
এবার বলুন দেখি
বাংলা ভাষা তাদের কাছে বিমাতা বা সতিন—
ইংরেজীটাই সহজ আপন, বাংলা নাকি কঠিন!
বাংলা ভাষার রীতিনীতি বাধায় নাকি গোল!
তাই তারা চান পাল্টে দিতে বাংলা মায়ের বোল!
অথচ এই বাংলা অধিক বিজ্ঞানসম্মত।
ইংরেজীতে হাজার দ্বন্দ্ব বিরোধ কত শত!
প্রমাণ যদি চাও কথাটা সত্য না কি মেকি,
উদাহরণ কয়েক তবে চলো ঘেঁটে দেখি:
believe এবং receive, দুটি শব্দে যদি যাই,
‘আই’ (i) এর পরে ‘ই’ (e), নাকি ‘ই’ (e)-এর পরে ‘আই’ (i)—
এই দ্বন্দ্বে যখন-তখন দিব্যি খাবি খাই!
altar-এর শেষের ‘এ’ (a)-তে ‘ই’ (e) বসালে ভাই,
alter তো পাল্টে দেবে তোমার জীবনটাই!
right লিখতে rite লিখবো? write? না কি wright?
কিংবা ধরো site লিখতে cite? না কি sight?
শুধু কি আর বানান রে ভাই অর্থেও তো জ্বালা!
যা বলে তা না ব’লে তা জীবন ঝালাপালা।
hamburger-এ বলো তুমি ham কি আছে ভাই?
pineapple-এ apple আছে? pine টিও তো নাই!
teachers কিছু শিখিয়ে দিলে হয় যদি তা taught,
preachers ধর্ম প্রচার করলে হয় না কেন praught?
oversight অর্থ নাকি ‘নিবিড় দেখাশোনা’,—
আবার বলে ‘অবহেলা, কোনো গুরুত্ব না’!
moot শব্দের অর্থ নাকি ‘তর্কের অতীত’,
একই শব্দের অর্থ আবার ‘তর্কতে পতিত’!
‘box’-এর তো বহুবচন সবাই লেখে ‘boxes’,
‘ox’ কেন হয় oxen? নয় কেন তা ‘oxes’?
‘foot’-এর বেলা plural হলে লিখছো তুমি ‘feet’,
‘boot’-এর বেলা boots হয়ে যায় কেন আচম্বিত?
‘mouse’-এর আবার plural হলে সবাই লেখে ‘mice’,
‘house’-এর বেলা বহুবচন হয় না কেন ‘hice’?
‘brother’-এর plural হলে লিখতে হবে ‘brethren’,
‘mother’-এর plural কেন লিখতে মানা ‘methren’?
পুং লিঙ্গে লিখছো তুমি he, his, him;
স্ত্রী লিঙ্গে লিখছো কভু she, shis, shim?
শব্দ-শেষে ‘ইউ আর জি’, লেখা এডিনবার্গ (Edinburgh),
তবু তা নয় বার্গার (burger)-এর মতো কোনো ‘বার্গ’ (burg)!
এডিনবার্গ বলতে মানা, বলবে ‘এডিনবরা’!
কানে শুনে বানান দেখে চক্ষু ছানাবড়া!
বাংলায় তো ঘোষ-ধ্বনিতে স্পষ্ট বলি অর্ঘ্য।
ঘ না বলে ফ বললে লেগেই যাবে তর্ক।
এডিনবরা-য় ফ-ও নেই, যেমন বলি রাফ্ (rough),
লাফ্ (laugh)-এও যেমন, টাফ্ (tough)-এও তেমন, কিংবা epitough!
আবার দেখো, শব্দে যখন বলছো তুমি হাফ্ (half),
ধ্বনি থেকে ‘এল’ (l) বেরিয়ে কোথায় দিলো লাফ?
Bury (বেরি) দেখে বুরি বলো? নাকি বলো বিউরি?
বরং একে চেরি (cherry)-র মতো বেরি বলাই থিউরি?
কী! আপ (up) বলতে, কাপ (cup) বলতে u-কে বলি আ;
কী করে তা থিউরি হলো, মিল তো পেলাম না!
বাংলায় তো ‘এ’-ধ্বনিতে সব শব্দেই এ-কার।
উচ্চারণে ‘এ’ হলে তায় আ-কার লেখা বেকার।
ইংরেজীতে ব্যাকরণে অনেক রকম খুঁত!
বানান-অর্থ-উচ্চারণে কোথায় আছে জুত?
তবুও দেখো, বলায় লেখায় হোক না তা কিম্ভুত,
এসব দ্বন্দ্ব-বিরোধ নিয়ে তাদের কি খুঁত-খুঁত?
অন্যদিকে ছন্নছাড়া দাবি কী অদ্ভুত!—
বাংলা কত সহজ, তবু হয় না মনঃপূত!
বাঙালী জাতিতে দেখি সরষে-মাঝে ভূত!
বাংলা জটিল ভাবো কেন? কঠিন? দুরূহ তা?
‘গরজ’ই তো সহজ করে ভাষার দুরূহতা।

আগুন অভিঘাতে
বোধের আগুন
জ্বালায় ফাগুন,
বোধেই নিজের শোধ।
অতল আঁধি
হোক তামাদি,
থামুক প্রতিরোধ।
হৃদয় পুরের
ত্রিতাল সুরের
তালে যে তানপুরা,
তার সুরেতে
উঠুক মেতে
আবীর কৃষ্ণচূড়া।
যতটা আলো
ঢেকেছে কালো
মেঘের সম্পাতে,
দূর হয়ে যাক
এ অন্ধ রাগ
আগুন অভিঘাতে।
এই দুহাতে
স্নায়ু রেখাতে
রাঙাক এ অন্তর।
আমার আমি
না থাক থামি
ছুটুক তেপান্তর।
একুশ আমার,
নয়কো থামার,
অনন্ত ছুটে চলা;
অন্তঃপুরের
আপন সুরের
ভাষার গল্প বলা।






এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান