বিলাপ

ক্রন্দন,
তুমি ভালবাসো গোপন মানুষ দুয়োকথা
আর বেগুনী বিষের থালা,
বইয়ের ভেতরে চাপাপড়া ফুল
ক্লেদের সাবানে কেচে রাখা ব্যথা
আর আমার অন্তর্জ্বালা।

কেন আমি পড়ি তোরই প্রেমে
বাঁধি দুই পা রক্ত নূপু্রে,
কষ্ট গুঁড়োর উপটনে মাজি
এই শ্যামল বরণ গা
আমি বুঝতেই পারি না !

ক্রন্দন,
তুমি যাও চলে যাও দূরে বসে থাকো
ঐ কার্নিশে একা
এ বেদনা যেদিন হইবে বিলাস
সেদিন করিও দেখা॥


যেখানে, সেখানেই

পা তুলে বসেছি কাপের উপর
নেশা ভরপুর সোনালী সুরত চা
চা-রস তলানি বুকের ঢিবিতে
দুধে ক্রিমে ঋণে হাল্কা হাল্কা গা।

ভাবনা ভালুক ট্রে’তে উঠে গেছে
চিনিবাটি নিয়ে ভাসছে
বিলেতি বাতাসে ড্যাফোডিলগুলো
তবু বৈশাখ লিখে যাচ্ছে।।


পাপোষ

কেউ কথা বেঁচে কেউ কথা সেঁচে
জীবন পালন করে কথা নেচে নেচে।
কারো কথা ফুলে ভরা কারো কথা ভুলে
কারো কথা চুবচুবে ডুবে থাকে তেলে।

কথার চাতুরি করে কেউ করে চুরি
সেই চোর চর হয়ে করে নেতাগিরি।
নেতাগুলো দেশে দেশে করে কারবার
কথা দিয়ে কথা ফেলে করে ছাড়খার।

কথাগুলো ভাষাহীন হয়ে যায় যেই
সেই দেশ মরে যায় শেষ হয় সেই।
বাংলা ভাষার তরে নেই যে আপোষ
তাহা ছেড়ে দিলে তুমি হবে যে পাপোষ॥

ডাক

এসো, এ দেহসংস্থানে
রক্তহীন করে যাচাই করো তরলতা
হাড়ের বল্কল খুলে অতিক্রম করে যাও অনন্ত প্রত্যাশা
এসো, আর্য়ুবেদিক উপমায়
গলিত দস্তার মাপে বসে যাও গন্ধমাদন।

আবার উচ্চারিত হোক প্রজাপতি পাঠ
রাতের আঁশ ছিঁড়ে হোক সংলাপ
আকাশের আরক থেকে গাত্রবর্ণ পিছলে পড়ুক গরম গরম
বহুদিন পর শরত-কুয়াশা হোক অন্য রকম।।


ডাকবাক্সের ঠিকানা

তোমার ঠিকানা খুঁজতে খুঁজতে
সেই কবে যাত্রা করে-
পায়ে পায়ে প্যাডেল মেরে
চনমনে ঢাকার চাঁনখাঁ’র পুল থেকে
লন্ডনের লেগুনে এসে গেছি!
ইতোমধ্যে কতজন এলো গেলো
তারা কী পরম পেলো বা পেলো না
আমারই ঘটে গেলো এ দূর্ঘটনা।

হাওয়াতে ছিল প্রচণ্ড হুজ্জতি
গাছের নিচে মাছের চোখের মতো
লাল লাল চেরী গড়াচ্ছিলো
তাড়াহুড়োতে পা হড়কে গেলো।
ঘাস খুবলে ধরতেই …
শিশিরের বদলে এক সুশ্রী সরীসৃপ
আমার মুঠো গলে পাতা পেরিয়ে
পৎপতিয়ে নিষ্কালো
উপরে, ঐ উঁচুতেই এবং মুহূর্তেই
গা থেকে লাল সিঁদুর ছেড়ে দিয়ে
বারোয়ারী এ বৃক্ষে নিজ ঠিকানা এঁকে
আমাকে উদ্বাস্তু করে দিলো।
এখন কোথায় যাবো বলো?

কতকাল ধরে এই লিলুয়া লী নদীতীরে
আমার ইচ্ছের ফুষ্কুরিগুলো
টকটকে চেরীর মতো সুপক্ক হয়ে আছে –
বালিশের নিচে সঞ্চিত হয়েছে
বিস্তর বিহ্বলতার বিন্দু আর
সোনার সেমিজ বিরহরসে
ভিজে জবজবে হয়ে গেছে!

মনে কি পড়ে, কী ছিলো শেষ কথাটা?
বিচ্ছেদের বিরান মাঠে দাঁড়িয়ে বলেছিলে,
-ভালো থেকো, আমাকে পত্র দিও,
লিখো তোমার মত করে যা তা!

মনে মনে বলেছিলাম,
-তুমি বললে বলেই আমি ভাল থাকব কিনা
সেটাও তো কথা!

সেই থেকে আমাদের দু’জনের উপরেই কিন্তু
একই আকাশ ছাদ হয়ে আছে ।
সঙ্গে আরো কত শত কোটি কোটি মানুষ
তবে এই পুরাতন আকাশই একমাত্র ঠিকানা।
তাই কি আমার চিঠি
তোমাকে খুঁজে পায়নি, প্রিয়তম?
তাহলে তুমিই বরং লেখো না আমাকে,
ধরে নাও এই আমার পরগনা।

তুমি লিখলেই,
এই শতবর্ষজীবি সিকামোর অথবা
পিঠের পেছনের ঐ প্লাটানস
যে কেউ আমার ডাকবাক্স হয়ে যাবে।
তোমার দানিয়ূব আমার দরিয়া হবে
এই পূরবী হবে ঐ বিভাস,
তোমার ঘুরন্ত ঘুড়ি মৌলিক ঠিকানা পাবে।
সুতোর ঐ প্রান্ত ছিঁড়ে নিলেই
উড়তে উড়তে ঠিক এসে
আটকে যাবে আমার খোঁচা খোঁচা ন্যাটেলে,
এ রক্তগাছের আশেপাশে
মানুষ ফিরে যাবে আবার
চিঠি লেখার বিস্মৃত অভ্যাসে।

ভুল হবার আশংকা নেই
পৃথিবীতে এরকম গাছ এখন একটিই,
যার নিচে নিরানব্বুই বছর ধরে
একজন আহত কবি পড়ে আছে।।


অদূর অতীত

এখন আর চোখও বুঁজতেও হয় না
জেগেই দেখা যায় হারানো সভ‍্যতা
আশ্চর্য ফুলের পর্দা,
হৃদয় উৎসারিত সম্পৃতির ফোয়ারা
অদূরেই… ঐ অদূরেই…

মেঘ-ফুল- হাওয়া দৃশ‍্যমান হয়
নাভীতে নোঙর টানে কী প্রবল!
কে আমাকে এখনও উড়ায়,
কার এত বল?

বাতাসে চাষাবাদ করছি
এই যে এই সেই পলি
এ আমাদের পূর্ব পুরুষের কর্ষণ করা
মাটি, আলো, জল।
তাঁদের চোখ ছিল রক্তজবা
পিঠে ছিল ট্যাঙ্কের দাগ।
বুটের বাড়ি খেয়েও
চিৎকার করে ওঁরা
বাংলায় কথা বলেছিলো-
কাঁপিয়ে ছিলো ভূতল॥


পিথাগরাস ও পারিজাত

চার হাজার দুশো ফুট ওপরে
নব্য হেলিকপ্টার সাঁতরাচ্ছে।
প্রপেলারের ঝাপ্টায়
পিঁপড়ে, পশু, পুলিশ কিছুই
দাঁড়াতে পারছে না।
তুমি গ্রীবার আড়ালে
হিমবাহু হাসিতে স্মরণ করালে-
আমরা এখন আর
কোন ভালবাসার ভ্রুণ তো নয়ই
এমনকি দুপৃষ্ঠার বেশি কোন বক্তৃতা
কিংবা বাতাবি লেবুর ঘ্রাণও নিতে পারিনা।

কে জানে কতদিন
আকাশের চিমনী পরিষ্কার হয়নি,
বনান্তরে কূুঁচবর্ণ ফল ও ফড়িং পচে যাচ্ছে,
ভয়ের করাত কাটছে মতামহী নদীর জল,
সমুদ্রতটে ঠোঁটের ফুস্কুরি দেখে বোঝা যায়
প্রতিরাতে পৃথিবীর গায়ে জ্বর আসছে,
স্বপ্নে তৈরি জোৎস্নার গুড় মুঠোর ভেতরই গুঁড়িয়ে যাচ্ছে।

অথচ বছর কয়েক আগে
আমরাই না পারিজাত আর পিথাগরাসকে
এক বেঞ্চিতে বসিয়ে পান করেছি হাজার গেলাশ!
তখন ঘোর বর্ষায় তো বটেই
কুয়াশাতেও নখ ডোবালে চিহ্ন হয়ে যেতো
পাড়ায় সবচেয়ে মেধাবী মেয়েটিকেও
আমাদের পাশে লাগতো যেন
ফাঁপা মাকড়সা।
বাবুর্চি সালামত পাকিস্তান হতে হাত পাকিয়ে
দাঁড়িতে মেহেদী লাগিয়ে দাঁড়ালেও
শাহবাগের ওষুধ তাকে কিনতেই হতো।

এমন মামুলি এক স্বপ্নে কিন্তু
এক তুমুল দৌড়ে আবদ্ধ হয়ে আছি।
সামনে দিয়ে গাড়ির ফ্রন্ট সিটে বসে
চলে যাচ্ছে আমার চাঁদ।
ম্লানমুখ, অশ্রু আঁখি।
পেছনে তাকিয়ে দেখি বুড়িগঙ্গা তো বটেই
একটি চাপকলও অবশিষ্ট নেই
আমার গেলাসের জলও অর্ধেক
মাটির নিচে মারাত্মক আর্সেনিক।
পিওর জল এখন শুধু আমাদের চোখে।

কুয়াশার পেট চিড়ে
প্রভাতের লাশ উঠে আসছে
পেছনেই অকার্যকর ও অকেজো সংসদ
কিন্তু তাদের গায়ে টকটক করছে
একাত্তরের ট্যাংকের চাকার দাগ।
আগাম আমিষ চাষের বীজ
এখন শুধু আমাদের হাতে।


ক্রমশ:

তোমারই কারনে মজুফ,
আকাশ আলনা ছেড়ে
চিলের চিক চিকে ডানা
আমার চোখের ভেতরই
উড়াউড়ি করে।
শীত নেমে এলে,
ঊষার উষ্ণতা নিয়ে
গরম স্যূপের বাটি আমারে
জড়াইয়া ধরে।
বৃ্ষ্টিবালা দিনে, রাত্রিমাখা রাতে
এ দু’খানা চোখের থানে কত গল্প,
মিষ্টি কথা-
ঝালমুড়ি, রবীন্দ্রনাথ, কত ট্রেন চলে।

এ তথ্য নতুন নয়
এমনি সকলের হয়
যার যার নিজস্ব কেবিনে ও মনে।

হয় বিস্ময় কারুকার্যময়
দ্রাক্ষাকুঞ্জ দেরাজে, ইলেক্ট্রিক গিটারের কিটে,
ময়নামতি বা মরুভূমে,
স্যান্ডউইচ সাংগ্রিয়া সাথে
এমনি উতলা উদলা বুকে।

তোমার কারনেই
পরিশ্রান্ত ক্লান্ত এ দু’টি চোখ
পৃথিবীর সব পতন পরাজয় ও ধরে।

আমার ছিল তা
একদা একদিন,
তারপর হয়েছে তা
অনেক-অনেক প্রতিদিন,
আর তা এখন নিত্যদিন হয়ে
মূহুর্মূহু হয়,
হবে, এই তো এক্ষুনি,
এই একটু খানি পরে!


অতন্দ্রী

চন্দ্রচূর্ণ ঝরে গেলে,
ঘুমছায়া সরে গেলে
আমি তোর তাপ টের পাই।

যদি সরে যাস!
জেগে থাকি ভয়ে
নানান অনুনয়ে।

সোনাবন্ধু,
হৃদপিন্ডও পাহারা দেয়
তোমায় …তোমায়।


বৃষ্টি ও ব্যকুলতা

বর্ষায় বেড়াভেঙে স্বপ্নরা পালাচ্ছে,
জল ককটেলের শব্দে বেদনাও ভেঙে যাচ্ছে ,
অনির্ধারিত এ উত্তেজনায়
তির তির করে কাঁপছে মৃত্যুমুখী মন।

‘মহা চিন্তায় আছি বন্ধুরে
এখনো যে ডোনার কার্ড এলো না’!

বৃষ্টি বাগানে বর্ষাপথে বালিকা বিহারে ছিলাম-
বাতাসে হাঁসের সাঁতার ছিলো,
কান্তিময়ী ইচ্ছা ছিলো,
সবকিছুতেই সামগ্রিক সমতা আনতে
একটু দূরে সরে
নিরলে নখ কেটে সমান করতে গিয়ে
নার্ভাস হয়ে দিলাম রেশ কেটে!

আর যাই কোথায়?
কাটা গোলাপ থেকে বেশুমার
কবর ঝরতে লাগলো ধুম ধাম …
উড়তে লাগলো ঘুড়ি
বাকাট্টা …. লুট যে পারো … ধরো।

এখন উঠে বসেছি এমন এক অন্ধ ট্রেনে
যার শব্দের চুল উড়ে উড়ে
ভৈরবের ব্রীজ ছুঁয়ে ছুঁয়ে যাচ্ছে।

আত্মহত্যা চাখার এমন উপযুক্ত সময় আর হবে না……

তারপর বর্ষাপথে কাঁটা তারের বেড়ায় মনোবাঞ্ছাগুলো টানানো হবে
তাতে সত্যি কেউ আর
বৃষ্টি দেখে এ্যাত্তগুলা ব্যকুলতা দেখাবে না।


উপলব্ধি

নদীর পা’য়ে পলক ফেলছি
রোদজলে হাড় মাথা দাঁত পা
জলের জানালায় কে দাঁড়িয়ে ওখানে
বুঝতে পারছি না।

ডি ভিটামিনে ভালো করে ভিজে
হাড়গুলো পাড়ে উঠলেই
পুনর্স্থাপনে আঠার বদলে
ঐ রোদ কাজে লাগবেই।

জানালার তুমি, কি করিছো বলো
জল কি এসেছো মাপিতে
তারও যে স্নায়ুতে ব্যথা ও কান্না
তাহা কি পেরেছো বুঝিতে !

প্রকৃতিরও গা মানুষের মতন
মানুষের মতই প্রকৃতি
বস্ত্র ও শাস্ত্র তুলে নিলে পাবে
সবার সমান মুরতি।

নিশ্চিত নির্ভর

সমস্তই টলে গেছে
ঝরে গেছে কত পুরাতন প্রাণ
ঝাপসা হইয়া গেছে
শ্যাষ হয়ে গেছে
সব সোনা সোনা ধান।

তবু কী আশ্চর্য
এত সব অযুত আঘাতের পরও
কী করে রয়ে গেছে
আস্ত দ্যাশ খান!
আর আছে

উচ্চস্বর-ক্রন্দন করিবার মত
মাথার উপরে স্থির বসে থাকা
বেয়াকুফ আসমান।

কখনো ছাড়েনা তারা
এই অভাগাদিগের,
ছুঁড়েনিতো কোনদিন,
করেনাই দিকদারী আর
অযাচিত ব্যাখ্যা ও বয়ান।

সর্বদাই রয়েছে সঙ্গে
এই পোড়া বিদেশেও
আজন্ম দাঁড়িয়ে আছে
যেন সন্তানের দোরের কাছে
আমাদের জননী ও জনক সমান।

এই শ্রাবণের পূর্ণিমায়

রৌদ্রপিণ্ড সরে গেছে কখন!
পায়ে পায়ে গলে গেছে আলোর আঙ্গুর।
প্রেমপন্থ বেগবান হয়ে উঠছে
বনের বাটিগুলো উপচে দিয়েছে ঘ্রাণ।

সেই কবে খসে গেছে
সন্তরণশীল হলুদ পা!
মগজে যে বীজগুলো পোঁতা ছিলো
তাতে ফলেছে অনন্ত উড়াল।
পূর্ণিমাও বোকা হয়ে গেছে
আর কোন বুজরুকি চলবে না।

মনে পড়ে একদিন
ঐ বেগুনী কুয়াশার চন্দ্রসিঁড়িতে
ভাসিয়ে দিয়েছিলাম
আমাদের নীল লাশ ?
সে বছর থেকেই দেখছি
তুমি চিন্তার থুতনিতে
ভর দিয়ে আছো।
আর কত একা একা
সয়ে যাবো ধৈর্যের কামড়?

কঠিন কর্তব্যের বাঁকে বাঁকে
সঞ্চিত আগ্রহের আবেশে
তৈরি করেছি প্রতিশ্রুতি,
নিয়তির বোতলে ফোঁটা ফোঁটা করে
সঞ্চয় করেছি উজ্জীবনের আলতা।

সে আলতা পায়ে
অপেক্ষার কুঞ্জে বসে আছি
আংটি পরাবো, এসো।


শিরোনামহীন

স্মৃতি ও প্রীতি আর যা কিছু অবশিষ্ট
ছিল পরিমিতি
মিলিয়ে দেখি,
যে এসেছিলো আর যে চলে গেলো-
তারা সমিল ছিল না।
এ ছিল আমূল অন্য কোন জন,
অচেনা অন্য কারো বীভৎস ওজন।

সে কী করে এত বদলালো
সেই একদিনের অমূল্য কথা
অলিক করে,
চিরদিনের দু:সহ স্মৃতি করে দিলো।

বলেছিলাম, পুরোটা না
একটু একটু ভাঙো
বদলাও, ঘষো নিজেরে
না হলে যে গল্প গরম রবে না-

স্পষ্ট মনে আছে
ব্যাংক ও বীমা এক করে
দুই জোড়া জিবরাইলের ডানা খেঁটে যাচ্ছিলাম
পতঙ্গকে পাখি ভেবে
পয়ারের পাহাড়ে পাহাড়ে আর
আকাশের অখণ্ড ধাতবের সমান্তরাল
উড়ছিলাম।

হয়তো ব্যথা জমছিলো
পালকের অগোচরে
ডানা ধরে এলো তার ভারে
বুঝিনি মানুষ দেবার কালটাই
রাখে মনে, নেবারটা না।

তুমিও কি জানতে না
যে লটকে ছিলে আমারেই ধরে
না হলে তুমিও কেন পড়ে গেলে!

মাটিতে পা গাঁথতে সময় নিলাম
পুরো দু’বছর
তারপর আজ বললাম,
কথা না দিয়েছিলে কথা রাখার?

তাকিয়ে বুঝি
কী বলছি একে এসব! যত্ত সব-
কথা দেবার সে লোক
আর কথা তুলে নেবার এ ব্লোক
তো একদম এক না।


এই শ্রাবণের পূর্ণিমায়

রৌদ্রপিণ্ড সরে গেছে কখন!
পায়ে পায়ে গলে গেছে আলোর আঙ্গুর।
প্রেমপন্থ বেগবান হয়ে উঠছে
বনের বাটিগুলো উপচে দিয়েছে ঘ্রাণ।

সেই কবে খসে গেছে
সন্তরণশীল হলুদ পা!
মগজে যে বীজগুলো পোঁতা ছিলো
তাতে ফলেছে অনন্ত উড়াল।
পূর্ণিমাও বোকা হয়ে গেছে
আর কোন বুজরুকি চলবে না।

মনে পড়ে একদিন
ঐ বেগুনী কুয়াশার চন্দ্রসিঁড়িতে
ভাসিয়ে দিয়েছিলাম
আমাদের নীল লাশ ?
সে বছর থেকেই দেখছি
তুমি চিন্তার থুতনিতে
ভর দিয়ে আছো।
আর কত একা একা
সয়ে যাবো ধৈর্যের কামড়?

কঠিন কর্তব্যের বাঁকে বাঁকে
সঞ্চিত আগ্রহের আবেশে
তৈরি করেছি প্রতিশ্রুতি,
নিয়তির বোতলে ফোঁটা ফোঁটা করে
সঞ্চয় করেছি উজ্জীবনের আলতা।

সে আলতা পায়ে
অপেক্ষার কুঞ্জে বসে আছি
আংটি পরাবো, এসো।


বহু বিকল্প

আগস্টের বাসী আকাশ থেকে
অবশিষ্ট আপেল ফেটে পড়ছে
পাতার পাঁজর মট্‌ মট্‌ করছে
সন্ধ্যার চোখে চোখে অনাগত
শীত-কাফনের চৌরাস্তা।

তুমি হাঁটতে থাকলে
যে রাস্তা ওল্ডফোর্ড পেট্রল পাম্পের দিকে চলে গেছে।

ভেবেছিলাম চমকানো চুলগুলো দিয়ে
টাইফুন গিট বেঁধে
বাতাসের কোমর ধরে ফেলবো
শীত নিদ্রার আগেই আটকাবো
ভাবনা-ভালুকটাকে।

তার বদলে আমি এখন
তিনটি রাস্তা পেয়ে গেছি।
আর কোন পার্কিং প্যানাল্টি লাগবে না
গাছে গাছে উড়বে না বৃহন্নলার রোদ
এবং উদ্ধত ঊষা দাঁড়িয়ে থাকবে
যতক্ষণ লাগবে আমার।

তুমি যাচ্ছো, যাও-

কণ্ঠের কাঁটা তুলে নিলে
কে আর বসে থাকে?


মালিকানা

এ এমন মাটি যে মমী গলে গলে
গাজর গজায়
ভোর বেলা পায়ে বাজে ঘাসের ঘুঙ্গুর
প্রতিবেশি পালং, বাতাসের বারিতে ফাটে হর্স চেস্টনাট
ওদিকে গহনাচেরী
আর যত বাগানের ফুল
একসাথে তুলে আনে জুন ও ফাগুন

পেছনের বাগানে বিজিলিজি, বেগুন টম্যটোর টাল
ইলফোর্ডে আমার ব্যাক ইয়ার্ড
সেই কবে লাল সেতু তীরে
নাও নিয়ে ভিড়েছিলাম…

চেলসির চঞ্চু চষে
ফরাসী বীজ থেকে বেড়ে ওঠা বসরাই ফুল,
রোজমেরী হার্ব— হৃদরোগ নিরামক রশুন
বর্ষার ঠিক আগে আগেই ব্রিকলেনের বোতাম খুলে
অনাবাসী তিমিরের
তিরতির করে বয়ে যাওয়া সুরমার তুন

তাতেই কি এ মাটি, এই সামার
রাত জাগা যত যত তারার খামার
সকলেরই প্রভু আমি

কিন্তু তা না হলেও
হয়তো গোলাপের মাপ আরো বড় হতো
পিটুনিয়া, পপি হয়ে যেতো সূর্যমুখী ছবি
অন্যকোন কবি
একদিন দৈব ভোরে
এভাবেই বা অন্যকোন ভাবে
এ পৃথিবীর স্নায়ু ধুয়ে দিতো
চাঁদের মলম দিয়ে মমতার এই মাঠে কবিতার ফুল ফোটাতো

জানিনা তখন এভাবে তারো কি মনে হতো
সেই ফুল সে বাগান
জলস্রোতে জলন্ত জোছনা
দ্বিপ্রহরের দারুচিনি ঘ্রাণ
সে শুধু তাহার সৃষ্টি-
সে শুধু তাহার




Discover more from Shikor

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান

Trending