ফারুক আহমেদ রনি
আমার সুখগুলো কেড়ে নিয়েছে নশ্বরতা,
কবে থেকে মুখ থুবড়ে পড়ে আছি বিশ্বাসের উঠোনে
তবুও বাতাসে ভেসে আসে এক অদৃশ্য আহ্বান,
লাল-সবুজের ভাঁজে লুকানো অনন্তপ্রণয়।
স্বপ্ন ছিল ভেতরের মানুষটা একদিন মুক্ত হবে,
পরাধীন অন্ধকার থেকে ছুটে যাবো আলোর গন্ত্যবে,
কিন্তু সময়ের গোপনস্রোতে হারিয়ে যাচ্ছে অস্তিত্ব
তবুও আমি অপেক্ষায় থাকি, বিমূর্ত প্রতীক্ষায়।
আমার বাবা, স্বাধীনতার স্বাদ নিতে পারেননি
মাটির ভেতর মিশে গেছেন নীরব ইতিহাস হয়ে,
আমার মা, সাদৃশ্য, তেমনই হারিয়েছেন অন্ধকারে,
নশ্বরতা তাদের স্বাধীনতার স্বাদ নিতে দেয়নি।
পাড়ভাঙা পদ্মার উচ্ছ্বাস বুকে নিয়ে, আমিও
এখনো অপেক্ষায় আছি, যেন এক নপুংসক!
ভেতরে ভাঙনের শব্দ, বাইরে উত্তাল গর্জন,
যেন প্রতিটি ঢেউ বারবার ভাঙছে আমাকে ।
স্বাধীনতা, তুমি কি শুধু পতাকার রক্তাক্ত রঙ?
নাকি হারিয়ে যাবার ভয়ে মানচিত্রের নশ্বর শরীর!
তোমাকে খুঁজে ফিরছি স্মৃতির ধ্বংসস্তূপে
খুঁজে ফিরছি আমাকে, আমার স্বাধীনতাকে।
যেদিন আমি নিজেকে ছাড়িয়ে উঠতে পারবো,
যেদিন নশ্বরতার গ্রাসে থেকেও বলবো ‘আমি আছি’
সেদিনই বুঝবো, স্বাধীনতা কোনো দিবস নয়,
সে আমার ভাঙনের মাঝেও প্ৰতিজ্ঞার উৎকৃষ্ট শপথ।






এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান