
পাখিদের জন্মদিন নেই
বাতাসেরা আজ শপথ নিয়ে বলল:
‘পোড়া ছাইভষ্ম আর ওড়াবো না
যেহেতেু মানুষের নাকে ঢুকে গেছে রক্তে…’
মাসুদ বলল: ‘আমার রক্ত ঝরিও না—সন্তান কাঁদছে’
শামীম বলল: ‘আমি ক্যাম্পসের কীট হয়ে থাকবো…’
তোফাজ্জল বলল: ‘আমাকে ভাত খেতে দাও, ক্ষুধার্ত আছি…’
তবুও তারা ঝরে গেল মগের মুল্লুকে
নির্মমতার রক্তের ভাষা ওরা বুঝে গিয়ে ঝরে গেল
কিসের এই রক্ত?
কেন ধূলিপথ ভরে যাচ্ছে হিংসারেআগুনে
কেন ফুটপাতের ঘামজলে নষ্ট হচ্ছে কাকের ঠোঁট
কেন বাতাসে ওড়ছে বয়সী অন্তর্বাসের শরীর-সুতো
কেন ঘাসগুলো হাঁস হচ্ছে—পিঁপড়ায় ছেয়ে যাচ্ছে ঘর
কেন কোথাও কিছু নেই
কেন কোথাও কেউ নেই
কেন নিস্তব্ধ এই শূন্য দেয়াল
আমরা কি এই ঘরবন্দী সময় চেয়েছিলাম?
আমরা কি রাতের উচ্চারণ লুট করতে বলেছিলাম
কারা এই লুটেরা; এতো খারাপ কেন তাদের কণ্ঠস্বর
অর্ন্তবাস যারা ওড়ায় তারা কারা
যারা পাখিদের ঠোঁট দিয়ে কুড়ানো
বিকেল ও অহংকারকে দোষারোপ করে—তারা
পাখিদের জন্মদিন নেই
মানুষেরা কেন তবে পালন করে মৃত্যুদিন
ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে কেন মৃত্যু নামে
মাসুদ, শামীম, তোফাজ্জল ওরা কারা
ওরা কেন স্বপ্নের ভেতর বেঁচে থাকার চেষ্টা করে
কারা অন্ধকারে ইঁদুর ও বিড়াল দিয়ে ঝগড়া বাঁধায়
কারা শহর থেকে উড়িয়ে দেয় সমস্ত কান্নাজল
আমরা কি তবে
অভিধানের পৃষ্ঠাগুলো পুড়িয়ে দেবো
ধানসিঁড়ির পাড়ে তবে কি ওড়বে না চিল
ছাপান্ন হাজার বর্গমাইল ইজারা দিয়ে
আমরা কি তবে উলঙ্গ হয়ে নির্বাসনে যাবো
মহাদেব সাহা এজন্যেই কি আগে ভাগেই
বলেছিলেন, ‘এই গৃহ এই সন্ন্যাস’।
আমার পূর্বপুরুষরাও কি সন্ন্যাসী ছিল?






এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান