শিশিরগুচ্ছ
১
বহুদিন হলো সূর্য দেখেনি
শরীরে লাগেনি রোদ
গহীন আঁধারে বসবাস করে
লুপ্ত হচ্ছে বোধ।
কতোকাল হলো চন্দ্র দেখিনি
জোসনা মাখিনা বুকে
পৃথিবীর সব আঁধার যেন
জমা হয়ে আছে চোখে।
অদ্ভুত এই আঁধার জগতে
করে রোজ বসবাস
দিনদিন যেন হচ্ছি কেবলই
আঁধারের ক্রীতদাস।
২
হিমেল হাওয়ায়
মেপল পাতা ঝরে যায়
পড়ে যায়…
হাওয়ায় হাওয়ায়
দোল খেয়ে যায়
ওইলো পাতায়
ফুটায় না ফুল ম্যাগনোলিয়ায়…
হিমেল হাওয়ায়
হৃদয় পোড়ায়
আগুন লাগায়
নেত্র পাতায়…
৪
ভালোবাসা চাঁদের মতন
একদিন ক্ষয়ে ক্ষয়ে যায়
ভালোবাসা নদীর মতন
উথাল পাথাল ঢেউ মিশে বালুকায়।
সবুজ বৃক্ষপাতা,যে রকম হয়ে যায়
মলিন-ধুসর,সেরকম ভালোবাসা ম্লান হয়ে যায়
ক্রমে ক্রমে বুকের ভেতর।
সূর্য অস্ত গেলে যেমন আভা থাকে
আকাশের গায়
ভালোবাসা ক্ষয়ে গেলে
মানুষের বুকে তার সেরকম ছায়া থেকে যায়।
ভালোবাসে যারা –
তারা সারাটা জীবন
স্মৃতির জোছনা বুকে করে যে লালন।
৫
নদীরা সমুদ্রে যায়
নেই শুধু ঠিকানা আমার
আমি তো চৈত্রে ফাটা
কোন এক আকাল খামার
এখানে বৃষ্টি নেই
নেই ছায়া নেই চরাচর
এ যেন বিজন ভূমি
সাহারার ধূ – ধূ প্রান্তর।
৬
আমি শুধু তার পিছন দিকটা দেখেছিলাম
মুখ না দেখে
মুখের ছবিটা এঁকেছিলাম
আমি শুধু তার পায়ের শব্দ শুনেছিলাম
শব্দ শুনেই স্বপ্নের জাল বুনেছিলাম
আমি শুধু তার চুলের গন্ধ শুঁকেছিলাম
না দেখে তাকে অন্য রকম সুখে ছিলাম।






এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান