মহালয়া
হুবহু এমনই এক ভোর –
বেতারের কণ্ঠ ছিঁড়ে নেমে আসছে করুণ মন্ত্রোচ্চারণ। খোলা চোখে নিস্তেজ গঙ্গা, ভাসছে ফ্রিজার-শীতল হাড়। ঘাড়ে ঝোলানো অশ্বত্থপাতা, প্রিয়ংবদার বারান্দায় ধূপের ছাই গড়াচ্ছে – কাকে ডাকাছো গো ? কে ফিরছে পুনর্জন্মের মিছিলে? শঙ্খভরা শব্দে ভিজছে শুকনো লজ্জাবতী, ঈশ্বরের অচেনা পা পলক ফেলছে ভোরের বারান্দায়…
পূর্ণাঙ্গ প্রভাতে, এমনই এক চণ্ডীপাঠ –
আড়চোখে নীরব টিকটিকি ফোঁড় দিচ্ছে চিত্রকল্পে। পাথরের মতো শক্ত মন্ত্রগুলো ভেঙে পড়ছে শয্যায়। নিঃশব্দে শোনো – পার্বতীর রেটিনা থেকে ঝরে পড়ছে ভিজে অক্ষর, বলি দিচ্ছে শরীরী ভোর। “মা আসছেন” – এমন ঘোষণা সাঁকোর তলায় আটকে থাকা মাছের গন্ধের মতো, আদি ঢাকের ছন্দে। দরজার ফাঁকে উভকামী প্রদীপ, ধোঁয়ার সঙ্গে মিশে যাচ্ছে পুরনো রাজনৈতিক শ্লোগান।
মহালয়া, ভোরের জাতীয় শোক –
নির্দোষ সূর্যের গায়ে মেখে আছে কেরোসিন আলো, ইমন কল্যাণে সুর ভাঙছে চৌরাস্তায়। প্রিয়ংবদার চোখে এখন স্রেফ নক্ষত্রজল, শতভিষা ড্রেনে ডুবে থাকা দেবদূতের পাখা। দূর থেকে ভেসে আসে জীবনকৃষ্ণের ঢাক, অথচ এখানে জুতোর সুখতলায় আটকে আছে শ্মশানের ছাই। কোন মা-ই বা আসবেন? কোন বৌ-ই বা ফিরবেন আবার?
মহালয়া মানে উৎসবের প্রথম সিঁড়ি-
অথচ সিঁড়ির নিচে পড়ে আছে ভিখারী মাংস,
কনুই ভেজা আনন্দ, মান-অপমানের ঘাম ।
চণ্ডীমন্ত্র আর্তনাদ করে বলে উঠছে:
আসছে যে মা, আসছে স্মৃতিভ্রংশের গহ্বর থেকে পাললিক সংসারে।






এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান