শেষ চিঠি
আকাশ তখন আলোয় ভরা,
আলতো ভাবে, রাতের মুখে
হাত বোলাচ্ছে;
বিয়ারের ক্যানটা উল্টে দিয়ে,
সে লিখে যাচ্ছিল-
দলা পাকানো সব কথাগুলো,
মুখে,তখনও নিষ্কলুষ সেই হাসি,
আর চোখ দুটোই,
আশ্চর্য এক সম্মোহন;
কত অব্যক্ত আবেগই যে
উঠে এলো,মনের একেবারে
তলদেশ থেকে,
নিঃশব্দে লেখা হলো
অতীত জীবনে ঘটা,
প্রতিটি ঘটনা;
তার শেষ চিঠি I
কি অদ্ভুত তাইনা?
ওদের চারধারে আদিগন্ত সবুজ প্রান্তর,
ব্যাপ্ত নদীচর, শিশিরের শব্দ,
ওদের মাথার ওপর নিঃসীম মহাকাশ,
জ্যোৎস্না-ধোওয়া রাত,
অথচ,চিত্তহারী প্রকৃতির,এসব ভাস্কর্য
দেখার অভ্যাস ও অবকাশ,
কোনোটাই ওদের নেই;
তাইতো রাত হলেই,চাঁদ স্বয়ং
নেমে আসে,ওদের ছোটো-ছোটো
কুঁড়ে-ঘর গুলোতে;
ওদের পরিশ্রান্ত কপালে টিপ দিয়ে,
সর্বাঙ্গে জ্যোৎস্না মাখিয়ে দেয়
নইলে, এমন মন-কাড়া মায়াবী রাতে,
কেমন করে,এতো শান্তিতে ঘুমোয় ওরা?
অভিমান
আজ মনখারাপের রাতে,
কলম আমার লাঞ্ছিত হয়,
ভাঙা মনের সাথে;
সাদা খাতায় হিজিবিজি,
ঢালি ক্ষোভের কালি,
শব্দরা গায় উল্টোপুরাণ
সে গুড়েও যে বালি I
অভিমানে,আসেনা ঘুম,
ভাসিয়ে চোখের ভেলা,
একরত্তি শরীর ঘিরে,
দেখি চাঁদের খেলা;
শশী এবার নিদ্রা যাবে,
সেরে সহবাস,
ঐ বুঝি এল রবি-
ফেলে অবকাশ;
দুঃখ আমার যাবে উবে
বাসি আফসোস যত,
হোক না প্রণয়,বন্দী খাঁচায়,
আবেগ শত-শত I
বাড়বে বেলা,রবির খেলা,
ভরবে চরাচর,
তোমায় ঘিরে কাটবে আমার,
আকুল দ্বিপ্রহর;
টুকিটাকি কাজের ফাঁকে,
স্মৃতির বাঁধন খুলে,
মান-অভিমান,দুঃখ সবই
যাবো কখন ভুলে।
তৃপ্তির একফালি আকাশ আর
বিশেষ একটি তারা
মনের মধ্যে যে ফাঁকা জায়গাটা,
তার বাতাস কিন্তু,খুবই স্থির,
তবুও,মাঝে মাঝে সেখানে,
উথাল-পাতাল ঝড় ওঠে,
কিন্তু কেন?
তার হদিস পেতেই তো
অলৌকিক,এই মধ্যরাতে,
পায়ের ওপর পা তুলে
বসে আছি,পরম তৃপ্তিতে;
আজ আমি,সারারাত আকাশ দেখবো–
নিঃসীম মহাকাশ,লক্ষ লক্ষ তারা,
আর তাদের ক্ষীণ আলোয় মগ্ন,
পাহাড়ি চর,উফ অবর্ণনীয়;
এই তারাদের মধ্যে,
একটি বিশেষ তারা যে আজ,
শুধুই আমার,একান্ত আপন,
হয়তো বা তারই টানে,
আজও ঝড়, এই স্থবির বুকে I
ভাঙা ক্যানভাস
ছায়াযুদ্ধের পর,
আবার যখন শুরু করো,
সংগ্রাম-অভ্যন্তরীণ
আমি,নীরবতা ভাঙি;
নিশ্চুপ-রাতে,অনুভূতিকে
আগাপাশতলা জড়িয়ে,
দিব্যি হেঁটে যাই-
শিশুঘরের পুতুল-খেলায়,
কানামাছি হই,চাঁদ হই ,
আকাশ ,বাতাস আরও
কত্তো কিছু;
কিন্তু,খরস্রোতা নদী হয়ে,
যখন,সাগর খুঁজি,
তোমার মুখ,আমার
ঘাড়ের ওপর,
সর্বত্র হিম ছড়িয়ে যায় I
ফাঁকি
দুর্নামের ভাস্কর্যে জারিত,
তোমাদের পচাদেহে,শোকের পৃথিবী
হে নতুন প্রজন্ম,তোমরা ভীত,
তোমরা সন্ত্রস্ত;
তোমাদের কোষে-কোষে ব্যভিচার,
উদগ্র লালসাকে,সাপটিয়ে ধরেই
তোমাদের উত্তরণ-
তোমরা দ্বন্দ্বলিপ্ত,তোমরা বিকৃত,
তোমাদের প্রমত্ত আবেষ্টনে,
মন-হরণের খেলা,
শুধুই ভ্রান্তি,নিষ্ফল বেলা I
বিভাজনের শেষে
তোমার অনাসক্ত ঠোঁটে,
বসন্তের রোদ,আমার বিরহ;
কে আছো চালক, নবপ্রজন্মের?
আমাকে নিয়ে চলো ,
সেই, বনগাছের ভিড়ে-
যেথা,স্বপ্নের-ফুল,সফল-সকাল
রাতের-শেষে,
যেথা,দ্বন্দ্ব-বিহীন,রঙের মেলা
উঠছে-হেসে I
পবিত্রতার উৎকর্ষে
নির্লিপ্ততার অভিযাত্রায় যখন,
সাধনার উত্তরণ হয়,
তখন কোথায় জল আর
কোথায় স্থল ?
ভিক্ষার ঝুলি,রাজার থলির মধ্যেও,
কোনো ব্যবধান থাকেনা;
সব কিছুই কেমন,
মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়;
তবে,এ বড়োই দুরূহতম সাধনা I
ভাগ্য হাতে যখন,’তুমি’এসে দাঁড়াও–
দুর্বিপাকেও অজস্র দীপালোক,
তোমার পদতলে রাখলাম,
আমার তুচ্ছ দেহ-মন,
একনিষ্ঠ ভালোবাসায় হোক,
আমার নিরাপত্তা II
আমিই পথ
হৃদয়ের অদূরেই নির্জন সৌধ,
কে যেন,টোকা দিয়ে চলে গেল,
বিষকন্যার বেণীর মতো,
ক্ষুধা আর ক্ষোভ নিয়ে,জেগে আছে
দুর্বিষহ রাত।
নিঃসীম মহাকাশ, সূর্যকে
প্রদক্ষিণ করছে পৃথিবী।
ভাবনা-ভরা মন নিয়ে,
খানিক লেখালেখি হলো আধখানা রাতে,
খানিক থাকলো হাইফেনে-
পরের দিকগুলোও দিব্যি,
এগিয়ে যাবে জানি,কৌশলের দ্বৈত পথে।
মনস্তাত্ত্বিক
অস্তিত্বের শেষ ধাপে,
যখন, সব দ্বন্দ্ব, সব দ্বৈততা, গিয়ে
এক বিন্দুতে মিশবে,
জানি, “তুমি” আসবে,
হিম-জমা,সকল দুয়ার
ভেদ করে,হৃদয়ের
খুব কাছাকাছি।
ছড়িয়ে থাকা জগত থেকে
মনটাকে একমুখী করা,
সহজ কম্ম নয়;
জীবননাট্যের দৃশ্যগুলি
প্রতিনিয়ত,মননশক্তির
অগ্রগতিকে, শিথিল করতে থাকে।
আগুন থেকে নির্গত
যে ধোঁয়ায়,পরিবেশ দুষিত হচ্ছে,
তাকেই আগে,গ্রহণ করতে হয়,
নতুবা,বিশুদ্ধতাকে আয়ত্তে
আনা যায় না।।
সাধনার এ এক
নতুনতর পথ।
হৃদয় সায়রে
কলমের এক কোণে,
আমার নিঃসঙ্গতা, উদাসীন;
ঠিক, সন্ধ্যাবেলার মতো
নিদ্রাহীন প্রতিরাত,
তোমার জন্য তুলে রাখি,
খেঁড়োর খাতায়;
এ-কি-, তুমি কখন
এসেছিলে-?
খাতার পাতায়, ভিজে অক্ষরে
তোমার ঠোঁট,
না হয় থেকে যেতে,
আরও অল্পক্ষণ আমার সাথে,
সূক্ষ্ম দেহে;
খোঁজার দায় কি,
কেবলই আমার?
জানি, তুমি কোনোকালেই
ব্যাকরণ মানবে না ।
যত দূর যায় বহুচর্চায়
দুনিয়া জুড়ে কয়েদখানা,
নিঃশেষ করে নিত্য,
দাসত্বকে পারেনা করতে
পরাভূত, কোন চিত্ত।
জলহীন মেঘের কাছে
যে মেগেছে বৃষ্টি,
তার অকথিত ঠোঁটেও আছে
কত কথা, কত সৃষ্টি।
অতীত কথায়, আশার গল্প,
আঁজলা ভরা বিষাদজল;
এতো যন্ত্রণা এতো উদ্বেগ,
তবু আছে জয়, কোলাহল।
সংক্রমণ হোক জ্ঞানের
রূপের তাপদাহে হৃদয় বিদীর্ণ হলে,
ফেরো স্বরূপে,
যদি বৃষ্টি আসে,
ভোগ লালসার সব দরজা ঠেলে,
তখন,অবিচল লক্ষ্যে ;
সব ভালোলাগাই তো আর,
ভিতরের,প্রকৃত-মানুষটিকে
নাড়াতে পারে না,
মন তো নিষ্কপট,
খোলা এক আকাশ,
সেখানে ফটিকজল পাখি,
নিরন্তর,ডেকে যাবে I






এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান