পিয়াল রায়

আধুনিক বাংলা সাহিত্যের এক বিশিষ্ট প্রতিভা
ভারতের দুর্গাপুর ইস্পাত নগরীতে জন্মগ্রহণকারী পিয়াল রায় আধুনিক বাংলা সাহিত্যে এক স্বতন্ত্র ও প্রতিভাবান কবি ও প্রবন্ধকার হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর তাঁর সাহিত্যিক কর্মজীবন কলেজ ম্যাগাজিনে লেখালেখির মাধ্যমে শুরু হয়।
বিগত বছরগুলোতে পিয়াল রায় বাংলা সাহিত্যে তাঁর নিজস্ব একটি বিশেষ স্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন, যেখানে কবিতা ও প্রবন্ধ তাঁর সৃজনশীল প্রকাশের প্রধান মাধ্যম। তিনি চারটি প্রশংসিত কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা: ‘জলের সন্তান’, ‘ধূলি থেকে ধূসর’, ‘প্রাগৈতিহাসিক আদরের চিহ্ন’ এবং ‘অতন্দ্র ভায়োলিন’। তাঁর গভীর ভাববোধপূর্ণ ও চিন্তাশীল রচনাগুলি বহু স্বনামধন্য সাহিত্য পত্রিকা ও ম্যাগাজিনে নিয়মিত প্রকাশিত হয়ে পাঠক ও সমালোচকদের প্রশংসা অর্জন করেছে।
কবিতা বিষয়ে তাঁর গভীর জ্ঞান ও দূরদৃষ্টি প্রসার ভারতী (অল ইন্ডিয়া রেডিও) কর্তৃক সম্প্রচারিত একটি বিশদ সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে প্রকাশ পায়, যা তাঁকে সাহিত্যের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। লেখালেখির পাশাপাশি তিনি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত প্রখ্যাত সাহিত্য পত্রিকা ‘শিকড়’-এর ভারত শাখার সহ-সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, যেখানে তিনি আধুনিক সাহিত্য আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।
বর্তমানে পিয়াল রায় একজন লেখিকা হিসেবে একটি চলচ্চিত্র প্রকল্পে সক্রিয়ভাবে নিযুক্ত আছেন, যার মাধ্যমে তিনি তাঁর সৃজনশীলতা ও সাংস্কৃতিক অবদানকে আরও বিস্তৃত করছেন।

১)
ইগো

এ-ও যেন অদম্য এক খেলা
অন্ধের শর ছোঁড়া
কে জানে কোন শর ভেদ করে যাবে
অথবা নিস্ফল যাবে কোন শর
নিশ্চিত বলার উপায় থাকে না কোনো
মানুষ থেকে মানুষে ছড়িয়ে পড়ে
মহামারী মুহূর্ত

হে ঘাতক, হে নায়ক সর্বগ্রাসী,
সংযত কর তোমার অক্ষয় তূন, শর সংযোজন
এই মুহূর্তে শর্তহীন বেঁচে থাকা জরুরী ভীষণ
বাঁচানো প্রয়োজন সব শ্রেষ্ঠ সম্পদ
মায়াবী আতরঘ্রাণ

একবার তাকাও চোখ তুলে
নিষ্পাপ ঠোঁটে দাও ভোরের চুম্বন
ঢাল নয়, আড়াল নয়, উপেক্ষা নয়, অপেক্ষাও নয়
একবার কাছে এসে বলো,ভালোবেসেছ আমায়

২)
জেগে ওঠার নামে

ঘুম আসে না কত রাত
জেগে ওঠার নামে নিজেকে জাগিয়ে রাখি

ভারি পায়ে মেঘ চলে ফেরে
দরজার ওপাশে শুনি অবোধ্য ফিসফিস
কে গো তুমি এত রাতে আমাকে চিবোও?
আমার পাপ নাড়াচাড়া করো কে তুমি?
উল্লাসে ছেঁড়ো মায়াবী পাতাবাহার?

ঘেমে নেয়ে উঠি
তেল, হলুদ ,সিঁদূরের কৌটো
হারিয়ে ফেলি। চোখ জ্বলে
ইচ্ছে করে খুব জোরে জোরে কাঁদি
জোরে জোরে নাড়া দিই সংসারটাকে ধরে
আমার ইহকাল পরকাল খেয়ে
যে বসে বসে গায়ে হাওয়া লাগায়
তার গতর ভেঙে  টুকরোটুকরো করি

কিছুই পারি না। কিচ্ছু পারি না।

শেষপর্যন্ত।

৩)
প্রার্থনা

অন্ধকার ঋতু জেগে উঠছেন
ঘাসে ঘাসে ফুলে ফলে ফসলে যৌবনে

এতখানি বেলা হল তবু রোদ উঠল না
এখনো চ্যাটচেটে ইচ্ছের মতো ঘুম বসে আছে

জেগে উঠুন আদিদেব,  সাড়া দিন সাড়া দিন
প্রলয়ের শোরগোল তুলুন কমরেড
আপনার ত্রিশূল কলঙ্ক চিহ্ন
যদি না মদালস এই অন্ধকার ছিঁড়ে শাপলার শুভ্র মুকুট
সাজিয়ে তুলতে পারে মানুষের এতকাল ভীরু বুক

যদি না ফের পথভুলো দেবতার শতেক সন্তান
শোনে প্রাচীন সেই জলদসঙ্গীত
যেখানে বীর চূড়ামণি এক হাতে অস্ত্র ও অন্য হাতে কমলপুষ্প
পাড়ি দিয়েছিল গ্যালাক্সীর দীর্ঘ দুর্গম ঢেউ
কত বসন্ত কাটিয়েছিল একা
কত শেফালী ঝরেছিল তার বুক খালি করে

আপনি আসুন জটাজুট নীল
পবিত্র গঙ্গা স্পর্শে মানুষ জীবন্ত হোক
আবার বেজে উঠুক আপনার ডম্বরু পুরাকালের মতোই
গতিহীন, প্রাণহীন এ প্রান্তরে

৩)
মারসুপিয়াল

আমার সন্তানদের আমি লুকিয়ে ফেলেছি গর্ভে
যেদিন থেকে ধর্মের নামে অধর্মের অধিকার
ঘূর্ণিঝড় তুলেছে, ঘুলিয়ে তুলেছে নিঃশ্বাস
বিশ্বাস আর আনুগত্যের সম্পর্ক দিয়েছে ঘেঁটে
সেদিনই লুকিয়ে ফেলেছি
অনেক অনেক দূরে নিরাপদে

রোজ ওদের গায়ে একটা নতুন শব্দ লিখি
আত্মমগ্ন আগুনের, প্রজ্ঞার, স্মরণের
রোজ ওদের দিই আগুনের দীক্ষা

গর্ভের চারপাশে দণ্ডি কেটে
নুন ছড়িয়ে রাখি, কার্বলিক অ্যাসিড ছড়াই
আগাছা পরিস্কার করি

ঋতুর ভোলবদল
একই সঙ্গে ক্রোধান্ধ ঈর্ষুক ও তরল পানিময়
আমার নামে তির ছোঁড়ে নলবনে

অন্তরঙ্গ সময়ে আমাকে মনে রাখতে হয়
কবে কোন সন্তানের গায়ে কী শব্দ ব্যবহার করেছিলাম
যাতে পুনরাবৃত্তি ওদের ঘায়েল করতে না পারে

যাতে নির্বিঘ্নে প্রসব হয় সুসময়

৪)
রুম নম্বর ৬১

[ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় র‌্যাগিং কাণ্ডে কিশোর স্বপ্নদীপের মৃত্যু মানব সভ্যতার ইতিহাসে  এক জঘন্য অধ্যায় রূপে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। এ এক অপরিমেয় ক্ষতি। ]

পশুর শখ বলতে কিছু নেই
মানুষ অনেক যত্নে শখ পুষে রাখে
শরিফের কালো হারামিপনা দেখানোয় যতটা মজা
পশুর পশুত্বেও ততটা নেই

খেলতে খেলতে জীবন আত্মহত্যা করে
খেলতে খেলতে খুন হয় একষট্টি নম্বর ঘর ছাত্রাবাসের
জীবনকে খুন করাই বুঝি এ খেলার চিরন্তন নিয়ম
এন্টারটেইনমেন্ট এন্টারটেইনমেন্ট এন্টারটেইনমেন্ট
অসহায়ের মৃত্যুর চেয়ে বড় খুসনুমা আর কিছু নেই
নেশার রঙ দেদার …পৃথিবীকে মনে হয় স্বর্গরাজ্য 

পশুর চোখেও জল দেখেছি  স্বজাতিনিধনে
তবু মানুষ কাঁদেনি
উৎফুল্ল তুষ্টি বুক থেকে ছিঁড়ে নিয়েছে প্রাণ
আপন ভাইয়ের 
নেহাতই মজায় মজায় নেহাতই শৌখিন খেয়াল পোষার তাগিদ
এক একটি মেধার মৃত্যু দেশকে পিছিয়ে দেয় হাজার বছর
গরীব দেশে সামান্য এই তথ্যও হারাম

জীবন হারায় ফেরে না কখনো
মৃত্যু মৃত্যু খেলা ফিরে ফিরে আসে

৫)

ইন্টারভ্যাল

ধীরে ধীরে, ভীষণ ধীরে ছড়িয়ে পড়ছে
জল একটানা
একটানা ঝড়ের আওয়াজ
টেনে নিচ্ছে কাঁপন
এক একটা বজ্র এখন মুখস্থ হওয়ার মতো প্রায়

গাছে গাছে স্বর্গীয় কাহিনী
আলো খুঁজতে কেউ কেউ যদি মাঠে নেমে পড়তেও চায়
এসব কাহিনী তাদের আড়ালে ঠেলে
সংসার সাজিয়ে বসে
একজন আরেকজনকে কিনে দিতে চায়
কিছুটা অভ্যাস কিছুটা ভীরু সারল্য

মধ্যান্তরে কাহিনী গাঢ় হয়ে ওঠে
প্রিয় চৌকাঠে এসে বসে শান্ত ভালোবাসা
স্বপ্নের ভিতর লালিত আরো এক স্বপ্নাদ্য মায়া

আধখানা পৃথিবীর ভিতর বাকি আধখানার লোভ

আধুনিক বাংলা সাহিত্যের এক বিশিষ্ট প্রতিভা
ভারতের দুর্গাপুর ইস্পাত নগরীতে জন্মগ্রহণকারী পিয়াল রায় আধুনিক বাংলা সাহিত্যে এক স্বতন্ত্র ও প্রতিভাবান কবি ও প্রবন্ধকার হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর তাঁর সাহিত্যিক কর্মজীবন কলেজ ম্যাগাজিনে লেখালেখির মাধ্যমে শুরু হয়।
বিগত বছরগুলোতে পিয়াল রায় বাংলা সাহিত্যে তাঁর নিজস্ব একটি বিশেষ স্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন, যেখানে কবিতা ও প্রবন্ধ তাঁর সৃজনশীল প্রকাশের প্রধান মাধ্যম। তিনি চারটি প্রশংসিত কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা: ‘জলের সন্তান’, ‘ধূলি থেকে ধূসর’, ‘প্রাগৈতিহাসিক আদরের চিহ্ন’ এবং ‘অতন্দ্র ভায়োলিন’। তাঁর গভীর ভাববোধপূর্ণ ও চিন্তাশীল রচনাগুলি বহু স্বনামধন্য সাহিত্য পত্রিকা ও ম্যাগাজিনে নিয়মিত প্রকাশিত হয়ে পাঠক ও সমালোচকদের প্রশংসা অর্জন করেছে।
কবিতা বিষয়ে তাঁর গভীর জ্ঞান ও দূরদৃষ্টি প্রসার ভারতী (অল ইন্ডিয়া রেডিও) কর্তৃক সম্প্রচারিত একটি বিশদ সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে প্রকাশ পায়, যা তাঁকে সাহিত্যের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। লেখালেখির পাশাপাশি তিনি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত প্রখ্যাত সাহিত্য পত্রিকা ‘শিকড়’-এর ভারত শাখার সহ-সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, যেখানে তিনি আধুনিক সাহিত্য আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।
বর্তমানে পিয়াল রায় একজন লেখিকা হিসেবে একটি চলচ্চিত্র প্রকল্পে সক্রিয়ভাবে নিযুক্ত আছেন, যার মাধ্যমে তিনি তাঁর সৃজনশীলতা ও সাংস্কৃতিক অবদানকে আরও বিস্তৃত করছেন।

১)
ইগো

এ-ও যেন অদম্য এক খেলা
অন্ধের শর ছোঁড়া
কে জানে কোন শর ভেদ করে যাবে
অথবা নিস্ফল যাবে কোন শর
নিশ্চিত বলার উপায় থাকে না কোনো
মানুষ থেকে মানুষে ছড়িয়ে পড়ে
মহামারী মুহূর্ত

হে ঘাতক, হে নায়ক সর্বগ্রাসী,
সংযত কর তোমার অক্ষয় তূন, শর সংযোজন
এই মুহূর্তে শর্তহীন বেঁচে থাকা জরুরী ভীষণ
বাঁচানো প্রয়োজন সব শ্রেষ্ঠ সম্পদ
মায়াবী আতরঘ্রাণ

একবার তাকাও চোখ তুলে
নিষ্পাপ ঠোঁটে দাও ভোরের চুম্বন
ঢাল নয়, আড়াল নয়, উপেক্ষা নয়, অপেক্ষাও নয়
একবার কাছে এসে বলো,ভালোবেসেছ আমায়

২)
জেগে ওঠার নামে

ঘুম আসে না কত রাত
জেগে ওঠার নামে নিজেকে জাগিয়ে রাখি

ভারি পায়ে মেঘ চলে ফেরে
দরজার ওপাশে শুনি অবোধ্য ফিসফিস
কে গো তুমি এত রাতে আমাকে চিবোও?
আমার পাপ নাড়াচাড়া করো কে তুমি?
উল্লাসে ছেঁড়ো মায়াবী পাতাবাহার?

ঘেমে নেয়ে উঠি
তেল, হলুদ ,সিঁদূরের কৌটো
হারিয়ে ফেলি। চোখ জ্বলে
ইচ্ছে করে খুব জোরে জোরে কাঁদি
জোরে জোরে নাড়া দিই সংসারটাকে ধরে
আমার ইহকাল পরকাল খেয়ে
যে বসে বসে গায়ে হাওয়া লাগায়
তার গতর ভেঙে  টুকরোটুকরো করি

কিছুই পারি না। কিচ্ছু পারি না।

শেষপর্যন্ত।

৩)
প্রার্থনা

অন্ধকার ঋতু জেগে উঠছেন
ঘাসে ঘাসে ফুলে ফলে ফসলে যৌবনে

এতখানি বেলা হল তবু রোদ উঠল না
এখনো চ্যাটচেটে ইচ্ছের মতো ঘুম বসে আছে

জেগে উঠুন আদিদেব,  সাড়া দিন সাড়া দিন
প্রলয়ের শোরগোল তুলুন কমরেড
আপনার ত্রিশূল কলঙ্ক চিহ্ন
যদি না মদালস এই অন্ধকার ছিঁড়ে শাপলার শুভ্র মুকুট
সাজিয়ে তুলতে পারে মানুষের এতকাল ভীরু বুক

যদি না ফের পথভুলো দেবতার শতেক সন্তান
শোনে প্রাচীন সেই জলদসঙ্গীত
যেখানে বীর চূড়ামণি এক হাতে অস্ত্র ও অন্য হাতে কমলপুষ্প
পাড়ি দিয়েছিল গ্যালাক্সীর দীর্ঘ দুর্গম ঢেউ
কত বসন্ত কাটিয়েছিল একা
কত শেফালী ঝরেছিল তার বুক খালি করে

আপনি আসুন জটাজুট নীল
পবিত্র গঙ্গা স্পর্শে মানুষ জীবন্ত হোক
আবার বেজে উঠুক আপনার ডম্বরু পুরাকালের মতোই
গতিহীন, প্রাণহীন এ প্রান্তরে

৩)
মারসুপিয়াল

আমার সন্তানদের আমি লুকিয়ে ফেলেছি গর্ভে
যেদিন থেকে ধর্মের নামে অধর্মের অধিকার
ঘূর্ণিঝড় তুলেছে, ঘুলিয়ে তুলেছে নিঃশ্বাস
বিশ্বাস আর আনুগত্যের সম্পর্ক দিয়েছে ঘেঁটে
সেদিনই লুকিয়ে ফেলেছি
অনেক অনেক দূরে নিরাপদে

রোজ ওদের গায়ে একটা নতুন শব্দ লিখি
আত্মমগ্ন আগুনের, প্রজ্ঞার, স্মরণের
রোজ ওদের দিই আগুনের দীক্ষা

গর্ভের চারপাশে দণ্ডি কেটে
নুন ছড়িয়ে রাখি, কার্বলিক অ্যাসিড ছড়াই
আগাছা পরিস্কার করি

ঋতুর ভোলবদল
একই সঙ্গে ক্রোধান্ধ ঈর্ষুক ও তরল পানিময়
আমার নামে তির ছোঁড়ে নলবনে

অন্তরঙ্গ সময়ে আমাকে মনে রাখতে হয়
কবে কোন সন্তানের গায়ে কী শব্দ ব্যবহার করেছিলাম
যাতে পুনরাবৃত্তি ওদের ঘায়েল করতে না পারে

যাতে নির্বিঘ্নে প্রসব হয় সুসময়

৪)
রুম নম্বর ৬১

[ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় র‌্যাগিং কাণ্ডে কিশোর স্বপ্নদীপের মৃত্যু মানব সভ্যতার ইতিহাসে  এক জঘন্য অধ্যায় রূপে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। এ এক অপরিমেয় ক্ষতি। ]

পশুর শখ বলতে কিছু নেই
মানুষ অনেক যত্নে শখ পুষে রাখে
শরিফের কালো হারামিপনা দেখানোয় যতটা মজা
পশুর পশুত্বেও ততটা নেই

খেলতে খেলতে জীবন আত্মহত্যা করে
খেলতে খেলতে খুন হয় একষট্টি নম্বর ঘর ছাত্রাবাসের
জীবনকে খুন করাই বুঝি এ খেলার চিরন্তন নিয়ম
এন্টারটেইনমেন্ট এন্টারটেইনমেন্ট এন্টারটেইনমেন্ট
অসহায়ের মৃত্যুর চেয়ে বড় খুসনুমা আর কিছু নেই
নেশার রঙ দেদার …পৃথিবীকে মনে হয় স্বর্গরাজ্য 

পশুর চোখেও জল দেখেছি  স্বজাতিনিধনে
তবু মানুষ কাঁদেনি
উৎফুল্ল তুষ্টি বুক থেকে ছিঁড়ে নিয়েছে প্রাণ
আপন ভাইয়ের 
নেহাতই মজায় মজায় নেহাতই শৌখিন খেয়াল পোষার তাগিদ
এক একটি মেধার মৃত্যু দেশকে পিছিয়ে দেয় হাজার বছর
গরীব দেশে সামান্য এই তথ্যও হারাম

জীবন হারায় ফেরে না কখনো
মৃত্যু মৃত্যু খেলা ফিরে ফিরে আসে

৫)

ইন্টারভ্যাল

ধীরে ধীরে, ভীষণ ধীরে ছড়িয়ে পড়ছে
জল একটানা
একটানা ঝড়ের আওয়াজ
টেনে নিচ্ছে কাঁপন
এক একটা বজ্র এখন মুখস্থ হওয়ার মতো প্রায়

গাছে গাছে স্বর্গীয় কাহিনী
আলো খুঁজতে কেউ কেউ যদি মাঠে নেমে পড়তেও চায়
এসব কাহিনী তাদের আড়ালে ঠেলে
সংসার সাজিয়ে বসে
একজন আরেকজনকে কিনে দিতে চায়
কিছুটা অভ্যাস কিছুটা ভীরু সারল্য

মধ্যান্তরে কাহিনী গাঢ় হয়ে ওঠে
প্রিয় চৌকাঠে এসে বসে শান্ত ভালোবাসা
স্বপ্নের ভিতর লালিত আরো এক স্বপ্নাদ্য মায়া

আধখানা পৃথিবীর ভিতর বাকি আধখানার লোভ


Discover more from Shikor

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান

Trending