বাঁকঘেরা সন্ধিক্ষণে তবুও নতুন দিনের স্বপ্নের প্রত্যয়
১৪৩২ বঙ্গাব্দ…প্রস্তুতির কপালে দাও হাত
আর সারা রাত্রিভোর পথিক ভোলানো আলেয়ার
গুপ্ত আলপথগুলি জেগে ওঠে, সঙ্কেতপ্রদীপে“
দেবীপ্রসাদ বন্দ্যোপাধ্যায়
দেখতে দেখতে আরো একটা পুরনো বছরকে পিছনে ফেলে নতুনের দিকে পা বাড়াল সময়। আরো একবার নতুন আশায় বুক বাঁধল মানুষ। কিন্তু সত্যিই কি কোনো আশা, কোনো আকাঙ্খা পূরণের সারথী হয়ে আরো একটা নতুন বছর এল? বেশিরভাগই গোল্লায় যাওয়া একটা সময় এখন তারস্বরে চিৎকার করছে দেশের কোণে কোণে। আর কী আশ্চর্যভাবে কোণঠাসা মানুষ সে স্বরের সঙ্গে সংগতি রেখে অপূর্ব মেধায় খরচ করে চলেছে তার সমস্ত জীবনীশক্তি। যখন বেঁচে থাকার অংকে নিপুন আনন্দে মিশে গেছে শূণ্যের ধাঁধা। এ ধাঁধার সমাধানে ছিন্নভিন্ন, কুটিকুটি হয় কত নাম-না-জানা শরীর, কত রিক্ত বিষণ্নতা, কত অর্বাচিন শহর-বন্দর-গ্রামের ছোট ছোট শৈশব। সহস্র পার্ষদ উদ্বাহু ও লোভী দুর্ঘটনা পড়ে থাকে রাস্তায় রাস্তায়। উল্লেখযোগ্য কীর্তিস্তম্ভ ভেঙে গুঁড়িয়ে তারই পটভূমিকায় গড়ে ওঠে শোণিত সুরভি। টুঁটি টিপে ধরে অরির দল। স্বকপোলকল্পিত তাদের চেতনায় কেবল ধুলো ওড়ায় সর্বশক্তিমত্তা। কীভাবে দেখব, কোথায় দেখব একটা সার্থক সমাজব্যবস্থা? যেখানে উদারীকরণ কাব্যের মতোই জাদুকরী। যেখানে হ্রদের মুগ্ধ জলে ছায়া পড়ে ততোধিক মুগ্ধ মায়ার আগামীর বীজ। যেখানে নাম লেখায় ধৈর্য, নিষ্ঠা এবং আনন্দ। নিশ্চিন্তে গাঢ় শ্বাস নেয় সহায়সম্বল।
আশার কথা এই যে, মানবসভ্যতা চিরকালই সংঘাতময় পথেই তার বিস্তৃতি ঘটিয়েছে। উত্থান এবং পতনের যুগপৎ কনসার্ট দূর থেকে আরো দূরে ভবঘুরের মতোই নিজেকে ছাড়িয়ে গেছে, ছড়িয়ে গেছে। প্রকৃতি নির্বাচন করেছে আর মানুষ গড়ে তুলেছে। অতুলনীয় গাম্ভীর্যে রক্ষা করেছে অপূর্ব সব ছেলেমানুষী। গৌরবের দিনগুলোতে যেমন প্রেমে পূর্ণ করেছে হৃদয়, অশান্ত দিনগুলোতে তেমনভাবেই পরম শ্রদ্ধায় স্মরণ করেছে আত্মনিবেদনের অধিকারকে। দরজায় দাঁড়ান মা ছেলেকে বুকে চেপে ঘরে তুলে নিয়েছেন অথবা রাস্তা দেখিয়েছেন শেষের পথের। আসলে লেখার মতো তেমন কিছু ছিল না। এখন শুধু দেখার সময়। বাঁক নেওয়ার সন্ধিক্ষণে এখন আমরা সবকিছুই দেখব আন্দোলনে অংশ নেওয়া ভাইবোনদের চোখেই। তাঁদের মাইলের পর মাইল বিস্তৃত পায়ের ঘা আমাদের শক্তি দেবে উৎরে যেতে একাধিক মৃত্যু। এ লেখা কোনো সম্পাদকীয় নয়। বরং এ লেখাকে দেখা যেতে পারে চোখ কান খোলা রেখে চারপাশকে দেখার একটা স্বল্প প্রয়াস হিসেবে। জীবনের মূল সুরের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে দুর্দমনীয় কিছু আগুনের খোঁজ হিসেবে। কেউ না কেউ, কোথাও না কোথাও তো চলেফিরে বেড়াচ্ছে আজও। চলেফিরে বেড়াচ্ছে আশাকে আঁকড়ে ধরে ঠান্ডা মাথায়। অকারণ নঞর্থক তার হুবহু প্রতিচ্ছবি সে পণ করেছে বিসর্জন দেওয়ার। আমরা তাকেই খুঁজে বের করব। তার হাতেই তুলে দেব ১৪৩২ বঙ্গাব্দের নিরাপত্তার সত্য, ভবিষ্যতের সত্য।
শুভমস্তু
সকলের মঙ্গলকামনায় নববর্ষের শুভেচ্ছা
শিকড়, সহ সম্পাদক
ভারত






এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান