বঙ্গবন্ধু
মাতৃস্তন্যের মতো মাতৃভাষার যে উত্তরাধিকার সঞ্চিত আমার জন্মমুহূর্তে,
প্রয়োজনের দোহাই তুলে প্রতিটি মুহূর্তে কী অনায়াসে ভুলে
যেতে চাই সেই অর্জন! রাজনীতি তো কবেই উপহার দিয়েছে কাঁটাতার,
তবু ও’দেশেরই এক গন্ডগ্রাম…. সুজলা সুফলা শস্য শ্যামলা—-
বাপ দাদু শিখিয়েছে বোয়ালি নদীর ধারে ওটাই আমার দেশ, বাংলাদেশ |
আজও মনে পড়ে সেইসব দিন | সন্ধ্যে হতে না হতেই অন্ধকার
সমস্ত বাড়ি | বিমানহানার ভয়ে আলো জ্বালানো নিষেধ. আর
হ্যারিকেনের ঘুপচি আলোয় আমরা দুই ভাই-বোন, পড়াশোনা অত কঠিন
ছিল না তখন | শুনতাম, যুদ্ধ চলেছে| বাবা-দাদু-জেঠু রেডিওতে
কান পেতে শুনত দেবদুলাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের কণ্ঠে নিমগ্ন সংবাদপাঠ |
এমনই এক দিনে পাড়ার মাঠে বাবার উদাত্ত কণ্ঠে শুনলাম সেই গান,
‘শোনো একটি মুজিবরের থেকে লক্ষ মুজিবরের কণ্ঠ’, বাড়িতে বাড়িতে মিষ্টি
বিতরণ, “জয় বাংলা’ শ্লোগানে মুখরিত শহর কলকাতার রাজপথ —স্বাধীন
বাংলাদেশ| সেই প্রথম তোমার নামের সঙ্গে পরিচয়, হে বঙ্গবন্ধু, যে দেশের নাম
আমারই মাতৃভাষার নামে, অথচ সে আমার সন্তানের দেশ নয় |
না, ফিরে যাওয়া হয়নি আর। এইসব বিগতকালের শোক নিয়েই আমরা
হেঁটে চলেছি এক নতুন পৃথিবী অভিযানে, প্রতিটি দিন বিশ্বায়নের ভুত, আধিপত্যবাদ
ক্রমশ ছড়িয়ে দিচ্ছে শেকড়, নিজভূমেই শরণার্থী এখন | তবু দীর্ঘশ্বাসের উঠোন ঘিরে
যতটুকু রাঙা আলো, অনেক অশ্রুমোচনের শেষে আমার প্রতিবেশী দেশ জেনেছে
সেই স্বাধীনতার স্বাদ | যতই হোক পরিযায়ী সেই পথ, তবু যেনো এক মুক্তির স্বাদ
স্বাধীন বিহঙ্গ এক অন্তহীন চরাচরে উড়িয়েছে তার ডানা, শেফালি-শালুক-হাস্নুহানায়
লেখা সে নাম- শেখ মুজিবর রহমান, জাতির জনক, তোমাকে লাখো সেলাম |
[সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল সম্পাদিত আগামী মাসে প্রকাশিতব্য ‘ভারতীয় বাঙালি কবিদের কবিতায় বঙ্গবন্ধু’ সংকলন থেকে।]






এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান