কাঁটা

কাঁটা থেকে খুব যত্নে
ফুলগুলো বেছে বেছে ফেলি
এত টাটকা, এত তাজা দাঁত ফুলের
কিছুতেই যেন সন্ত্রাস ছড়াতে না পারে
আমার নীল হৃদয়ে, সতর্ক থাকি
আমার বিবেক কাঁটার যন্ত্রণায় বেঁচে থাকে
সৃজনশীল থাকে… ব্যবসা তুলে আনে ঘরে
ধূপ, দীপ, নৈবেদ্যে তার প্রজাপতি ওড়ে
সমস্ত পাপ দিনের আলোর মতো স্পষ্ট হয়ে ওঠে
জানু পেতে দিই
জবুথবু জ্যোৎস্নার ভিতর মহা কলরোল, মহা আড়ম্বর
সোনার জলে ভেজা কাঁটার মুকুট যেন নেমে আসে
অন্তরীক্ষ থেকে
সমস্ত ভয় আমার তখন নিমেষে অন্তর্হিত
এখন চাইলেই আরাম আসে
এখন চাইলেই শান্তি আসে
এখন বাজারের দুঃসহ ঘ্রাণ
আমাকে টলাতে পারে না আর আগের মতো
ঠেলেঠুলে উঠে পড়ি শেষ কামরায়
এখন কাঁটাকে বুঝতে পুরোপুরি
আমি আরো দশবার মানুষ জন্ম চাই


Discover more from Shikor

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

“পিয়াল রায়” তে 6 টি মতামত

  1. বাহ্

    খুব ভালো লাগলো

    1. আন্তরিক প্রীতি হে পাঠক

  2. কবিতাটি গভীর ও প্রতীকী। কাঁটা আর ফুলের মধ্য দিয়ে দ্বৈততা এসেছে—যন্ত্রণা ও সৌন্দর্য, বিবেক ও ব্যবসা, ভয় ও মুক্তি, শূন্যতা ও অসীমের টানাপোড়েন। শেষ পঙক্তিটা বিশেষভাবে ধাক্কা দেয়—জীবন ও অভিজ্ঞতার পুনর্জন্মের আকাঙ্ক্ষা, যেন কাঁটাকে পুরোপুরি বোঝার জন্য আরও দশবার জন্ম নিতে হয়। খুব ভালো লাগলো। 👍🙏

    1. আপনার পাঠের সামনে আমি নত, হে, প্রিয় পাঠক

  3. “ঠেলেঠুলে উঠে পড়ি শেষ কামরায়”

    আরও দশ মানবজন্মের আকুলতায়, জবুথবু জ্যোৎস্নার মহা কলরোল, মহা আড়ম্বরকে সাথে নিয়ে দিনের আলোর মতন স্পষ্ট হয়ে ওঠা সমস্ত পাপ যেন বেঁচে থাকা এক বিবেকী যন্ত্রণা।

    তবু আমি দশজন্ম চাই 🌹

    মারাত্মক অনুভূতি 👍

    1. আপনি যে শুধু একজন নিবিষ্ট পাঠক তাইই নয়, একজন ভালো কবিতা বোদ্ধাও। আমার আন্তরিক প্রীতি নেবেন।

এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান

Trending