সমুদ্রের কালি, পাহাড়ের ডায়েরি, মানবতার শেষ পাতা
মৌ মধুবন্তী
“মানবজাতির গল্প শেষ হতে পারে এখানেই”* – অ্যান্ডার্স স্যান্ডবার্গ
“পৃথিবীর মেয়াদ ফুরনোর আগে, প্রশ্ন জমেছে ডেটার ল্যাবে”* – ডেভিড এডমন্ডস
প্রাগৈতিহাসিক পৃষ্ঠা থেকে বলছি,
সমুদ্রের জল তখন লিখত ডাইনোসরের গল্প,
পাহাড়ের চূড়ায় জমে থাকত আগ্নেয়গিরির রাগ।
স্তনদানকারী এক নারী-সূর্যোদয় -mammal dawn
জেগে উঠলো ক্রেটেশাসের ধোঁয়াশা ভেদ করে—
কিন্তু শেষ হাসি হাসলো গ্রহাণু, ডোডোরা রইলো ইতিহাসের ফুটনোটে!
নারীর কণ্ঠে জমে থাকা সমুদ্র
আজকে এই শতাব্দীতে, নারীর চোখে সমুদ্রের লবণ—
“জলোচ্ছ্বাস তো শুধু জল নয়, এটা আমার রক্তের উচ্চারণ!”
পাহাড়ের চূড়ায় জমা তুষারে লেখা আছে বার্তা:
“তোমাদের অস্তিত্বের মেয়াদ ফুরোলে, আমিই হবো একমাত্র সাক্ষী!”
অস্তিত্বের হুমকি এখন চার নীল-কালো অধ্যায়ে শঙ্কিত
জলবায়ুর ডায়েরি লেখে
মেরু ভালুকের গলিত চোখে পড়ে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা,
ম্যানগ্রোভের শিকড় জিজ্ঞেস করে: “মানুষ কি মাটি খুঁড়ে কবর চায়?”
পরমাণুর নাচ দেখে
শীতল যুদ্ধের ভূত নাচে শশ্মানের গহ্বরে,
নিউট্রনের নৃত্য শেষ হলে, রইবে শুধু ছাই—
কোথায় পারমাণবিক ছন্দ যাবে?
মহামারীর রূপকথারা বলে,
ভাইরাসের মুকুটে জ্বলে ওঠে মানুষেরই তৈরি মিউটেশন,
“ডারউইন, তুমি কি এটাই চেয়েছিলে?”
— জিজ্ঞেস করে একা নারীর প্রজনন!
গ্রহাণুর গল্প থেকে ভেসে আসে, স্বগতোক্তি
যে গ্রহাণু ডাইনোসর মুছে দিল, সে-ই হয়তো ফিরে আসবে,
“মহাকাশের আদালতে মানবজাতি হবে আসামী!”
—বলেছেন অ্যান্ডার্স স্যান্ডবার্গ।
দার্শনিকদের ক্যালকুলেটরে মানবতার হিসাব ধরে না
ডেভিড এডমন্ডসের হেডফোনে বাজে পৃথিবীর শেষ গান:
“একুশ শতকের পর? মানুষ টিকবে? এটা অঙ্কের প্রশ্ন,
যার সমাধান নেই ফিউচার ইন্সটিটিউটের সুপারকম্পিউটারে!”
অক্সফোর্ডের ল্যাবে জমে থাকা ডেটাসেট চিৎকার করে:
“লোভের অ্যালগরিদমে ক্রাশ হবে সভ্যতার সার্ভার!”
নারী, পাহাড়, সমুদ্র: টিকে থাকার ত্রয়ী আর্তনাদ
এক নারী জলে ভাসায় তার সন্তানের নৌকা—
“সমুদ্র তো শুধু লবণ নয়, এটা আমার পূর্বপুরুষের অশ্রু!”
পাহাড়ের গায়ে আঁকে আদিবাসী রঙে টিকে থাকার ইশতেহার:
“যে পাথর ডাইনোসর কাঁপাত, সে-ই আজ মানুষের প্রার্থনাঘর!”
শেষ পাতা নাকি নতুন অধ্যায়?কে জানে?
সমুদ্রের কালি শুকোয়, পাহাড়ের ডায়েরি থামে—
মানুষের গল্প কি ডোডোর মতন শেষ হবে নিঃশব্দে?
না কি নারীর গর্ভে জ্বলবে নতুন সভ্যতার ম্যাপললীফ?
“টিকে থাকার সূত্র তো একটাই—
সমুদ্রকে ডাকো মা বলে, আর পাহাড়কে দাও বাবার সম্মান!”






এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান