বেলাল চৌধুরী
শামীম আজাদ আশির দশকের অত্যন্ত পরিচিত কবি। তাঁর কবিতার বই- ‘স্পর্শের অপেক্ষা’, ‘ভালোবাসার কবিতা’, ‘হে যুবক তোমার ভবিষ্যত’, ‘ওম, ‘জিয়ল জখম’। এছাড়া বিভিন্ন লিটল ম্যাগাজিনেও তার কয়েকটি কবিতা-পান্ডুলিপি বের হয়েছে; যেমন জিয়ল জখম, জন্মান্ধ জুপিটার ইত্যাদি।
নব্বুইয়ের দশক থেকে তার বসবাস শিল্পসাহিত্যের অন্যতম র্তীথভূমি ইংল্যান্ডে।বর্তমানে কবিতা গল্প, উপন্যাস , নাটক, শিশু সাহিত্য, প্রবন্ধ এসব নিয়েই তার জীবণ যাপন। এ নিয়েই ডকল্যান্ড মিউজিয়াম, স্যান্ডারল্যান্ড সিটি লাইব্রেরী ও আর্টস সেন্টার, পেয়েট্রি সোসাইটি, ম্যাজিক মি, ও সামার ইউনিভার্সিটিতে যুক্ত ছিলেন। এখন এ্যাপল্স এ্যান্ড øেইক্স এর আবাসিক কবি হিসেবে কাজ করছেন।
সাম্প্রতিক কবিতায় শামীম আজাদ নতুন অবয়বে নিজেকে উপস্থাপন করেছেন। তার আগেকার কবিতাবিশ্বের সাথে এখনকার কবিতাস্বরের মৌল তফাত উৎসুক পাঠকের পক্ষে খুঁজে পাওয়া কঠিন নয়।
শব্দকে তিনি যেন মাটি খুঁড়ে বের করে আনছেন। আর সে শব্দের গায়ে পরিয়ে দিচ্ছেন জলের পোষাক। কিন্তু তাই বলে নেহায়েত প্রাকৃতিক সুরেই শান্ত নয় তার কবিতারা। বরং গভীরতর বিষয়আশয়ের ভারে মন্দ্রিত।কখনো হৃদয়বৃত্তি, কখনো স্বদেশ বৃত্তি, কখনো এই চেনা পৃথিবীর বাইরে দার্শনিক অনুধ্যান ঋদ্ধ করে শামীম আজাদের নিটোল কবিতাকে। কেমন সহজ আর গাঢ়
উচ্চারণ-
‘বায়ুর আদর নাও
নক্ষত্রের নদী ধরে হাঁটো
জন্মের দাগ ছুঁয়ে বড় হও
জ্যোতির লাঙল।
মুক্তি যোদ্ধা হও
হও অতিক্রান্ত সময়ের সুখ…
উদগ্র শ্রাবণ,
পিতা ও পুত্র আমার
এ বিশ্রী মৌসুম আর অসুখ পেরোও।
নখের পৈঠায় আনো আম্রকারণ (আর্শবাদ; ওম)
‘জন্মান্ধ জুপিটারে’ এ আমরা এমন অভিনবতার সম্মুখিন হব যা কবির কল্পনা ও শ্রমের যুগলবন্দী র্নিমাণ-
আমি জ্বলি
সূর্যের রাতে
চন্দ্র প্রভাতে
জালিম জালিম ঋতু রোষে
এই পৃথিবীর এমন বরাতে (ভাগ্য)
যে কবি ‘জালিম জালিম’ ঋতুর স্রষ্টা সে কবিকেই আবার তার সর্বসাম্প্রতিক কবিতায় দেখছি- ’সম্প্রদান কারকে সব নি:শেষ? শুধু হাড়টুকু আছে বাকি।’ ( সায়াহ্ন)
অথবা
বাহান্ন হাজার রোমের জঙ্গল আর বত্রিশ উঠান
এখনো ক‚শ, কাম আর বাহুর মোকাম।
প্রতিদিন সৌর রাষ্ট্র হতে আনে নতুন ভাষা ও ব্যকরণ
অহরকন্ডল তারে খুঁজে খুঁজে
প্রতিরাতে পিঙ্গল পালক ছড়িয়ে করে যে ক্রন্দন।
অন্ধ সিথানে তাই ঘাম জমিতেছে
গজাতেছে নতুন নৃশংসতা
আড়ষ্ঠ আদত-নামা
সব্জির সংক্ষুব্ধ বিছানা।
রোমরাজি জ্ঞাতি খোঁজে
যে কোনো মূল্যেই হতে হবে ধাতব পরাগায়ণ। ( জন্মান্ধ জুপিটার; পালকের সর)
এভাবে শামীম আজাদের কবিতায় পেলব অনুভব পরিণত হয় শক্ত লাবন্যে।






এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান