সাদিয়া নাজিব

কবি শামীম আজাদ কে সচক্ষে দেখার খুব মনোবাসনা ছিলো আমার।অন্তরের কথা জানেন শুধু অন্তর্যামী। তাই একদিন সেই মাহেন্দ্রক্ষণ উপস্থিত হলো।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে আয়োজিত এক কাব্যসন্ধ্যায় প্রথম তাঁকে দেখি।সাগ্রহে তাঁর পদধূলি নিয়ে নিজেকে সমৃদ্ধ করি।একই আসরে নিজের কবিতাও শোনানোর সুযোগ হয়।কবি বললেন, পাঠক সমাবেশের মঙ্গল সন্ধ্যার বৈঠকে এসো।
কবিকে আবার দেখলাম এবং জানলাম। নিজেকে তিনি পিরানী কবি বলেন, ঠাট্টাচ্ছলে! কিন্তু এই শব্দটি আমার মর্মে গেঁথে যায়।সত্যিই তো, কবির উপরে আসলেই কোনো দৈব প্রভাবিত অনুগ্রহের ব্যাপার ঘটে, তা নইলে বিদেশ বিভূঁইয়ে এমন বাঙালি হয়ে থাকা যায়! অমন মায়াময় বাংলা ভাষায় কখনো শব্দে আগুনের হল্কা কখনো পুষ্পসুবাস আবার কখনো নদীর ছলাৎ ছলাৎ শব্দ জেগে ওঠে!
আসলে কবি শামীম আজাদ নিজেই বিজয় ফুল।
দুর্লভ এক রত্নভান্ডার। অত্যন্ত মেধাবী, জন্মগতভাবেই ভীষণ সপ্রতিভ, শ্রীময়ী,মায়াময়ী, আবেগপ্রবণ, বন্ধুবৎসল বর্ণীল এক বৈদুর্যমণি।
একজন অনুরাগী পাঠক হিসেবে যার জন্য দীর্ঘকাল অপেক্ষার প্রহর গোনা যায়! একটিবার দর্শনের জন্য উড়িয়ে দেওয়া যায় নিজের মূল্যবান সময়, তিনি সেই আরাধ্য।
কবির পেশাগত জীবন শিক্ষকতার ছিলো বলে দেশে ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অসংখ্য শিক্ষার্থী ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। তা সত্ত্বেও নিজেকে একজন কবি হিসেবেই পরিচয় দিতে তিনি বেশী ভালোবাসেন।
যুক্তরাজ্য সহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে তিনি story teller হিসেবে অত্যন্ত জনপ্রিয়।গল্পকথক শামীম আজাদ বা story teller শামীম আজাদের সাথে আমি অনলাইনে একটি গল্প বলার প্রোগ্রাম করেছিলাম।তখন তাঁকে আবিষ্কার করি একজন যাদুকরের মতো যে তাঁর ঝোলার ভেতর থেকে একটি একটি করে যাদুকরী শব্দ বের করে তার সাথে মুখভঙ্গির বিভিন্ন ঢংয়ের মিশেলে সৃষ্টি করেন অভূতপূর্ব প্রপঞ্চ। তিনি যেখানে অবস্থান করেন, সেই স্থানটি নিমেষে হয়ে ওঠে যেন আনন্দোদ্যান।
কবির কাছ থেকে শিখেছি কিভাবে অন্দরমহল এবং কর্মস্থলের সাথে সমন্বয় করে নিজের অস্তিত্বের কলম কে মোম শিখা টির মতো জ্বালিয়ে রাখতে হয়।
তাঁর অত্যন্ত অর্থবহ কবিতা ‘কইন্যা কিচ্ছা’র ভেতরে নারীর পরম্পরা, অবস্থান আবেগ সিলেটের আঞ্চলিক ভাষায় চমৎকারভাবে উঠে এসেছে। প্রমিত ভাষায় যেমন তিনি লিখেন তেমনি সিলেটের আঞ্চলিক ভাষায় ও লিখেন। কবি একাধারে কবিতাসহ সাহিত্যের অন্যান্য শাখায় স্বচ্ছন্দ এবং দুর্নিবার। শিক্ষকতা করেছেন, সাংবাদিকতা করেছেন। উপস্থাপনার ভুবনেও রেখেছেন প্রতিভার সাক্ষর।
আবার বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে কবির প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অংশগ্রহণ বিভিন্ন সময়ে তাঁর লেখায় আমরা খুঁজে পাই। আসলে একজন পূর্ণাঙ্গ শিল্পীর প্রতিরূপ কবি শামীম আজাদ।
প্রাণপ্রাচুর্যে ভরা এই গুণি মানুষটির জন্মদিনে তাঁর চরণে পুস্পার্ঘ্য নিবেদন করছি।
সাদিয়া নাজিব
সহসম্পাদক
শিকড় ও গ্লোবাল পোয়েট এন্ড পোয়েট্রি
ঢাকা,বাংলাদেশ






এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান