শাহেদ কায়েস বাংলা সাহিত্যে বর্তমান সময়ের অন্যতম শক্তিশালী কবি। তিনি সমকালীন সাহিত্যের কাব্যশ্রষ্টা, কবিতার মাধ্যমে তিনি সময়কে ধারণ করেন। সময়ের সঙ্গে তার এই অন্তর্নিহিত সম্পর্কই তার লেখার অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
সমকালীন কবিতা ও সাহিত্য হচ্ছে বর্তমান সময়ের চিন্তা, ভাবনা, এবং সংস্কৃতির প্রতিফলন। এটি সমাজের সামাজিক, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটকে ধারণ করে। সমকালীন বাংলা সাহিত্যে বিশেষ করে কবিতা, ছোটগল্প এবং উপন্যাসে ব্যক্তির মানসিক জটিলতা, সমাজের দ্বন্দ্ব এবং প্রযুক্তির প্রভাবের কথা তুলে ধরা হয়। কবিতার ক্ষেত্রে ভাষার সরলতা এবং প্রতীকী উপস্থাপনা একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। সমসাময়িক কবি ও লেখকেরা তাদের লেখনীতে নিরীক্ষাধর্মী রচনার মাধ্যমে মানুষের অন্তর্দ্বন্দ্ব এবং সময়ের পরিবর্তনকে ব্যক্ত করেন। শাহেদ কায়েস সেই জায়গায় আপাদমস্তক বিচক্ষণ এবং প্রথাগত কাব্যকলার বিষয়কে চ্যালেঞ্জ করতে সচেষ্ট। শাহেদ কায়েস মনে করেন, কবিতা শুধুই শিল্প নয়; এটি একটি আত্মিক অভিজ্ঞতা, যা মানুষের সঙ্গে প্রকৃতি এবং মহাবিশ্বের গভীর সংযোগ স্থাপন করে। তার মতে, কবিতা এক প্রকার “দুরন্ত কিশোরী” যা একইসঙ্গে সহজিয়া এবং গভীর। এই গভীরতা তার কবিতায় এক বিশেষ আবেদন সৃষ্টি করে, যা পাঠককে মন্ত্রমুগ্ধ করে।

তার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভাবনা হলো, “কবিতা যেন মহাবিশ্বের এক কৃষ্ণগহ্বর, রহস্যে ভরা মহাবিস্ময়।” এই দৃষ্টিভঙ্গি তার কবিতায় নতুন মাত্রা যোগ করে। সময়কে ধরে রাখার চেষ্টা এবং তাকে অতিক্রম করার আকাঙ্ক্ষা, এই দ্বৈত স্রোত তার লেখার প্রতিটি স্তরে স্পষ্ট।
তার লেখনীতে প্রকৃতি, জীবনসংগ্রাম, এবং মানবিক অনুভূতির অপূর্ব মেলবন্ধন দেখা যায়। তিনি মূলত কবিতা ও গদ্যের মাধ্যমে তার ভাবনাগুলোকে ব্যক্ত করেন, যা তাকে সাহিত্য-জগতে অনন্য স্থান প্রদান করেছে। তার জন্ম এবং বেড়ে ওঠা ঐতিহ্যবাহী সোনারগাঁয়ে, যা তার রচনাশৈলীর মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে। ব্রহ্মপুত্র, মেঘনা, এবং শীতলক্ষ্যা নদী দ্বারা বেষ্টিত সোনারগাঁয়ের অপার সৌন্দর্য এবং সংস্কৃতি তার লেখার প্রতিটি পঙক্তিতে গভীরভাবে প্রোথিত।

শাহেদ কায়েসের বেড়ে ওঠার সময় প্রকৃতি এবং পরিবেশ তাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। তার শৈশবের স্মৃতিগুলো, যেখানে বিশাল আকাশ, প্রান্তহীন মাঠ, এবং বর্ষার জল-জঙ্গলের দৃশ্য, তার লেখার প্রেরণার মূল উৎস। তার কবিতায় প্রজাপতি, গঙ্গাফড়িং, এবং ঝাঁকে ঝাঁকে পাখির উপস্থিতি বারবার ফিরে আসে, যা তার লেখায় এক প্রাকৃতিক ছন্দের সঞ্চার করে।
তিনি মনে করেন, প্রকৃতি কেবল দেখার বিষয় নয়; এটি একটি জীবন্ত সত্তা, যা আমাদের চিন্তা এবং অনুভূতিকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। এই ভাবনা তাকে প্রকৃতি এবং জীবনের মধ্যকার গভীর যোগসূত্র নিয়ে ভাবতে এবং লিখতে অনুপ্রাণিত করেছে।
তার লেখালেখি “শিল্পের জন্য শিল্প” এবং “জীবনের জন্য শিল্প” এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে চলে। তিনি মনে করেন, বাস্তব এবং কল্পনার মধ্যে কোনো বিভাজন নেই। শিল্প এবং জীবন পরস্পরের পরিপূরক। তার মতে, “জীবন মানেই লড়াই,” এবং তার লেখাও এই লড়াইয়ের একটি অংশ। তিনি তার লেখাকে একধরনের “অপ্রত্যক্ষ লড়াই” হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যা জীবনের বিভিন্ন স্তরের সমস্যার প্রতিফলন।
এই লড়াইয়ের অভিজ্ঞতা তার লেখায় মানবিকতা এবং সংগ্রামের চিত্র তুলে ধরে। তার কবিতা এবং গদ্যে মানুষের ব্যথা-বেদনা এবং আশা-আকাঙ্ক্ষার সমান গুরুত্ব রয়েছে, যা তাকে পাঠকের হৃদয়ের কাছে পৌঁছে দিয়েছে।

শাহেদ কায়েস কেবল সাহিত্যিক নন; তিনি একজন সচেতন নাগরিক। তার লেখায় যেমন প্রকৃতির সৌন্দর্য এবং মানুষের অনুভূতির প্রকাশ দেখা যায়, তেমনই তিনি সমাজের প্রতি দায়বদ্ধও। বিভিন্ন সামাজিক আন্দোলনে তার সক্রিয় অংশগ্রহণ তার লেখার ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছে। তিনি মনে করেন, সাহিত্য সমাজের পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
তার এই সামাজিক দায়বদ্ধতা তাকে অন্যান্য লেখকদের চেয়ে আলাদা করে তোলে। তার রচনায় তিনি সমাজের বঞ্চিত এবং পিছিয়ে পড়া মানুষদের কথা তুলে ধরেন, যা তাকে একটি বিশেষ উচ্চতায় নিয়ে গেছে। শাহেদ কায়েস তার পাঠকদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করতে সক্ষম হন। তার লেখার সরলতা এবং গভীরতা একযোগে পাঠককে আকৃষ্ট করে। তার ভাষার মাধুর্য এবং বিষয়বস্তুর গভীরতা বাংলা সাহিত্যের পাঠকদের মুগ্ধ করে। তার কবিতা এবং গদ্যের মাধ্যমে তিনি বাংলা ভাষার সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছেন। তার লেখনীতে প্রকৃতি, জীবন, এবং সংগ্রামের যে অপূর্ব মিশ্রণ দেখা যায়, তা তাকে সার্থক কবি এবং সাহিত্যিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

লেখক পরিচিতি
শাহেদ কায়েস। জন্ম ১৯৭০ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর ঢাকায় জন্মগ্রহণ করা শাহেদ কায়েসের শৈশব এবং তার পারিপার্শ্বিকতা তার সৃষ্টিশীলতার মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে। তার পৈতৃক নিবাস সোনারগাঁ, যেখানে তিনি প্রকৃতি এবং ইতিহাসের সংস্পর্শে বেড়ে উঠেছেন। তিনি কম্পিউটার বিজ্ঞানে স্নাতক এবং মানবাধিকার বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
তার পেশা ফ্রি-ল্যান্স গবেষক হলেও, তিনি মুক্তচিন্তক ও সংস্কৃতিকর্মী হিসেবেও সমানভাবে পরিচিত। লেখালেখির পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সামাজিক আন্দোলনের সক্রিয় মুখ। তার জীবনের একটি বিশেষ দিক হলো পরিযায়ী ভ্রাম্যমাণ জীবন। ঘরের চেয়ে পথ তার কাছে বেশি প্রিয়, এবং দেশ-বিদেশে ঘোরার সুযোগ পেলেই তিনি তা কাজে লাগান।

প্রকাশনা
কাব্যগ্রন্থ: বাঁক ফেরার অভিজ্ঞতা (দোয়েল প্রকাশনী, ১৯৯৯), চূড়ায় হারানো কণ্ঠ (মঙ্গলসন্ধ্যা, ২০০৩), মায়াদ্বীপ (ঐতিহ্য, ২০১৫), কৃষক ও কবির সেমিনার (অভিযান, ২০২০), সহজিয়া প্রেমের কবিতা (অভিযান, ২০২১), নৈরাজ্যবাদী হাওয়া (চৈতন্য, ২০২৩), স্বনির্বাচিত কবিতা (ভাষাচিত্র, ২০২৩), স্বনির্বাচিত কবিতা (আগরতলা সংস্করণ; নীহারিকা, ২০২৩), স্বনির্বাচিত কবিতা (কলকাতা সংস্করণ; কবিতা আশ্রম, ২০২৩), নৈরাজ্যবাদী হাওয়া (বৈভব, ২০২৫)।
অনুবাদগ্রন্থ: মুক্তিকামী মানুষের কবিতা (ফিলিস্তিনি কবি মাহমুদ দারবিশ-এর কবিতা, বৈভব, ২০২৪), মুক্তিকামী মানুষের কবিতা (আগরতলা সংস্করণ; নীহারিকা, ২০২৪), মাহমুদ দারবিশের কবিতা (কলকাতা সংস্করণ; কবিতা আশ্রম, ২০২৪)।
অন্যান্য গ্রন্থ: মঙ্গলসন্ধ্যা প্রেমের কবিতা (সম্পাদিত গ্রন্থ; ধ্রুবপদ, ২০১৭); এশিয়ার বারটি দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি (ইংরেজি গ্রন্থ, মে এইটিন মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশন, দক্ষিণ কোরিয়া, ২০১৫); বিজ্ঞানী মাকসুদুল আলম স্মরণগ্রন্থ (ঐতিহ্য, ২০২০)।

পুরস্কার ও সম্মাননা
পঞ্চানন বর্মা বিশ্ববিদ্যালয় সম্মাননা (২০২৪, কুচবিহার, ভারত), বই-ঠেক সম্মাননা (২০২৪, জলপাইগুড়ি, ভারত), চর্যাপদ সাহিত্য একাডেমি পুরস্কার (কবিতায়, ২০২১), শালুক সম্মাননা (২০১৯)।

-ফারুক আহমেদ রনি
সম্পাদক
কবি ও লেখক

 


শাহেদ কায়েস-এর দশটি নির্বাচিত কবিতা


শূন্যতা

নির্বাক কবরস্থানে জোনাক-জ্বলা সন্ধ্যায়
ফেলে এসেছি আমার শৈশব; পাশেই শীর্ণ
ব্রহ্মপুত্র নদ- শুনি জলের অধরা বিস্মৃতি
.
আমাকে জানে ওই শতবর্ষী বট, যে দুঃখ না
পাওয়ার দুঃখে ঝুঁকে থাকে ব্রহ্মপুত্রের জলে
.
কুমারীপথ, শৈল্পিক বাঁক, ট্রেনের হুইসেল
গেল কি বিশ্রামে বটগাছটির আড়ালে?
.
দল বেঁধে শূন্যতা ঝাঁপ দেয় নবীন কবরে
সারারাত গোর-খোদকদের আলাপ শুনি
.
সেই জোনাকিদের কোথাও দেখিনা আর।

 প্রকৃতি গণিত

জঙ্গলে ঝাঁকে-ঝাঁকে নেমেছে আলো

অপরূপ জ্যামিতিক নকশায়…
বাঁশঝাড় ছুঁয়েছে বিষাদ, বিগত রাতের

ফুটি তুলো উড়ছে ভোরের আকাশে
বেগুনী রঙের জামদানি বাতাসে
চোখ জুড়ানো বুনন ও সৌন্দর্য…
.
বৃক্ষের পুস্তকে রেখেছি তৃষ্ণার্ত চোখ
এ কোন ভাষায় কথা বলছে প্রকৃতি!

এই স্থির, এই অস্থির রাজ্যে এসে বুঝি
প্রকৃতির গণিতে আমরা সবাই সংখ্যা
জগতের প্রতিটি প্রাণ, এমনকি মানুষও।

গণিতের চেয়ে সংখ্যা বড় হয়ে উঠতে নেই।

সম্পর্ক

চিরস্থির কেন্দ্র বলে কিছুই নেই
কেন্দ্র ছড়িয়ে আছে চতুর্দিকে…

একেকটি সম্পর্ক কেন্দ্রের মতো
পরিধি ঘিরে এতো-এতো আয়োজন!

যদিও প্রতিটি মুহূর্তেই নতুন আমি…
জন্ম নেয়া নতুন আমি পুরনো আমি
দুই আমির মাঝে বয়ে চলে এক নদী
ঠিক তেমনি, তুমিও প্রতি মুহূর্তে ভিন্ন

আমির সঙ্গে তুমি, তুমির সঙ্গে সে
এভাবেই সম্পর্কগুলো ছড়িয়ে পড়ে…

উড়ে গেলেও প’ড়ে রয় সম্পর্কের পালক
এ-ঘরে, ও-ঘরে পায়চারি করে
তোমার ফেলে যাওয়া স্পর্শ

কোনো সম্পর্ক চিরতরে হারিয়ে যায় না
ফিরে ফিরে আসে- তুমি, আমি, সে…
যেমন পৃথিবীর জল মেঘ হয়ে ওড়ে
ভাসতে-ভাসতে একদিন বৃষ্টি হয়ে ফেরে।
.
হারানো সম্পর্ক যদিও আগের মতো
থাকে না-  ফিরে আসে নতুন মাত্রায়…

আমরা কেউই কারো থেকে বিচ্ছিন্ন নই।

নদী

ঘাটে গিয়ে শুনি বেড়াতে চলে
গেছে নদী, ফিরবে সন্ধ্যায়।
.
এমন এক দিনও কী ছিল—
যেদিন নদীর সঙ্গে দেখা হয়নি!
.
সন্ধ্যা গড়িয়ে মধ্যরাত
ফিরে তো এলো না নদী…

ঘাটকে শুধাই-  দেখেছ নদীকে
ঘাট ইশারায় বলে- খুঁজে দেখ
ও নৌকা-  নদীকে দেখেছ তুমি
একটু আগেও তো উজানে ছিল
.
ঘাটের কাছেই জাহাজ-ভাঙা
শিল্প-বর্জ্য, সিমেন্ট কারখানা
সবাই আছে যার-যার মতো
কোথাও তো নদীকে দেখি না
.
বলল ডেকে বিষণ্ণ গাঙশালিক
নদী ভীষণ অভিমানী,
ভালোবাসা না পেলে নদীও
মুখ ফেরায় অন্যদিকে।

বাঘ

বছর জুড়ে একটি বাঘ সারাক্ষণ পাহারা—
দিচ্ছে, শাসন করছে, চোখে-চোখে রাখছে।
প্রতিমুহূর্তে নজরদারিতে তোমার জীবন…

বার্তা নিয়ে এলো— পূব-পশ্চিমের হাওয়া;
নিজের ছায়া থেকেও পালিয়ে বেড়াচ্ছে যে

শরৎ বুঝি জীবনকে বিষমুক্ত করার ঋতু!
কী অসীম মায়ায় জড়িয়ে রাখো কাঁচা হলুদ
নিম পাতার রস! খুঁজি আমি বাঘমুক্তি পথ

শরৎ এসেই পালিয়ে যাওয়ার উস্কানি দেয়
আমিও চাই- বিষমুক্ত হই, একটু জিরাই।

বাস্তুসাপ

সাগরে ভাসছে অসংখ্য বেওয়ারিশ নিঃশ্বাস

মানুষগুলো তখন গভীর সমুদ্রে ক্ষুধার জ্বালায়
পাগল হয়ে ঝাপ দিচ্ছে মৃত্যু-দরিয়ায়…
তীব্র যন্ত্রণায় আলিঙ্গন করছে অস্থির নিঃশ্বাস
ছুঁড়ে ফেলছে মুর্দা নোনা-জলে, বন্ধু-স্বজনেরা
.
প্রতিশ্রুতির বারান্দায় দাঁড় করিয়ে রেখে
সেই যে গেলে! বাইরে রাত শিকড় ছড়ালো
অন্ধকারে… অপূর্ব সুন্দর এক ফণা তুলে
দুলছে তীব্র প্রতিশ্রুতি লতা
.
মানুষ মুগ্ধ বিষাক্ত সৌন্দর্যে, যদিও বিষধর
আহা! কি রূপ! এ যে বাস্তুসাপ, মারতে নেই!

প্রেম

প্রেমে আক্রান্ত মানুষ প্রতিধ্বনি হয়ে যায়, চতুর্দিকে
ছড়িয়ে পড়ে প্রতিধ্বনি- গাঙের ঢেউয়ে, অরণ্যে
সমুদ্র, পাহাড় সব একাকার করে তোলে প্রতিধ্বনি
.
প্রতিধ্বনির কাছে আমি নতজানু হয়ে প্রার্থনা করি
ফিরিয়ে দাও দরোজা-জানালা-দেয়ালহীন একটা
জীবন-  প্রাণপ্রকৃতির দোলায় দেহহীন নিঃশ্বাস
.
উৎসের কাছে কেন যে বারবার ফিরে আসো তুমি!
প্রেম মানেই আংশিক মৃত্যু, আংশিক নতুন জন্ম

জ্যামিতিক বিস্তার

বৃন্তের এতো টান, কী রহস্য লুকিয়ে আছে যৌগিক পত্রে!
কামিনীসন্ধ্যা, সপ্তপর্ণী ঘ্রাণ ছুঁয়েছে আমাদের মিথস্ক্রিয়া

দুলে ওঠে দেহ-একতারা, গভীর থেকে যে আরও গভীরে
সবুজাভ সাদা অসংখ্য ফুলে ঝুঁকে আছে ছাতিম শরীর।
.
প্রত্যুষে শায়িত পাহাড়-  তারও জেগেছে অসীম বিস্তার
অনন্ত ট্র্যাকিংয়ে জ্যামিতিক চূড়ায় মেঘের বিচ্ছিন্ন স্পর্শ
.
চোখ থেকে উড়ে গেলে রক্তমল্লিকা, জাগে শাল-বৃক্ষ ঊরু
সীমানা পেরিয়ে দূরে- সারারাত আমাদের দেহ-পারাপার

প্রতিধ্বনি

গভীরে খুরের আওয়াজ, হ্রেষাধ্বনি, তারপর শুধু গতি
আর গতি… দিগভ্রান্ত পথ, পায়ে পায়ে হাওয়ার রাজ্য
যেভাবে একটি জীবন নিভৃতে শাসিত, কুঠারে সবুজেরা…
‘বৃক্ষ বেজে ওঠে যার আঘাতে আঘাতে, সে কি প্রতিধ্বনি!’
প্রাচ্যের রহস্য নগরী, ইটের লবণ বিলাস- দোল পূর্ণিমার রাত
জোড়বাংলা স্থাপত্যের তীব্র হাস্নাহেনা, সংস্কারে রেখেছ হাত!
দুলে ওঠে তোমার প্রাচীন বন, মন্দিরে কি থাকে তখন?
হ্রেষাধ্বনি, গতি, এক ঝলক হাওয়া- অজন্তা-ইলোরা, আহা
নক্ষত্র-জোনাকপোকা-শস্যঢেউ, ফাল্গুনের মাতোয়ারা চাঁদ!

পারিওয়ালী

হাত চলে, পা চলে
তাঁত চলে, তাঁত চলে…

নিজস্ব সৃজনে ভরে ওঠে জমি
স্বচ্ছ ভূমির উপর গাঙের বাতাস
বাতাসে মেলে ধর জমিন, স্পষ্ট
হোক গাঢ় সুতোয় তোলা নকশা

ভাতের মাঢ়ের ম’ ম’ ঘ্রাণ
ফুল-নকশায় জ্যামিতিক কষ্ট
নাচতে-নাচতে সুতোয় লাছি
ঘোরে চরকা, নাটাই হচ্ছে সুতো

এসো হজাইনা, এসো সানাবাজি
ছোট, বড় চরকা  সাধের নলি
ছিলটে প্যাঁচাও নলি, ‘ব’ ভর
সানায় সুতো, প্রস্তুত কর তাঁত।
.
শীতলক্ষ্যায় জেগেছে জোয়ার
মাকু মারো, মাকু মারো মিয়া
বাইনে-বাইনে ভরে উঠুক শরীর
.
তোমার মধ্যমা আর তর্জনীতে
কী জাদু তাঁতি! পা চলে, হাত চলে
জীবনের তাঁত চলে, তাঁত চলে।


Discover more from Shikor

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান

Trending