Powered by
WordPress
  • নববর্ষ ১৪৩৩- উৎসব তথা আত্মোপলব্ধির দায়বদ্ধতা

    সম্পাদকীয় নববর্ষ আবারও উপস্থিত—কিন্তু এই আগমনকে নিছক ‘উৎসব’ বলতে পারছি না কিছুতেই। সাম্প্রতিক ইতিহাসের দিকে তাকালে মনে প্রশ্ন জাগে, আমরা কি সত্যিই নতুন হতে পেরেছি? কতটা এগিয়েছি আমরা? এবারের নববর্ষ কেবল উদযাপনের নয়, বরং এক কঠিন আত্মোপলব্ধির। যখন পৃথিবীর অন্য প্রান্তে কোনো শিশু ধ্বংসস্তূপের নিচে দাঁড়িয়ে তার কচি দুটি হাত বাড়িয়ে দিয়েছে আকাশের দিকে, তার…

  • পিয়াল রায়

    শ্যামল পত্রাবলী ১)ঢেউয়ে ঢেউয়ে আমারবিন্দু বিন্দু প্রেম লেখাস্বপ্নমায়া লেখাঅকস্মাৎ রক্তে এত প্রাণ,এত বায়ু, এত অগ্নি-জলএত শুভেচ্ছা — এ দেহ রক্ষায় কবে বলো সামনে এসে দাঁড়াবে আমার কবে সময় হবে প্রতিজ্ঞা রাখার?কবে বল হাত লাগাব মাটির সংসারে?২)সেইদিন, প্রথম ক্ষণেই, অন্ধ হয়েছি এমন ভুবনপালন রূপ নিয়ে কেন এলে সত্যবহ? এলে যদি তবে কেন ব্যপ্ত হলে না?এখন আমার…

  • সায়ীদা শামসী

    নববর্ষের দরজায় পুরোনো বছরের গায়ে এখনও লেগে আছেকিছু না বলা কথা, কিছু থেমে যাওয়া স্পর্শ,কিছু অসমাপ্ত বিকেল!যেখানে তুমি আর আমিশেষবারের মতো তাকিয়েছিলাম আকাশের দিকে।তারপরও দরজায় কড়া নাড়ে নতুন বছর,একটু লাজুক, একটু উজ্জ্বল,হাতে তার কাঁচা রোদ,আর মুঠোভর্তি অজানা সম্ভাবনা।সে বলে,সব হিসাব মেলাতে হবে না,সব প্রশ্নের উত্তরও দরকার নেই,কিছু না পাওয়াকেওনরম করে বুকে নিতে শেখো।আমি চুপ করে…

  • আযাদ কালাম

    বাবা হাতের তালুতে বাবার শরীর স্পর্শে তাপ অনুভবকরেছিলাম, মেদ ছিলো না। তিনি মাটি আরফসলের প্রতি নিবেদিত বাতাস ছিলেন।জন্মজন্মান্তর বালুতে পলি জমেছিলো। নদিটিফসলের মাঠবাবার শরীর নদি হয়ে প্রশান্তি বয়ে যায়। খাঁ খাঁচৈত্রে বাবাকে পুড়তে দেখেছি, বৃষ্টিতে কাদাচৈত্র আর কাদা মিলে একেকটি বাবা,আদি-অন্তহীনতার বিকল্পরহিতজন্মদাতার ভ্রম বাবাতে চিরদিন ভ্রান্তি বইয়ে দেয়

  • আর্যপুরুষ

    সাঈদা আজিজ চৌধুরী তোমাকেই বলছি আর্যপুরুষ—বুনেছ শাশ্বত শিল্প সোনা রঙ দেহে হৃদয়ের কোণে কোণেভালোবাসা বিপ্লব কানায় কানায় প্রেম পরিশোধনির্দ্বিধায় ফুটেছিল রক্তমঞ্জরী আপনমনে শর্ত শুধু অগাধ অতল প্রেম-ভালোবাসা নির্মলবেহিসেবী রঙিন পালক বিছিয়ে নির্ঘুম রাতবাহারী ফুল পাতা কলি স্বর্ণলতাবসন্ত উৎসবে সাজে আমার উদ‍্যান পৃথিবীর সবটুকু রঙ ডানায় মেখে পাখির জীবনস্মারকচিহ্ন রেখে গেলে শতাব্দীর মিহি চুম্বন নক্ষত্র পুড়ে…

  • রঙের সাথে রং মেশাতে এসো

    মনোজ কুমার রথ রঙের সাথে রং মেশাতে এসো,মনের সাথে মনকে না হয় পরে;চোখের ভাষাই মনের ভাষা হ’লে,ষোলোআনা: গ্যাছোই প্রেমে পড়ে। পে’রিয়ে গেলো অনেক অনেককাল,অনেকগুলো রঙের ঋতু বৃথা!এই বসন্তে শেষের দিনে হলেও,মনের সাথে মন মিশিও, পৃথা। তোমায় দেখে শিমূল পলাশ হাসে,কৃষ্ণচূড়ায় রং লেগেছে দেখো;মনকলমি বলছে, “দ্বিধা কিসের?তুখোড় প্রেমের কাব্যকথা লেখো”। জীবন যখন ধূসর ধূসর লাগে,তুমিই আমার…

  • সারসের অন্তর্ধান

    জয় গাঙ্গুলি “মানুষ নিকটে গেলে প্রকৃত সারস উড়ে যায়”—এ কথা কেউ উচ্চারণ করে না,কেবল কাদামাটির ভেতর থরথর করে কাঁপেঅদৃশ্য জলের উৎস। যখন তোমার দিকে এক পা বাড়াই,আমার প্রলম্বিত ছায়া আগেই পৌঁছে যায়—দীর্ঘ, কুৎসিত, অভ্যাসে বিকৃত।সেই ছায়ায় শাপলার সাদা মুখে ফুটে ওঠে কালো দাগ।সারস তখনও জলে দাঁড়িয়ে—নিজের প্রতিবিম্বকে চঞ্চুতে ছুঁয়ে দেখে,যেন সত্যের যাচাই; ডানা, না ডানার…

  • পবিত্র বাইতুল্লাহর  হজরে আসওয়াদের সামনে কিছুক্ষনের স্মৃতি

    দিলু নাসের পবিত্র বাইতুল্লাহ তাওয়াফ শুরু করেছিলাম মাগরিবের কিছু পরে। আমার সপ্তম তাওয়াফ শেষ করার সাথে সাথেই মাইকে ভেসে উঠলো এশার নামাজের আজান। আজানের ধ্বনি কানে আসতেই যেন মুহূর্তের মধ্যে বদলে গেল চারপাশের দৃশ্য, কিছুক্ষণ আগেও যেখানে অগণিত মানুষের ঢল, তাওয়াফের নিরন্তর ঘূর্ণন, আর পবিত্র কাবার স্পর্শ পাওয়ার আকুলতা,সেই স্থান হঠাৎই অন্যরকম ব্যস্ততায় ভরে উঠলো।আজানের…

  • চালচিত্র

    আতাউর রহমান মিলাদ পৃথিবী জুড়ে আলোর মিছিল,অর্জন চিহ্নস্রোত ভেঙে এগিয়ে যাবার প্রতিযোগিতাসময়ের সূতো উসকে দেয়া গরিমা প্রকাশটিপসই ছাড়া কোন ঝণ নেই,আমার নিরাভরণ সূর্যের পৃষ্ঠায় কাঁটাছেড়া ঘুমমুঠোর ভেতর অপহৃত পিঁপড়ার মুখস্লো নেটে আটকে থাকা ভাসমান মেঘঅন্যর কাঁধে ভর দিয়ে চলে খোঁড়া পথ কথার বাকল ছেঁড়া বাদামের খোসাউদযাপনহীন দিনে বাড়ে জলের পিপাসা

  • কালের যাত্রা

    আতিকা হাসান ‘দাস্তাম্বু’ দিনলিপির পৃষ্ঠায় যখন ব্যস্তমির্জা গালিবের চৌকস কলম,ঠিক তখনই অস্ত যাওয়ার পথেমোগল সাম্রাজ্যের সহস্র বছরের শৌর্যবীর্য!টালমাটাল সিংহাসনে উপবিষ্ট‘তৈমুর লং’ এর উত্তর পুরুষ,কপালে খোদিত বহুমুখী চিন্তার ছাপ।নন্দনচিত্র হেরেমের বিষণ্ণ বাতাসছুঁয়ে যায় বাংলার নবাবী মসনদ! ক্লান্তিকর বিদেশ সফর শেষে দাম্ভিক ‘মধুসূদন’ মাত্র নামলেন কপোতাক্ষ নদের ঘাটে,জন্মমাটির গেয়ো গন্ধ বিভায় হেরে গেলবিলেতি ‘জেসমিন’তবুও,ভ্রু-কুঁচকে মনের প্রশান্তিলুকানোর প্রাণপণ…

  • আমার কবর

    আসাদ মান্নান কুয়াশা জড়িয়ে আছে ফুলে ফলে;অন্ধকারে তবুএকটা উজ্জ্বল দিন আজ; রক্তমাখা জন্মভিটা ;বিষন্ন আকাশ জুড়ে নক্ষত্রের গোপন সভায়আগুনের মন্ত্র জপে বাস্তুচ্যুত নদীর জোয়ার;বৈঠাহীন মাঝি একা পাড়ি দেবে জলের উজান–তোমার যেখানে ইচ্ছে যাও পাখি অমরতা বুকে। মাটি ও রক্তের গন্ধ ছেড়ে আমি কোথাও যাবো না;আদিগন্ত খোলা মাঠে এ কেমন রুদ্ধ নীরবতা!অবরুদ্ধ মানচিত্রে গৌরবের চিহ্নগুলো আজপরশ্রীকাতর…

  • বিবর্ণ তল্লাট

    মোহাম্মদ ইকবাল কতদিন দেখা হয়না গোধূলির আকাশসূর্যাস্তের রঙদিন ও রাত্রির সঙ্গম রেখার গুমোট মৌনতানদীর জলে ঝুলে থাকা গাছের ছায়াঅন্ধকারে হুতোম প্যাঁচার নড়ে ওঠা শরীরক্যাসিনোর লালনীল বাতিস্কচের বোতল বরফ কুঁচিটেবিল ডান্সে যুবতীর নগ্ন উরুর বিদুৎতাসের আড্ডা কবিতার বৈঠকীএরিনমোর তামাকে সুখ টানধুঁয়া ওঠা কাপুচিনোঅকারণ লং ড্রাইব। শহরটাকে বড্ড অচেনা মনে হয়শীতের অচেনা পাখিএই তল্লাটে আর বৃষ্টি হয়নাস্টোনহেঞ্জের পাথরের…

  • তুমি তো জাদু জানো

    মেঘদূত অঙ্কন ওই শোনো জাদুকররাত থেকে বাজছে বিঠোভেনঘুমিয়ে পড়েছে অনিদ্রামুখী রাত তুমি তো জাদু জানোজাদুবলে তুমি জাগাও বজ্রদগ্ধ কামখাতা ভর্তি শিরাতন্তুর ঘুম ভাঙাওতমোস্বিনী যে মৃত্তিকায় রক্তটিউলিপ ফোটে তার ঘুম ভাঙাও। তুমি তো জাদুকরতুমি কি থামাতে পেরেছিলে প্যালিওলিথিক দুঃখ?ঘোচাতে পেরেছিলে অণু পরিমান কোমর্বিডিটি?হয়তো পেরেছিলে! হাড় জিরজিরে প্রজাপতিটিকে ছুটিয়ে মারছে যৌন অতৃপ্তিতাকে অবলম্বন দাও অথবা দাও মুক্তিমৃত্যুর…

  • হিন্দোল ভট্টাচার্য

    আমার বাংলা ভাষা হিন্দোল ভট্টাচার্য তোমাকে পুরোটা বলতে পারি না, বুঝি, ভাষা নেইবুকের ভিতরে কী যেন দলা পাকিয়ে আসেকে যেন মাথার ভিতরে বারবার টোকা মেরে বলে,এত অপমান কোরো না, এত সন্ত্রাস নাআমার ভাষা তো এত শাসক ছিল নাআমার ভাষা তো ছিল না এত মন্দির মসজিদ হানাহানিঘামের সঙ্গে যে রক্ত মিশে আছে, তা আমার বাংলা ভাষাযে…

  • মোর্তজা খোন্দকার

    ভাষা-মা মোর্তজা খোন্দকার বাঁচবার ত্রাসে নিত্য পরাণে শুকায় সবুজপাতাসম্বৎসর মুখে অস্ফুট, মাতৃভাষায় “মা” ! আকুল আর্তি তবুও বন্ধ দুয়ার তো খোলেনাচাপে চোয়াল অসাড়ে আলগা — নির্গত হয় “মা”! গরু ও গোয়াল কবে ঘুঁচে গেছে যাক তা —” মা” ভরসা, আর মাথায় দত্ত মনিব পাদুকা । আকাশ নদী ক্ষেত জল আছে সাবেক হাওয়ামাতৃভাষায় ডাকা ছাড়া কিছুই…

  • আবু মকসুদ

    সত্য বলার দিন আবু মকসুদ এই দিনটা ফুলের না,এই দিনটা দেয়ালেরযেখানে গুলি লেগেছিল,আর ভাষা ঝরে পড়েছিল রক্ত হয়ে। মা বলেছিল,চুপ থাকলে বাঁচবি।ছেলেটা জানত,চুপ থাকলেই মরতে হয়। রাজপথে তখন কোনো মাইক ছিল না,কোনো ক্যামেরা নাছিল শুধু বুকের ভেতর জমে থাকাএকটা শব্দ,যেটা মুখ খুললেই গুলি খায়। ওরা দৌড়ায়নি পতাকার দিকে,ওরা দৌড়েছিল নিজের নামের দিকেযে নামটা কেড়ে নিতে…

  • শ্রীরূপা চোঙদার

    ১) দুর্গাপুর শীতঘুম দুপুরে আমি বা এই ঘুপচিশহরপাতা উল্টে ছুঁয়ে দেখেনি কেউ কাউকেমাঝে পাতা এক মজবুত নাগরিকবেড়াজমে জমে ক্রমে অজেয় দুর্গ রচে গেছেরাতশেষে সে অন্যের রোমাঞ্চনগরী হবেআমি কেবলই যথাযথ স্নেহার্ত উত্তরসূরী অলি-গলির চকমকি টানে উচ্ছন্নে যাওয়াআধোগল্প এই আয়ুর রেখায় বাঁধা পড়েনিইঁদুরছুট বিকেলঘ্রাণ সাবাসীর আড়ালেবিটনুন-জামে চাখা ভুলের অবকাশটুকুউপড়াচ্ছিলো পরমতৃপ্ত নৃশংসতায় শুভাকাঙ্খীবৃন্দের সহবত তর্জনি-নিচেকিছু জখম তবু কি…

  • সফিউল্লাহ পলিন

    প্রেম কত দূর কত দিন রাতে কত কথা সাথে হেঁটেছি পৃথিবী পথে,কত চাঁদ মাতে তোমার খুশিতে কত স্বপ্নের রথে !কত ফাঁদ পাতে স্বার্থের ঘাতে ধূর্ত সময় যত,কতটা জীবন ঢেলে দিলে হয়, শাজাহান শত শত ! কত কান্নায় হীরা বন্যায় প্রেমের কাব্য হয়,কত বিরহের সাগর সেঁচে তা, হৃদয়ে আসন লয়!কত হিসেবের পাতাল ঘেঁটে যে, তবে হয়…

  • অভি সমাদ্দার

    রুহ্ ও রূপম শব্দেরা -৫ অভি সমাদ্দার কিছু তো ফলবেই নাদান সব কালে যেমন ফলেছে ফলত বেকুবও বনে যাবে  যখন শহর মরে যাচ্ছিল জ্যান্ত সব মানুষের ভেতর অশ্রু ধোওয়া প্রতীক্ষার ভেতর সে কেন ফিরে এল না !  এই সপ্রশ্ন ভাঙা বুকের জলধারার ভেতর তখন আমাদের সকলের চোখের সামনে শহরের স্বচ্ছ সব ছুরিকার আড়ালে আড়ালে জেগে…

  • জাকিয়া রহমান

    এক জীবন বৃক্ষ আমি যেন এক জীবন বৃক্ষ!শীতের প্রচণ্ড প্রতাপে ঝিমিয়ে পড়া মনে-বসে রই অধীর অপেক্ষায়-শিশির ভেজা কিম্বা তুষার আচ্ছাদিত লতা গুল্মেরমৃতপ্রায় দেহ দেখে ভাবি আশঙ্কায়, আসবে তো আবার বসন্ত?ফুটবে তো নার্সিসাস, ডেফোডিল, জাফরান ফুল,যত ঘুমন্ত ফুল আছে ওই মাটির নিচে,আর নিরাভরণ ডালে ডালে সাজবে পাতা আর ফুলের অলঙ্কার?ভাঙবে কি ঘুম সবার? নাকি হারিয়ে যাচ্ছে…

  • অজয় ভট্টাচার্য

    চিঠি তোমার দেওয়া নীল কাগজে প্রথম চিঠিটা আজও আমি কাপড়ের ভাঁজে রেখে দিয়েছি।চিঠিটা আমার যৌবনের প্রথম ভালোবাসার দলিল।চিঠিটার প্রতিটি ছত্রে রয়েছে তোমার গায়ের গন্ধ, তোমার নিঃশ্বাস,হাতের স্পর্শ ও প্রশান্ত ভালোবাসা।ভালোবাসার প্রথম পূজোয় কাশবনে তোমার কাছে নিজেকে প্রথম আত্মসমর্পণ।শরতের ভোরের কুয়াশা, সবুজ ধানের নুয়ে যাওয়া শিস, পদ্মের পাঁপড়ি এসব তো তোমার কাছ থেকেই পাওয়া।তোমার সেই উড়নচণ্ডী…

  • শামীম আজাদ : তিন জন্মধারিণী ফিনিক্স

    পিয়াল রায় ঠিক মাঝরাতে ফোন। তা-ও আবার খাস বিলেত থেকে! শামীম আজাদ। নামের মতোই মিষ্টি সুবাসযুক্ত মৃদু একঝলক বাতাসই বুঝি ভেসে এল ফোনের ভিতর দিয়ে। আচ্ছা, প্রথম বাক্যালাপেই যিনি মন জিতে নেন তাকে কী বলা যায়? কোন সম্বোধনে তাঁকে বলা যায় ” এসো, এসো, আমার ঘরে এসো, আমার ঘরে”। যেমন সুমিষ্ট কণ্ঠস্বর তেমনই তাঁর সুচারু…

  • অর্কিড   

    শামীম আজাদ শামীম আজাদ- এই তুই আবার চলে এসেছিস? হামিদা যে আবার ফিরে এসেছে তা তো দেখতেই পাচ্ছে রিনা। তবু জিজ্ঞেস করে যেন উত্তরটা না নিজের বিরক্তিটাই বোঝানো।-জি! হামিদার উত্তরটাও আসলে উত্তর না।এক কিসিমের এফারমেশন।ঢাকা কলেজে একেকটি ক্লাস নেয়া মানে একেকটি চ্যালেঞ্জ নিয়ে পার পাওয়া। তার উপর ক্লাসগুলো শেষে জুনের ভ্যাপসা গরমে নিউমার্কেট থেকে টুকটাক…

  • ছেড়ে দিলে সোনার পঙ্খী…

    শামীম আজাদ একটু একটু করে ভোর হচ্ছে। বাইরে হেমন্তের শেষ শীত। আলো নিভিয়ে পর্দা সরাতেই দেখি কুয়াশার বুক চিরে সূর্যের চিকন আলো উঠে আসছে। ঘন কুয়াশায় ঢেকে আছে রাস্তার ওপারের বার্চ ও খয়েরি বৃদ্ধাশ্রম। ঝুলে আছে লাইট পোস্টের বাতি শেক্সপিয়রের সনেট তিয়াত্তরের অটামের মরা হলদেটে শেষ পাতাটির মতো। কুয়াশায় তার মুখখানাও আবছা। পৃথিবীর যেখানেই থাকি…

  • ইলিশকাঁটা সমাচার

    শামীম আজাদ যতবারই জমায়েতে বসে ঘ্রাণে স্বাদু ইলিশ খেতে বসেছি, ততবারই আমার পাশে বসা কেউ না কেউ এর কাঁটা নিয়ে নালিশ করেছেন। কিন্তু খাওয়া থামান নি। এ যেন ছোটবেলায় কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদারের ‘কাটা হেরি ক্ষান্ত কেন কমল তুলিতে/ দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহীতে’র সম্মুখ ভাব সম্প্রসারণ! এর অপ্রতিরোধ্য স্বাদ মানুষকে কাঁটা অগ্রাহ্য করে…

  • বাংলাদেশ’ গ্রামের কবি

    শামীম আজাদ বাংলাদেশ তো আসলে একটি গ্রাম, পল্লী। বর্তমান সময়ে তা আর গণ্ডগ্রাম না থাকলে সামগ্রিকভাবে গ্রামগুলোয় সে প্রাচীন পবিত্রতা, সে মূলসুর রয়ে গেছে। আমি দৈবের বসে দেশের বাইরে থাকি, আছি ত্রিশ দশকেরও বেশি। গত কয়েক বছর ধরে দেশেও থাকছি বেশ কিছুটা সময় এবং সৃষ্টিশীল কাজ করছি শহরের বাইরেও।সে অভিজ্ঞতায়, নৈর্ব্যক্তিক দৃষ্টিতে, বৈশ্বিক মানুষদের বিবেচনা…

  • ফারুকুজ্জামান জুয়েল

    ইচ্ছে নদীর সাতকাহন বুকের ভিতর বইতে থাকা নদী এখন শুধুই বালুচর নদীর জল! শুকিয়ে গেছে.. পাপড়িদল..? বইয়ের ভাঁজে গুনছে দিন অযুত কাল বুকের ভিতর পুরনো ব্যথা মনে হলেই; রাত্রিদিন। সচরাচর! সকাল দুপুর রাত্রি নামে পাঁজর ঘেঁষে বুকের খামে। আকাশ ভরা নীলের ছোঁয়ায় নিত্য মেঘের আনাগোনা তবু কেন একলা তুমি?খুব একাকী! মেঘগুলো তো চিরচেনা! মেঘের বুকেই…

  • সুকৃতি সিকদার

    লীনতাপ ভোর বেলা থেকে এক শবএমনই জীবন্ত হয়ে গেছে!বাতাসে তেরোর গন্ধ আজতেইশ তারিখেময় ময় করছে কেবল…পৃথিবীর চাকার উপরে। যখন ফসকে যায় ছায়াশরীরের বলপেন থেকেনিজেকে হালকা মনে হয়,যেন তাঁর চোখের উপরেআমার সকল ভেসে থাকাকরেছি বিলীন। তারপর লীনতাপ আসেধীরে ধীরে চাপের ভেতরে তোমাকে আমার থেকে দূরেআমাকে তোমার থেকে দূরে গলে যায় বরফের দেশ।

  • সুবীর সরকার

    আবার অঞ্চলকথা আবার অঞ্চলকথা,বাঁক নেওয়া নদী শ্যাওলা ভাসে খরস্রোতে,পুঁটি মাছের                                                    ঝাঁক গলায় গান তুলে আনে গীদাল, মৈশাল, বাইচার                                                          ভাই ঘোড়া মাশানের থান। বেগুনখেতে নজরকাটা। একের পর এক পেরিয়ে যাচ্ছি ধনীবাড়ি মুড়ি ও বাতাসা নিয়ে রেডিও শুনতে                                                     বসি প্রান্তরে  চাষাবাদ। গামছায় ঘাম মোছেন বৃদ্ধ                                      কৃষক। লিখলাম একটানা বৃষ্টি। নদী ও ঢেউয়ের বৃত্তান্ত। আলপথে শুয়ে থাকা                             ‘মাঘ…

  • গুরুপদ মুখোপাধ্যায়

    পাখি -৫মা প্রকৃতির নিয়মে দেহের গরম ভাগ করে নেয় দম্পতিকুটিরে কুজনে দুটি পাখি।গর্ভসঞ্চার,ডিম,তা দেওয়াজন্ম দ্যায় ছানাদের। বাবা মা আগলে রাখে ছানাদেরপোকামাকড় ধরে এনে খাওয়ায়, একদিন ডানা গজায়তারপর সব সম্পর্ক ছিন্ন করে সঙ্গীর খোঁজে উড়ে যায়পাখিদের সম্পর্ক ও সম্পদের চোরা টান নেই… বৃদ্ধাশ্রম নেই, স্কুল কলেজ চাকরি নেই, ধর্ষণ নেইখুন আছে,চোরাশিকারী আছে , মৃত্যু সুলভ এখানে।…