যুক্তরাজ্যের সম্মিলিত সাহিত্য- সাংস্কৃতিক পরিষদের ২০২৫ সালের সাহিত্য পদক প্রাপ্তির মাধ্যমে সম্মানিত হলেন- কবি ও ছড়াকার দিলু নাসের।

সাহিত্য হলো মানুষের আবেগ, অনুভূতি, চিন্তা, ইতিহাস ও জীবনের বহুমাত্রিক অভিজ্ঞতার প্রকাশভূমি। সমাজ ও মানবতার প্রতিচ্ছবি হিসেবে সাহিত্য একদিকে যেমন আনন্দ, বেদনা, প্রেম, আশা ও হতাশাকে লিপিবদ্ধ করে, অন্যদিকে প্রতিবাদ, স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা ও সামাজিক চেতনারও বাহক হয়ে ওঠে। তাই সাহিত্য কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং একটি জাতির ইতিহাস ও সংস্কৃতির সংরক্ষক।

বাংলা সাহিত্যে কবিতা ও ছড়া দুইটি প্রধান রূপ। কবিতা তার গভীরতা, রূপক ও অলংকারে পাঠকের মনে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে। অন্যদিকে ছড়া সাধারণত সহজ, সরল ও ছন্দময় ভাষায় রচিত হওয়ায় শিশু থেকে শুরু করে সকল শ্রেণির মানুষের কাছে সমানভাবে গ্রহণযোগ্য।
ছড়ার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এর সরাসরি বার্তা দেওয়ার ক্ষমতা। সামাজিক সচেতনতা, নৈতিক শিক্ষা, আনন্দ কিংবা প্রতিবাদ সবই ছড়ার মাধ্যমে দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছায়। এজন্য ছড়া সাহিত্যকে বলা হয় সহজবোধ্য অথচ প্রভাববিস্তারী সাহিত্যধারা। ইতিহাসে দেখা যায়, ছড়া একদিকে শিশু সাহিত্যে আনন্দ দিয়েছে, আবার অন্যদিকে রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনের সময় মানুষের মনে জাগরণ ঘটিয়েছে। অতএব, ছড়া সাহিত্য শুধু বিনোদনের উৎস নয়, এটি সমাজ-সংস্কৃতি ও মানবতার বিকাশে এক অমূল্য সম্পদ।

বাংলা সাহিত্যে ছড়াকে দীর্ঘকাল শিশুতোষ ধারা হিসেবে ধরা হলেও, সমসাময়িক সময়ে ছড়া ব্যবহৃত হয়েছে ইতিহাস, প্রতিবাদ, প্রেম এবং মানবতার বার্তা পৌঁছানোর মাধ্যম হিসেবে। এই ধারার অন্যতম অগ্রপথিক হলেন দিলু নাসের। তিনি কবি, ছড়াকার, গীতিকার, সাংবাদিক, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব এবং প্রাবন্ধিক। প্রবাসেও তাঁর কলম বাংলাদেশ ও বিশ্বমানবতার জন্য অবিরত লিখে চলেছেন।
ছড়ার সহজ ছন্দ দ্রুত মুখে মুখে ছড়িয়ে যায়, তাই এটি ইতিহাস ও প্রতিবাদের শক্তিশালী মাধ্যম। দিলু নাসের দেখিয়েছেন, ছড়া হতে পারে মুক্তিযুদ্ধের দলিল, শোষিত মানুষের কণ্ঠ, আধ্যাত্মিক বার্তা। তিনি কবিতা ও ছড়া মিলিয়ে নিজেকে এক অনন্য সাহিত্যিক পরিচয় প্রতিষ্ঠা করেছেন।

বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির আকাশে যে কয়টি দীপ্তিমান নক্ষত্র প্রবাস থেকেও নিজ আলোয় অনন্য হয়ে আছেন, দিলু নাসের তাঁদের অন্যতম। তাঁর পুরো নাম সৈয়দ আবু নাসের দিলু। জন্ম ১৯৬৪ সালে, সিলেট শহরে। কৈশোরকালেই শুরু হয়েছিল তাঁর কলমযাত্রা। এরপর চার দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি ছড়িয়ে দিয়েছেন তাঁর সাহিত্যকর্ম বাংলাদেশ থেকে পশ্চিমবঙ্গ, আবার প্রবাসের প্রান্তরেও। সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রতি তাঁর নিবেদন, ছড়ার ভেতর প্রতিবাদের ভাষা আর মানবিক চেতনার উজ্জ্বল প্রকাশ তাঁকে বাংলা ছড়া সাহিত্যে অনন্য উচ্চতায় আসীন করেছে।

দিলু নাসের একক কোনো সীমানায় আবদ্ধ নন। সাহিত্যের বহুমাত্রিক সত্তাই তাঁকে দিয়েছে বিশেষ মর্যাদা। আশির দশকে ছোট গল্প দিয়ে সাহিত্য অঙ্গনে প্রবেশ করে তিনি হয়ে উঠেছেন কিশোর-তরুণদের প্রিয় লেখক। কিশোর বাংলা, ধানশালিকের দেশ, নবারুণ, আনন্দমেলা থেকে শুরু করে বাংলাদেশের শীর্ষ পত্রপত্রিকায় ছড়িয়ে আছে তাঁর কলমের স্বাক্ষর।
শৈশব থেকেই যুক্ত ছিলেন শিশু-কিশোর সংগঠন চাঁদের হাট ও শাপলা-শালুকের আসর-এর সঙ্গে। আশির দশকে তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন সিলেটের প্রান্তিক কচিকাঁচার মেলাকে। আবৃত্তি সংগঠন কথাকলি-এরও প্রতিষ্ঠাতা সদস্য তিনি। সিলেট বেতারের নিয়মিত কণ্ঠ থেকে শুরু করে বিলেতের বাংলা রেডিও ও টেলিভিশন জগতে দীর্ঘদিন ধরে তিনি ছিলেন জনপ্রিয় উপস্থাপক। বর্তমানে তাঁর নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেল- DN প্রোডাকশনটি বহুল দর্শকপ্রিয় একটি চ্যানলে।

গত চার যুগ ধরে তিনি যুক্তরাজ্য প্রবাসী হলেও মাতৃভূমি তাঁর কবিতা ও ছড়ার কেন্দ্রবিন্দু। দেশের রাজনৈতিক সংকট, সামাজিক অসঙ্গতি কিংবা মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তির পুনর্বাসন—সবই তিনি উচ্চারণ করেছেন সাহসী ভাষায়। তাঁর ছড়া ও কবিতা প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর হয়ে দাঁড়ায়, যেখানে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, সাম্প্রদায়িকতা ও বর্ণবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামী অবস্থান স্পষ্ট। এছাড়াও বাংলাদেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে তাঁর কলম কথা বলে বিশ্বের সকল নিপীড়িত মানুষের পক্ষেও। তাঁর গ্রন্থ বিশ্বগ্রাম এবং ফিলিস্তিনের বিষাদ কাব্য মানবতার প্রতি তাঁর অঙ্গীকারের জ্বলন্ত দলিল। তিনি নিজেকে ঘোষণা করেন—
“পৃথিবীর যত শোষিত মানুষ,
আমি তাহাদের পক্ষে।
আমার কলম সদা জাগ্রত
দিন বদলের লক্ষ্যে।”

দিলু নাসের আমার বন্ধু । একদম বিলেতের হৃদয় প্রাণছুয়ে আছে আমাদের বন্ধুত্বের নানা নিদর্শণ। লন্ডনের অলিগলি ধরে হেটেচলা আমাদের পায়ের চিহ্ন বলে দেবে, আমরা এখানে বাংলা সাহিত্যের শব্দ ও ছন্দের বুনন করে চলেছি দীর্ঘদিন। শতবছরেরও আগে এখানে বাংলা ও বাঙালি সংস্কৃতির পতাকাবাহী জাহাজ নোঙর করেছিলেন আমাদের পূর্বপুরুষেরা, আমরা আজ তাদেরই উত্তরসূরি। বাংলা টাউন, বঙ্গবন্ধু স্কুল, ওসমানী স্কুল, কবি নজরুল সেন্টার, কবি নজরুল স্কুল, ঠাকুর সেন্টার, বাংলাদেশ সেন্টার, শাহজালাল এস্টেট, আলতাব আলী পার্ক, শহীদ মিনার, প্রতিবছর আন্তর্জাতিক ব্যাপ্তিতে উদযাপিত বাংলা নববর্ষের আয়োজন, বইমেলা, সংহতি বাংলা কবিতা উৎসব অথবা নাট্যোৎসব । তাছাড়াও প্রতিদিনের আয়োজনে রয়েছে নানা সাহিত্য-সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এই বিলেতের এতসব নানা আয়োজনে রয়েছে আমাদের দিলু, রনিদের শ্রম আর উচ্ছ্বাসের বিমোহন স্বপ্ন। আর এই স্বপ্নকে লালন করে আমাদের পথচলা.. অবিরাম।

দিলু নাসের আমার বন্ধু বলে নয়, দিলু নাসের আমার প্রিয় ছড়াকার ও কবি বলে আমি তার কর্মের প্রতি মুগ্ধ, শ্রদ্ধাশীল। তাইতো – দিলুর ছড়ায় বাংলা ছড়ায়.আমার কথা নয়, সময়ের শ্রেষ্ঠ কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের কথা। ছড়া মানে- দিলু নাসের।
বঙ্গবন্ধুর জীবনকাহিনী তুলে ধরেন তিনি মুজিব নামের অর্থ ছড়াগ্রন্থে..
বাংলা ও বাঙালির কাছে
মুজিব নামের অর্থ আছে।
তাহার সাথে অনেক কিছু যুক্ত
মুজিব ছাড়া বাংলানামের
দেশ না হতো মুক্ত।

দেশে থাকতে আমাদের পরিচয় শুধুমাত্র সাহিত্যকর্মের মাধ্যমে। সরাসরি আমাদের প্রথম দেখা ১৯৮৬ সালে। প্রথম পরিচয় ব্রীকলেনের (বর্তমান বাংলাটাউন) আড্ডায়, খুব সম্ভব আলাউদ্দিন রেস্তোরায়। তারপর দুজনে আলতাব আলী পার্কে (বর্তমান শহীদ মিনার অবস্থিত), বসে গলা ছেড়ে গান ধরি- তোমরা ভুলে গেছো মল্লিকাদির নাম.. আমার প্রিয় গানের মধ্যে একটি। তারপর দিলু নাসেরের কণ্ঠে তার সেই ছড়া। আমার প্রিয় আরেকটি ছড়া;
জমির আলির একটি ছেলে
লন্ডনে বাস করে
তাইতো ছেলে পাঠায় দেশে
লক্ষটাকা মাস পরে।
টাকা পেয়ে জমির আলি
ইচ্ছেমত ত্রাস করেন
একটু পেতে দেরি হলে
ভীষণ হাহুতাশ করেন।
জমির আলি ভাবেন ছেলে
বিলেত টাকার চাষ করে
কিন্তু ছেলে পাঠায় টাকা
জীবনটারে নাশ করে।

আজ থেকে ৪০ বছর আগের সেই প্রথম দেখা দিলু নাসের, আজও তরুণ, যুবক, বয়স বেড়েছে কি কমেছে আমরা আড্ডায় বসলে এখনো সেই তারুণ্যের প্রাণবন্ত স্বপ্নচারী। আমরা এখনো স্বপ্ন দেখি যেমন দীর্ঘদিন দেখে আসছি, আমরা এখনো আদিগন্ত খেয়ালে উদাসীন। রঙিন স্বপ্নে উপরে ওঠার সিঁড়িগুলো কখনো আমাদের পাথেয় ছিলোনা। আমরা পথবেয়ে আসছি এক অলিক বিস্ময় নিয়ে, সে বিস্ময়; আমরা বিলেতে পরিপূর্ণ একখণ্ড বাংলাদেশ দেখবো, বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির আলোকিত রশ্মি একদিন জ্বলজ্বল করবে বিলেতের আকাশজুড়ে। দিলু নাসেরকে নিয়ে আমার গল্পের শেষ নেই। আমরা চারযুগ একপ্রাণ। দিলু নাসের আমার কাছে একটি ঈর্ষনীয় নাম। দিলু দৌড়ে আমার চেয়ে অনেক আগে, কারণ, দিলু ঈর্ষাকে প্রাধান্য দেননি। সাহিত্যের গতি তার পদচারণের মত, দিলু হাঁটেন তার পদচারণয় ছন্দ দোল খায়। দিলু এতো দ্রুত শব্দকে ছন্দে রূপ দিতে পারেন সেটা তার কাছে না থাকলে বুঝা মুশকিল। দিলু নাসেরের প্রথম ছড়াগ্রন্থ বিষ-কামড় প্রকাশিত হয় ১৯৯৫ সালে। প্রকাশক আমাদেরই আরেক বন্ধু স্বাধীন খসরু। দিলু নাসেরের ছড়ার ভক্ত। সেই গ্রন্থ দিলু উৎসর্গ করলেন বাবা, মাকে এবং একুশে ভুমিষ্ঠজাত আবির নাসের ত্রয়ীস্বত্তাকে উদ্দেশ্য করে, লিখলেন;
দেশকে যারা দেশ ভাবেনা, ভাবছে দাবার গুটি
তাদের দেখা পেলেই জোরে ধরিস চেপে টুটি
ও খোকা তুই তাদের দিকে ঘেন্না ছুঁড়ে দিস
থু ছুঁড়ে দিস মুখের উপর মেখে থাকুক বিষ..।

আবার যৌতুক নিয়ে দিলু লিখলেন চিরন্তন সেই বাণী;
মৌ ঝুর ঝুর মৌ
গলায় ফাঁসি কাল দিয়েছে
পাশের বাড়ির বৌ।
বৌ- এর বাবা দেয়নি তারে
সাজিয়ে সোনার কাঁকন-হারে
তাই দিয়েছে স্বামীর হাতে
গায়ের তাজা লৌ।
মৌ ঝুর ঝুর মৌ
এমনি করে মরছে হাজার
গাঁও গেরামের বৌ।

এমনি করে দিলু লিখে যাচ্ছেন সমাজ আর দেশ নিয়ে তার ছড়া, যার ছড়া মানুষকে প্রেরণা যোগায়, মানুষের কাছে তিনি পৌঁছে যান খুব সহজে, যেমন;
আজকে যাদের কথায়
এবং-কার্যতে নেই মিল
তাদের বুকে লাথি মারো
লাগাও ঘুষি কিল।
মঞ্চে উঠে মিথ্যে বলে
কুড়ায় যারা তালি
সেই শালাদের মুখেতে
দাও মাখিয়ে চুনকালি।

এমনি করে দেশ, জাতি, ধর্ম নামের গোঁড়ামি, রাজনীতি, নেতা নেত্রীদের নিয়ে হাজার ছড়ার জনক তিনি।
১৯৮৬ সাল থেকে যুক্তরাজ্যে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতি প্রচারে তিনি কাজ করে চলেছেন অবিরাম। বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র যুক্তরাজ্যের বইলিট উৎসব-এর তিনি অগ্রপথিক, লন্ডন বৈশাখী মেলা ও লন্ডন বাংলা বইমেলার অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক পরিষদ যুক্তরাজ্য-এর সাধারণ সম্পাদক ও জাতীয় কবিতা পরিষদ যুক্তরাজ্য-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবেও তিনি রেখেছেন উজ্জ্বল ভূমিকা।
ছড়া-কবিতার পাশাপাশি তিনি লিখেছেন অসংখ্য গান। তাঁর লেখা গানে সুরারোপ করেছেন মান্না দে, ভূপেন হাজারিকা, আজাদ রহমানসহ বহু খ্যাতিমান সুরকার। গানগুলো কণ্ঠে ধারণ করেছেন বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের অসংখ্য শিল্পী। হামদ, নাত ও কুরআনের আয়াতের কাব্যানুবাদে তাঁর মুন্সিয়ানা তাঁকে দিয়েছে অনন্য পরিচিতি। নবী মুহাম্মদ (সঃ)-এর জীবনী নিয়ে রচিত তাঁর মহাকাব্যও প্রকাশের অপেক্ষায়।

১৯৮৪ সালে দৈনিক সিলেটের ডাক-এ সাংবাদিক হিসেবে তাঁর আত্মপ্রকাশ। পরে পূর্বদেশ, সালাম বাংলাদেশ, বাংলাটাউন সংবাদ, নতুন দিন, জনমত, বাংলা টাইমসসহ অসংখ্য পত্রিকায় সম্পাদকীয় ও লেখক হিসেবে রেখেছেন চিহ্ন। এখনও তিনি লন্ডনের জনপ্রিয় সাপ্তাহিকীতে নিয়মিত লিখে চলেছেন, বিশ্ব রাজনীতি ও সাম্প্রতিক ঘটনাবলি নিয়ে ছড়া ও প্রবন্ধের ধারাবাহিকতায়।
এ পর্যন্ত তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা দশটি। উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহের মধ্যে; বিষকামড়, বিশ্বগ্রাম, মুজিব নামের অর্থ, শাহবাগের ছড়া, ছড়ায় ছন্দে বাংলার ইতিহাস, যে সুর হৃদয়ে বাজে, চন্দ্রাহত কবিতা, অনন্ত রক্তের ঝুটি, লন্ডনের ছড়া, সুন্দরের ক্রীতদাস, ফিলিস্তিনের বিষাদ কাব্য
প্রকাশিতব্য— ছড়াসমগ্র, প্যালেস্টাইনের পথে প্রান্তরে, প্রাচীন পথের পরিভ্রাজক এবং ছড়ায় ছন্দে সীরাতে রাসুল।

তাঁর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি পেয়েছেন সংহতি সাহিত্য পুরস্কার (২০১৩), বাংলা একাডেমি ইউকে কর্তৃক কবি দিলওয়ার সাহিত্য পুরস্কার (২০১৫), ছড়ালোক পদক (২০১৮)সহ উদীচী, স্পেকট্রাম ও সানরাইজ বাংলা রেডিওর সম্মাননা। এবারের তিনি যুক্তরাজ্যের সম্মিলিত সাহিত্য- সাংস্কৃতিক পরিষদের ২০২৫ সালের সাহিত্য পদক প্রাপ্তির মাধ্যমে।


ফারুক আহমেদ রনি
সম্পাদক, শিকড়


পাঠকের জন্য দিলু নাসেরের কিছু কবিতা ও ছড়া

কবিতা


ঘরহীন ঘরে

দিন চলে যায় হাওয়ায় হাওয়ায়,দিন চলে যায় ক্রমে
স্মৃতির পাতা হচ্ছে ধূসর ধুলোর প্রলেপ জমে
সোনা রোদ্দুর, নিঝুম দুপুর- মায়া মমতার ডোর
ছায়াঘেরা পথ পেরিয়ে এখন এসেছি অনেক দূর।
কাগজের নাও স্রুতে ভেসে গেছে- উড়ে গেছে প্রজাপতি
ছায়ার পিছনে দৌড়ে নিজে- নিজের করেছি ক্ষতি।
উড়ে গেছে সাদা কার্পাস হয়ে জমানো স্বপ্ন যতো
হৃদয়ে হরিৎ প্রান্তর নেই- জমাট বেঁধেছে ক্ষত।
ক্ষতি আর ক্ষত একাকার হয়ে জীবন হয়েছে লীন
ঘরের ভিতরে ঘরহীন হই অজান্তে প্রতিদিন।
ভেসে গেছে সব আশা ও ভরসা,উড়ে গেছে ভালবাসা
পালংকে এসে কালো বিষধর- নির্ভয়ে বাঁধে বাসা।

কতো আর পালাই

আর পালাতে ভালোলাগে না
কতো আর পালাই…
পালাতে পালাতে বহু দূর এসে গেছি।
প্রথম ঘর ছেড়ে পালিয়ে ছিলাম জৈন্তা পাহাড়ে
তারপর সীতাকুণ্ড, বাটালী পাহাড়
সাগর আর নদী পেরিয়ে হিমালয়।
রাজস্থান, কান্দাহার ঘুরে ঘুরে
একদিন সাহারার কড়া রোদে পুড়িয়েছি নরম গতর
তারপর ভূমধ্য সাগরে ভেসে ভেসে
মিশে গেছি প্রাচীন ক্রিটে, এথেন্সে
হরপ্পা মহেনজোদারুর গন্ধ বুকে খুঁজেছি
সক্রেটিসের পদচিহ্ন আর
মধ্যরাতে গ্রানাডার জঙ্গলে লোরকার কবর।
পালাতে পালাতে গেছি বহু দুর…
বার্সেলোনা, ভেনিস ও প্যারিসের ঝলমলে আলোর নীচে
উদভ্রান্ত নীলবিষে কেটেছে প্রহর।
পদ্মা মেঘনার জলজ ঘ্রাণ মুছে দিতে
বার বার ডুব দেই
টেমস, এব্রো আর রাইনের জলে।
পিকাডেলী,ম্যানহাটনে ঘুরে ঘুরে ক্লান্ত হয়ে…
ছুটে গেছি ধুসর আরাফাতে
জন্মতৃষ্ণায় কালো পাথরে দিয়েছি চুম্বন।
কতো আর পালাই
পালাতে পালাতে পালিয়েছি মায়ের জরায়ন…

লাশের বাগান

আমার গৃহের আশপাশে বেশ কয়েকটি বাগান রয়েছে
ফুলের, ফলের আর রকমারি সবজির…
এসবের মাঝখানে আরেকটি বাগান আছে, লাশের…
নাম তার পিস গার্ডেন
মৃত মানুষের বাগানও বলা যেতে পারে
কিন্তু মানুষ প্রাণহীন হয়ে গেলে আর মানুষ থাকে না
সকলেই লাশ হয়ে যায়…
এই বাগানের পরিধি প্রতিদিন দীর্ঘ থেকে
দীর্ঘতর হচ্ছে…
আমার পরিচিত অনেকেই পৃথিবী বুকে নিয়ে
এই শান্তির বাগানে মৃত্তিকার ফুল হয়ে আছে
আমি মাঝে মাঝে এই বাগানের পাশ দিয়ে গেলে
মনে পড়ে যায় কোনো এক কবির এপিটাফ
“আমিও তোমাদের মতো ছিলাম
তোমারাও আমার মতো হবে…”
আর মনে মনে আমিও বলি
হে আমার প্রিয়জনেরা
তোমরাও আমার মতো ছিলে
আমিও তোমাদের মতো হবো…

রাত্রি

উষ্ণ আগুনে গলে মধ্য রাতে কঠিন পাহাড়
কাঁপে মন ঝাউবন উপত্যকা
গলে চর হলুদ পাথর
মধ্য রাতে আগুনের সোনালী তাপে।
অকর্ষিত জমি ভাঙে লাগলের তীক্ষ্ণ ফলা
চাঁদ,হাসে হাসে নক্ষত্র
কেঁপে উঠে কৃষ্ণছায়া
জোস্না পূর্ণিমা রাত।


রাত্রি গভীর, হিমেল রাত্রি
হাওয়ায় পাতারা কাঁপে
ফুলের পাপড়ি হয় যে লাজুক
চন্দ্রিমা উত্তাপে
রাত্রি গভীর,হিমেল রাত্রি
জোছনা প্লাবন ঝরে
হাড়ের আলো অনল জ্বালিয়ে
দেয় যে মাটির ঘরে
আগুনের তাপে কেঁপে উঠে হৃৎ
কেঁপে উঠে চরাচর
মাটির সঙ্গে মাটি মিশে যায়
জড়িয়ে মায়ার চাদর…


রাত্রি ছিলো চাঁদ ঝলমল
বাতাস পাগল করা
পথের বাঁকে আবছা আলো
আকাশ জোছনা ভরা
এমন সময় কবির কথা
হাওয়ায় ঝরে পড়ে
মারলো ঠোকা খুব নিভৃতে
জমাট পাথরে
আশেপাশের মানুষজনে
দেখালো না কেউ মোটে
চাঁদের আলোয় ফুটলো গোলাপ
পাথর করপুটে
গোলাপ ঘ্রাণে পাথর বনে
বইলো জোছনা প্লাবন
খরায় পোড়া মনে ঝরে
স্নিগ্ধ বরিষণ.,..


ভাঙ্গা তরণী

নিয়তির কেন দোষ দেবো আমি
আমি তো কপাল দোষী
আমার তরণী ডুবেছে যেখানে
পানি তো ছিলো না বেশী|
নৌকায় ছিলো আবেগ আর প্রেম
ভালোবাসা টইটুম্বুর
যখন ডুবেছে আঁধার ছিলোনা
ছিলো যে ভরদুপুর
আমার তরণী ডুবে গেছে তাই
চারিদিকে হাসাহাসি।
সাধের তরী তে উঠেছে পানি
সব কিছু নিশ্চিহ্ন
মনের সকল স্বপ্ন ও সাধ
হয়েছে ছিন্নভিন্ন
তবু ভাঙা এই তরণী কে ধরে
দুঃখ কে ভালোবাসি
আমার তরণী ডুবেছে যেখানে
পানি তো ছিলো না বেশী…

তোমার খোঁজে পৃথিবী ভ্রমণ

তোমাকে দেখিনি বহুদিন আমি, তোমাকে দেখি না আর
তোমার জন্যে মনের মধ্যে বহে শুধু হাহাকার।
তোমাকে খুঁজি প্রতিদিনমান পথে আর প্রান্তরে
তোমার মুখের ছবি ভেসে উঠে বারবার অন্তরে।
তোমার জন্যে সেই কবে থেকে আমি যে দেশান্তর
তোমার তালাশে ঘুরেছি অনেক শহর আর বন্দর।
তোমাকে খুঁজেছি প্যারিসে-গ্রীসে
বার্সেলোনা এবং ভেনিসে
পিকাডেলি আর ম্যানহাটনে জনারণ্যের ভিড়ে
তোমার জন্যে ঘুরছি বহু সাগর আর নদী তীরে।

এথেন্সে এক প্রাচীন মূর্তি দেখে হয়েছিলো ভুল
তুমি মনে করে বাঁধিয়েছিলাম সেখানে হুলুস্থুল।
গ্রীক পুরাণের প্রেমের দেবতা আফ্রোদিতির দেশে
প্রেমহীন প্রাণে আমি যে ঘুরেছি দুঃখকে ভালোবেসে।
বার্সেলোনায় পিকাসোর এক ছবির সামনে দাঁড়িয়ে
তুমি ভেবে ছোঁয়ে দেখতে চেয়েছি অজান্তে হাত বাড়িয়ে।

তোমাকে খুঁজেছি কায়রো শহরে
সুপ্রাচীন লাক্সরে
খুঁজেছি তোমাকে নীলনদের জলের কলস্বরে
নেফারতিতি- ক্লিওপেট্রার পদছাপ ঘেরা শহরে
অশ্রু ঝরেছে আমার নয়নে তোমাকে স্মরণ করে।
দুবাই শহরে আকাশচুম্বী অট্টালিকার ভিড়ে
আমার এ মন বার বার শুধু তোমাকে দেখেছে ফিরে।
জর্ডান আর প্যালেস্টাইনে সুপ্রাচীন শিলা-পাথরে
তোমার নামটি লিখে রেখেছি আমি যে যত্ন করে।
তোমার খোঁজে আমি যে বেড়াই সুনীল আকাশে ভাসিয়া
ইউরোপ থেকে আফ্রিকা যাই আমেরিকা থেকে এশিয়া।

জুরিখ, মিলান, ব্রাসেলস শহরে
আলো ঝলমল রাতের প্রহরে
তোমার বিরহে আমার এ মন
হয়েছে কেবলই কাতর
আমাকে বাঁধেনা ঘর
তোমার জন্য আমি যে হয়েছি
আজ এক যাযাবর।
যাযাবর বেশে ঘুরে দেশে দেশে
মানুষের কোলাহলে
জীবন আমার হলো যে বিনাশ
অলিক অনলে জ্বলে…

হেমলক

আমি তো দেখিনি সাগর কখনো
অথবা দেখিনি পাহাড়ও
এজীবনে আমি পাইনি কখনো
স্নিগ্ধ পরশ কাহারও।
এজীবন ছিলো ধু ধু প্রান্তর
শুধু বালি আর ধুলো
বহু বসন্ত এলো আর গেলো
ফুটেনি একটি ফুলও।
নীল তৃষ্ণায় ঘুরতে ঘুরতে
জীবনের মাঝ প্রহরে
তোমার সঙ্গে দেখা হয়ে গেলো
সুপ্রাচীন এক শহরে
পুরাণের সেই প্রেমের দেবতা
আফ্রোদিতির গ্রীসে
আমার হৃদয় রাঙালে যে তুমি
সে এক অলীক বিষে
সে বিষের বাণে এখানে এখনো
আমি যে জর্জরিত
নিজের কাছে নিজের শরীর
লাগে যে অপরিচিত
পাইনা তো ভেবে ভাগ্য আমার
কেন এতো প্রতারক
মানবীর রূপে তুমি এসেছিলে
বিষাক্ত হেমলক।


বাঙালী

আমি বাঙালী, জন্ম আমার সোনার বাংলাদেশে
হৃদয়ে আমার হাজার নদীর পলিমাটি আছে মিশে।
কথা বলি আমি বাংলা ভাষায়, গান করি বাংলায়
আমার উৎস চর্যাপদের প্রাচীন বর্ণমালায়।
স্বাধীনতা আর ভাষার লড়াই বুকেতে ধারণ করে
আমি মেতে উঠি দেশেও বিদেশে কি দারুন উল্লাসে
আমি বাঙালী, জন্ম আমার সোনার বাংলাদেশে।
রবীন্দ্রনাথ,জীবনান্দ, বিদ্রোহী নজরুল
আমার মননে ফোটায় নিত্য চেতনার রাঙা ফুল
সে ফুলের ঘ্রানে জয় করি ভয় আমি রোজ হেসে হেসে
হৃদয়ে আমার হাজার নদীর পলিমাটি আছে মিশে।
বাংলা আমার মায়ের ভাষা বাংলা আমার প্রাণ
পৃথিবীর পথে ঘুরে ঘুরে আমি করি বাংলার গান
যতো দুরে যাই বাঁধা থাকে প্রাণ সোনালী ধানের শীষে
আমি বাঙালী, জন্ম আমার সোনার বাংলাদেশে
হৃদয়ে আমার হাজার নদীর পলিমাটি আছে মিশে ।।


ছড়া

আমার ঠিকানা

পৃথিবীর যতো শোষিত মানুষ
আমি তাহাদের পক্ষে
আমার কলম সদা জাগ্রত
দিন বদলের লক্ষ্যে ।
যারা ঢালে প্রাণ প্রতিদিনমান
প্রগতির সন্ধানে
আমি লিখে যাই তাহাদের কথা
আমার কবিতা গানে ।
আমার স্বপ্ন মানুষের সাথে
মানুষের হউক মিল
বিশ্বে আসুক সুখ ও শান্তি
হাসি খুশী অনাবিল ।
স্বপ্নিল বুকে আমি যে ঘুরাই
ইউরোপ আমেরিকা
আঁধারের মাঝে জ্বেলে দিতে চাই
আলোর অগ্নি শিখা ।
আমার ঠিকানা সীমানা বিহীন
পৃথিবীর মানচিত্র
খেটে খাওয়া যতো শ্রমজীবী হাত
আমি তাহাদের মিত্র ।


ধর্ম

ধর্মের নামে চেঁচায় যাহারা
কোরান হাদিস না পড়ে
তাদের ধারনা ধর্ম বন্দি
টুপি ও পাগড়ি কাপড়ে ।
ধর্ম তো নয় কাপড়ের মাঝে
ধর্ম রয়েছে প্রাণে
ধর্ম এসেছে এই পৃথিবীতে
মানুষের কল্যাণে ।
মন যদি হয় বিষাক্তময়
আগাছায় ভরা নিত্য
কি লাভ তাহলে শরীরটা রেখে
কাপড়েতে পরিবৃত ।
তার চে নেংটা ভালো
শরীরে লাগবে এই পৃথিবীর
স্নিগ্ধ বাতাস ও আলো ।

নেতা

নেতাদের মাঝে দন্ধ বিবাদ
যুগ যুগ ধরে চলিতেছে
পেটের আগুনে জনসাধারণ
ভিতরে ভিতরে জ্বলিতেছে ।
কেউতো শুনেনা তাহাদের কথা
অথবা বুঝেনা হৃদয়ের ব্যথা
নেতারা তো শুধু মঞ্চে উঠিয়া
আপনার কথা বলিতেছে ।
আমাদের দেশে যুগযুগ ধরে
এই রীতিনীতি চলিতেছে ।
নেতার পরেতে নেতারা আসিয়া
কখনো কাঁদিয়া কখনো হাসিয়া
আপন স্বার্থে গণমানুষের
কানটা ধরিয়া মলিতেছে ।
চির কাল ধরে যাহারা ভুখা
বারে খায় যাহারা ধোঁকা
সেই জনগণ করিয়াছে পণ
নেতার বগলে রহিবেনা
গঞ্জ গেরামে চিৎকার শুধু
মিছিলের বোঝা বহিবেনা ।
পেটের বদলে তাহাদের এখন
হাড়েতে আগুন জ্বলিতেছে
যাহাকে পাইবে তাহাকে খাইবে
এই কথা শুধু বলিতেছে
বলিতেছে তারা অনেক কিছু ই ছড়াতে খুলিয়া বলিবো না
আপন হাতেতে নেতানেত্রির কান ধরে আমি মলিবো না

রাজনীতি

রাজনীতি আর রাজনীতি নয়
হয়ে গেছে ভণ্ডামি
রাজনীতিবিদ মঞ্চে উঠিয়া
করে শুধু বাঁদরামি
রাজনীতি আজ করে নাতো কেউ
গণ মানুষের স্বার্থে
সকলেই চায় রাজনীতি করে
মানুষের সুখ কাড়তে ।
তাইতো এখন আমাদের দেশে
রাজনীতি যারা করে
গণমানুষের ঘিন্না ভীষণ
তাহাদের উপরে
সকলেই জানে রাজনীতি আজ হয়ে গেছে
হয়ে গেছে ঘোলা জল
রাজনীতিকেরে সারাটা অঙ্গে
লেগে থাকে নরমল ।

রাজাকার নামা

একাত্তরের যুদ্ধে যারা
পাক বাহিনীর সঙ্গে
খুন-ধর্ষণ করেছিলো খুব
আমাদের এই বঙ্গে
ইয়াহিয়া এবং টিক্কা খানের
এই সব প্রিয় জ্ঞাতি
রাজাকার নামে সে সময় খুব
পেয়েছিলো তারা খ্যাতি
টুপি পাঞ্জাবি শরীরে জড়িয়ে
মুখে নিয়ে তারা ধর্ম
করেছে হাজার রাহাজানি আর
লুণ্ঠন অপকর্ম
সে সময় এই পশুদের দেখে
মানুষেরা হতো ভীত
পশুবৃত্তি করে তারা সবে
হতো যে উল্লাসিত
উজাড় করতে বাংলা বাঙালি
জাতির পুরনো কৃষ্টি
পাক সরকার করেছিলো এই
রাজাকার দল সৃষ্টি
অনেক দলে মুনাফিক সব
হয়ে এক দল ভুক্ত
করতে চেয়েছে শাসন শোষণ
বাংলায় পাকা পোক্ত
কেউ রাজাকার, আল সামস আর
নাম রেখে আল বদর
আগুন লাগিয়ে পুড়িয়েছে তারা
শহর আর বন্দর
তাদের হাতে প্রাণ দিয়েছেন
জ্ঞানীগুণী লোক কতো
শিশিরের ভেজা ঘাসকে করেছে
তাজা খুনে রঞ্জিত
একাত্তরের নয় মাস তারা
করেছিলো যেই কার্য
এর পরিণামে ছিলো তাহাদের
এর পরিণামে ছিলো তাহাদের
মৃত্যুই অনিবার্য
কিন্তু এখনো এই সব লোক
ধর্মের নাম করে
লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে গড়া
এই দেশে বাস করে
রক্তে রাঙানো ঘাসের উপরে
যখন লাফায় তারা
নিঝুম কবরে কেঁদে কেঁদে মরে
শহীদের আত্মারা।

রাজাকার নামা – ২

রাজাকার মানে বন্য শুয়োর
রাজাকার মানে ইতর
লক্ষ ইতর বসবাস করে
একেক জনের ভিতর ।
ধর্মের নাম মুখে নিয়ে যারা
ছড়ায় অবক্ষয়
তাদের বিনাশ করতে এখন
বাঙালি অকুতোভয়
বাঙলা নামের দেশেতে রয়েছে
ইতর প্রাণীরা যতো
তাদের নিধন করতে বাঙালি
নিচ্ছে আজকে ব্রত ।

ঘুম তাড়াবার মন্ত্র

আমার ছড়া একটু কড়া
আমার ছড়া তিক্ত
আমার ছড়ায় কটুকথা
একটু অতিরিক্ত।
আমার ছড়া আগুন ঝরা
দিন বদলের যন্ত্র
আমার ছড়ায় ছড়িয়ে আছে
ঘুম তাড়াবার মন্ত্র।

আমের গাছে কাঁটা এখন
জামের গাছে আঠা
চিতা বাঘে রূপ ধরেছে
তাইতো এখন পাঠা!
সিংহ মামার বেশে চলে
গরু ছাগল মেষে
এমনি আজব কাণ্ড এখন
চলছে আশেপাশে।
মশা মাছির কণ্ঠে বাজে
কোকিল পাখির গান
দিনের বেলা সূর্যের আলো
তাইতো লাগে ম্লান।
মনের কথা বলতে এখন
ভাল্লাগেনা আর
চতুর্দিকে ঘিরে আছে
অদ্ভুত আঁধার।


আমরাতো নই মূকও বধির
নয় মোটেও কানা
চতুর্পাশে হচ্ছেটা কি
তা সকলের জানা।
আমের গাছে ধরছে কাঁঠাল
কাঁঠাল গাছে লিচু
রোদ ঝলমল ফাগুন দিনে
স্পষ্ট সকল কিছু।
গাধা এবং ঘোড়ার যেন
আজকে হাতির বেশ
কুকুর বেড়াল বাঘ সেজেছে
নেই শরমের লেশ।
ছাগল ভেড়া গরুর সাজে
ব্যাঙ হয়েছে পাখি
ঝুলিয়ে মুলা দিচ্ছে সবাই
শুভঙ্করের ফাঁকি !
লজ্জা কোথায় রাখি
আহা লজ্জা কোথায় রাখি!







Discover more from Shikor

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান

Trending