবার ফেরা নির্বাসনে
প্রিয় দেবতার নাম আর প্রিয় কোনো মন্দির

কোনো এক আহ্বানে শিষ দেয় পাখিদের ঠোঁট
যেন চিনে নিতে চায় নারীদের মায়াবী আখর
তাদের আর চেনাশোনা রক্তগোলাপ

আজ এসে কিনে নিয়ে যাও আমাদের ক্ষত
আমাদের কাঁটা নিয়ে বিঁধে থাকা তুষের আগুন
আজ এসে কিনে নিয়ে যাও
সেই বন্ধ্যাজমি, সেই বয়সের ভারে ন্যুব্জ গৃহকোণ
পিপাসার পানীয় হয়ে ওঠা যার হবে না কোনোদিন

কোনো আশ্রয় রেখো না, শুশ্রূষা রেখো না কোনো
ভরাট কোনো মমতার মতো হাত রেখো না নিরুচ্চার
শুধু বলো, প্রেম বলে পৃথিবী কিছু পায়নি কোনোদিন


চলো বান্ধবী

শুধু জল ছুঁয়ে ছুঁয়ে যাই চলো,
জলে নামতে হবে না এখনি
কুয়াশাচ্ছন্ন হোক সমুদ্র
এ সমুদ্র অতলান্তিক

লবণাক্ত মাছের শরীর থেকে
লবণমাত্রা খুলে গেলে পরপর
ঘেরাটোপে থাকা সমুদ্র
মাছের কাছে কতটুকু ক্ষতিকর?

চলো, পা ফেলি বান্ধবী,
কাঠের সিঁড়ি বেয়ে উঠি
জাহাজের ডেকে। ওভারকোটে
নীল ঠোঁট আর প্রাণঘাতী দস্তানাদুটি

মাস্তুলে বসে সবজেটে গাঙচিল
চোখ তার সমুদ্র বরাবর
রাত গভীর, মগ্ন পানশালা
আঁশগন্ধী জলকণা নির্জন

দেখতে দেখতে বিশাল এক মাছ হয়ে যাব
জিভে আর ফ্লিপারে লবণের ঘ্রাণ বারোমাস
চলো বান্ধবী এইবার
মাঝ সমুদ্রে কুয়াশা পোড়ানো যাক


কলঙ্কিনী

দূরে দূরে থাকো শ্যাম, দূরে দূরে থাকো
কী খেলায় মেতেছ যে ভুবনমোহন
কাছে এসে বারবার দূরপনেয়
রাধা কলঙ্কিনী আজ তোমার কারণ

রাতভর চৌকাঠে আলপনা এঁকে
এখুনি ঘুমোল রাইকিশোরী আমার
যেখানে কেটেছে রাত প্রিয়াসম্ভাষে
বাঁশি নিয়ে ফিরে যাও সেখানে তোমার

রাধা বিনোদিনী সে যে কূলের অকূল
লোকনিন্দে ঝমঝম ত্রিভূবনে চূর
শোনে দেব, শোনে নর, শোনে রাক্ষসে
চলতে ফিরতে যেন চরণে নূপুর

ভালোবেসে রাধানাম নিয়েছ কখনো?
প্রেমে কি জিতেছ তুমি বলো একবারো?
পরেছ কলঙ্ক হার জয়মাল্য করে? 
সাধ্য কী শ্যাম তুমি রাধা হতে পারো

দূরে দূরে থাকো শ্যাম, দূরে দূরে থাকো
সুখে থাকো রাজপাটে, হে, দ্বারকাধীপ
নিভৃত গৃহকোণে আরামে আয়েশে…

রাধা খুঁজে নেবে তার দ্বিতীয় প্রেমিক


Discover more from Shikor

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান

Trending