
নৈশব্দের চিৎকার
ঈশ্বর,
ভুলেও এসো না আর বুড়িগঙ্গার জলে,
শীতলক্ষ্যার ঢেউয়ে আজ কান্নার শব্দ,
লাল বৃত্ত আঁকে রক্তমাখা শঙ্খচিলের ডানা।
জলজ প্রাণীরা আজ নীরব নয়,
তাদের চোখে জমে থাকা নোনাজল
বিদ্রোহের আগুন হয়ে ওঠে প্রতিটি জোয়ারে।
ঈশ্বর,
মনে পড়ে সহাস্য তনুর কথা?
তোমার আশীর্বাদে সে পরেছিল রাতের তারা,
গায়ের গন্ধে ফুটেছিল শিউলি আর বেলিফুল।
তবু একদিন নরপিশাচদের কালো হাত
ছিঁড়ে নিয়েছিল তাঁর সমগ্রতা,
প্রাণপণে ডেকেছিল তোমাকে,
তুমি আসোনি!
চারপাশে দাঁড়িয়ে থাকা পাথরের মূর্তিগুলোও
তাকিয়ে ছিল নিশ্চুপ চোখে,
এগিয়ে আসা কাউকে গুঁড়িয়ে দিয়েছিল বুলেটের তপ্ত সীসা।
তনুর রক্তে রাঙা হয়েছিলো শহরের পথ
সূর্য সেদিন অস্ত যায়নি,
সূর্য ঢেকে দিয়েছিল দুর্বৃত্তের কুৎসিত ছায়া।
ঈশ্বর,
আজ এই শহর, এই নদী , এই দেশ আর একটি আর্তনাদও সহ্য করবে না।
জলজ প্রাণেরা আজ সিদ্ধান্ত নিয়েছে,
জলে ধর্ষকের প্রবেশ নিষিদ্ধ।
প্রবেশ নিষেধ সর্বত্র।
তোমাকেও, ঈশ্বর!
তুমি নীরব দর্শকের মতো থাকলে,
তবে তোমারও জায়গা নেই এই প্রবাহে।
আজ বুড়িগঙ্গার ঢেউয়ে শপথ—
আর একটিও আছিয়া হারাবে না সম্ভ্রম,
একটিও মৃদুলা সম্ভ্রম খোয়ানোর লজ্জায় সলিলে আত্মবিসর্জন দিবে না।
এ শহর, এ নদী , সমস্ত বাংলাদেশ আজ জেগে উঠেছে
যারা রক্ত ঝরায়, তাদের জন্য নেই ক্ষমা,
তাদের জন্য নেই জল, নেই আকাশ, নেই আশ্রয়।
ঈশ্বর,
এসো না আর এই জলে,
জলজ প্রাণেরা আজ অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছে তোমাকেও।
মোহাম্মদ ইকবাল






এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান