শব্দের আগুন

একদিন ভূখণ্ড জেগে উঠেছিল মৃতচাঁদের অন্ধকারে
যেন ঘুমন্ত মাটির নিচে হঠাৎ বজ্রধ্বনি।
মানুষ তখনো জানত না,
একি বজ্রকণ্ঠ নাকি ভূকম্পন!
ক্ষুধার্ত শস্যখেত জেগে উঠছে জলজ আলোয়,
দূরের আকাশে দোলেওঠে অগ্নিপালকের পতাকা।
যা মাটির গন্ধে, ভেজা পাতার নীরবতায়
একটি দেশের জন্মবৃত্তান্ত লেখা হয়।

তিনি ছিলেন বৃষ্টির আগে গাছের পাতার অস্থিরতা,
হাঁটুভাঙ্গা নদীতে জোয়ার,
যার স্পর্শে মাঠের ধুলোয় বিশ্বাস জেগেওঠে-
সবকিছু সবুজ হয়ে উঠবে।
তিনি ছিলেন অন্ধকারে রাখা প্রদীপের বিশ্বস্ত আগুন,
যা বাইরে আলো ছড়ায় না,
কিন্তু প্রতিদিন ভেতরের মানুষটিকে উজ্জ্বল করে তোলে।
তার চোখ ছিল ইতিহাসের দূরবীক্ষণ,
যেখানে দেখা যায়
শতবর্ষ আগের ক্ষুধার্ত কিশোর,
শতবর্ষ পরের মুক্ত শিশু,
একই আকাশের নিচে হাত ধরাধরি দাঁড়িয়ে আছে।

একদিন তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হলো,
যেন গ্রীষ্মের মাঝপথে নদীর উৎস বন্ধ হয়ে যায়!
কিন্তু মাটির ভেতরে রক্তেভেজা শব্দ রয়ে গেল,
রয়ে গেলো মুজিবের দূর্বার কল্পছায়া
যা প্রতিটি শিশুর স্বপ্নে আলোকিত দূত,
চোখে কোমল স্পর্শ-
“আমিই তোমার রক্তের গতি,
আমিই তোমার অবিনশ্বর দেশ।”

মুজিব নেই, বটবৃক্ষের ছায়ায় জ্বলে ভূতুড়ে আগুণ,
তিনি চলে গেছেন-
তবু বাতাসে এখনো পদচিহ্নের ধুলো উড়ে,
গোধূলির সোনালী জলে, শিশিরে ভেজা ভোরে,
এবং কৃষকের ঘামের লবণাক্ত গন্ধ
প্রতিদিন নতুন করে বন্দনা করে-
মোহময় এক মন্ত্রের নামে
জয় বাংলা-
যেন এক অলৌকিক শক্তির বিকল্প উচ্চারণ।


Discover more from Shikor

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান

Trending