একটি লাল উল্কি

গণেশ পাইন যে চাঁদটিকে
ছুঁয়ে ছিলেন তুলিতে
সে টি ছিলো আকাশের ও অধিক উচ্চতায়
রমণীর ভ্রুযুগলের মধ্যভাগে
প্রজ্জ্বলিত এক আশ্চর্য প্রদীপ।

পাললিক সভ্যতার নীলখামে
এক ধূসর চিঠি উড়ে এলো যখন
সাঁইজী অন্বেষণে নামলেন মনের মানুষের।
হাত রাখলেন একতারায়
চাইলেন অন্তরাকাশে।

যুগ পরাহত চাঁদ কখনো কোনঠাসা
কখনো নজরবন্দী।
আট কুঠুরি নয় দরোজা বিভ্রান্ত
আয়নামহলে
স্রষ্টা দর্শনে।

আমি লক্ষণ রেখা টেনে দিয়েছি
শিল্পের অবকাঠামোতে,
ভাষার লালিত্যে এবং আবহমান জনপদে।

তবুও অহর্নিশি ঘাসে মৃত্তিকায়
সঞ্চারিত হয় ধূপগন্ধ
গাঙ্গেয় বদ্বীপের ঢাকের আওয়াজ
পৃথিবীর অতল থেকে ধ্বনিত হতে হতে
আকাশের ও অধিক উচ্চতা স্পর্শ করে
ভ্রুযুগলের মধ্যভূমে অংকিত হয়
একটি লাল উল্কি।


Discover more from Shikor

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

“সাদিয়া নাজিব” এ একটি মন্তব্য

  1. এই কবিতাটি যেন ইতিহাস, শিল্প, দর্শন আর আত্মপরিচয়ের এক চিত্রময় সংমিশ্রণ। গণেশ পাইনের চাঁদ, সাঁইজীর অন্বেষণ, পাললিক সভ্যতার ধূসর চিঠি—সব মিলিয়ে এখানে যেন সময় ও কল্পনার এক অলৌকিক সমন্বয় ঘটেছে।

    “আমি লক্ষণ রেখা টেনে দিয়েছি
    শিল্পের অবকাঠামোতে,
    ভাষার লালিত্যে এবং আবহমান জনপদে।”

    এই লাইনটি যেন এক শিল্পী, কবি বা দার্শনিকের দায়বদ্ধতা প্রকাশ করছে—সময়, সংস্কৃতি ও সমাজের মধ্যে নিজের চিহ্ন রেখে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা।

    শেষে “ভ্রুযুগলের মধ্যভূমে অংকিত হয় একটি লাল উল্কি”—এ যেন এক দৃষ্টির গভীর প্রতীক, হয়তো চেতনার চিহ্ন, হয়তো প্রতিরোধের চিহ্ন, হয়তো শিল্পের শাশ্বত আলো।
    কবিকে শ্রদ্ধা ও শুভকামনা জানাই। 💐🙏

এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান

Trending