
রাগ বাগেশ্রী
লক্ষ্মীকে পেটে নিয়ে লক্ষ্মীর পোয়াতী মা গুণগুণিয়ে গাইতো
“জানি নাই তো তুমি এলে আমার ঘরে…”
লম্ফর আলোয় রান্নাঘরে কাঠের চুলায় ফুটতো ভাত!
লক্ষ্মীর বাপ তখন দেশি মদ খেত বেশ্যাপল্লীতে, পার্বতীর ঘরে।
আপ লালগোলা ট্রেনে লক্ষ্মীকে কোলে নিয়ে লক্ষ্মীর মা গলা ছেড়ে গাইতো
“সব যে হয়ে গেল কালো, নিবে গেল দীপের আলো…”
হাতে ধরা ভিক্ষার বাটি! সস্তা চুষকাঠি কাঁধে ঘুমন্ত লক্ষ্মীর মুখে।
লক্ষ্মীর বাপ তখন পার্বতীর চুলের মুঠি ধরে বলছে…
“পয়সা ছাড় মাগী, মদ খাবো…”
ঝালমুড়ি রতন সেই সময় চুপ করে যেত।
সরে গিয়ে জায়গা করে দিত লক্ষ্মীর মাকে।
লক্ষ্মীর মা গাইছে, “ঝড় যে তোমার জয়ধ্বজা তাই কি জানি!”
ট্রেনের চাকা তখন ঝড় তুলেছে দুই সমান্তরাল লাইনে…
লক্ষ্মীর মা আর ঝালমুড়ি রতন!
ট্রেন থামলো কোনও এক গভীর স্টেশানে….
কামরা বদল করে চলে গেল লক্ষ্মীর মা।
“…দাঁড়িয়ে আছ তুমি এ কি,
ঘর-ভরা মোর শূন্যতারই বুকের ‘পরে ॥”
রতন, লঙ্কা কম দিস!
গুণগুণিয়ে উঠত রতন
“আকাশ-পানে হাত বাড়ালেম কাহার তরে..”!!
মুশায়রা
আমি সেই খনিমুখ স্তব্দ যন্ত্রণার,
আমাকে কে তুর্কী নাচাবে?
আমার কলম বেয়ে যদি
বেদনারা নামে, সে দায় কী আমার কাঁধে
মৃত জোয়ালের মত তুলে দেবে তুমি?
আমি যদি অনিচ্ছা ধানে, কৃষকের অভিমানে
ঋণ করি তোমাকে তোমারই নদীর ঢেউ,
তরঙ্গ কুয়াশা ভেজা জৈবিক মাটি…
যদি ঋণী থাকি আমার কালির দোয়াতে!
কোন কৃষিকাজ আমাকে শেখাবে তুমি!
মহাজন!!
আমার নিঃশব্দ নামে দূর চক্রবালে,
চাঁদের গুরুদশা বেয়ে নামে অবুঝ পূর্ণিমা,
আমাকে ভোলাবে তুমি কোন মন্ত্রবলে!
একবার পড়ে দেখ, কলমের নতমুখে
কোন উল্লাসী বেদনার শব্দ তর্কভূমি
আমাকে তুর্কী নাচায়, আজও!






এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান