বাঙালি
একটি বিপ্লব চক্রাকারে ফেনায়িত হয়েও
সাপের মতো ফনা তুলে রইলো;
একটি বিপ্লব বমি উদগীরণ করতে গিয়েও
ঢোক গিলে ফেললো;
একটি বিপ্লব ধূমায়িত হয়ে উঠে আবারও ধীরেধীরে নিভে যাচ্ছে;
এভাবেই বিপ্লব চুপ হয়ে যায় কিন্তু জিভে তার বিষ রয়ে যায়;
এভাবেই বিপ্লব নীরব থেকে শত শত বিপ্লবকে জাগ্রত করে যায়;
এভাবেই বিপ্লব দানা বাঁধে নীরবে।
অবিচারের বিরুদ্ধে, অত্যাচারের বিরুদ্ধে।
আমরা স্বাধীন দেশ, স্বাধীনতা প্রিয় মানুষ, ছয় ঋতুর মানুষ, ভালোবাসতে জানা আকুল প্রাণ মানুষ , সহনশীল সব কিছু ভুলে নতুন করে গড়ে তুলবার মানুষ।
কোন দ্বেষ চাই না, বিভেদ চাই না, অবিচার চাই না।
অন্যায়ের প্রতিবাদ চাই, ন্যায়ের পক্ষে বিচার চাই,
ভালোবাসার প্রতিদানে ভালোবাসা চাই।
আমাদের ভাষা কেড়ে নেয়া যায় না;
এ দেশের কোটি মানুষের মুখের ভাষা কেড়ে নিয়ে কেউ কোনদিন ভাল থাকে নি।
এ দেশের নাগরিক, হতেই পারি আমরা অশিক্ষিত, লোভী, স্বার্থান্বেষী তবুও আমরা পথের কুকুরকে খাবার দেই,
ভিক্ষুককে ভিক্ষা দিই, অন্ধজনে আলো দেয়ার চেষ্টা করি।
এদেশের মানুষ আমরা দ্রাবিড় জনগোষ্ঠীর; এখানে ধর্ম, বর্ণ, জাত মিলে একাকার।
আমাদের অভিন্ন করা যায় না।
আমরাই বাঙালি, যে আজীবন আবেগকে প্রশ্রয় করে বেঁচে ছিলো, বেঁচে আছে, আর ভবিষ্যতেও বেঁচে থাকবে।
বাঙালি হয়তো কোন ন্যায় নীতির তোয়াক্কা করে না,
হয়তো সভ্য নয়;
তবুও তো মানুষ!
আর ভালোবাসায় বনের পশুও তো হার মানে;
মানুষ হয়ে জন্মেছি পশু তো নই।
তাই বাঙালি বলতে আমাদের কোন দ্বিধা নেই।
বরং আমাদের গর্ব আমরা বাঙালি;
কিছু পারি না পারি আমরা ভালোবাসতে জানি,
নিজেদের আবেগকে পশ্রয় দিতে জানি।
অনাত্মীয় হাজারো মানুষকে
কেবল মানুষ বলে আপন করে নিতে জানি।
হ্যাঁ আমরাই বাঙালি।






এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান