শামীম আজাদ
একটু একটু করে ভোর হচ্ছে। বাইরে হেমন্তের শেষ শীত। আলো নিভিয়ে পর্দা সরাতেই দেখি কুয়াশার বুক চিরে সূর্যের চিকন আলো উঠে আসছে। ঘন কুয়াশায় ঢেকে আছে রাস্তার ওপারের বার্চ ও খয়েরি বৃদ্ধাশ্রম। ঝুলে আছে লাইট পোস্টের বাতি শেক্সপিয়রের সনেট তিয়াত্তরের অটামের মরা হলদেটে শেষ পাতাটির মতো। কুয়াশায় তার মুখখানাও আবছা। পৃথিবীর যেখানেই থাকি না কেন এরকম ঘন কুয়াশা দেখলে, গায়ে শীতশীত লাগলে আমার স্মৃতি খুলে যায় আর তাজা খেজুর গাছের রসের ঘ্রাণে মন ম ম করে।
প্রায় ছয় দশক আগে স্কুলের ছুটিতে যখন মুরুজপুর গ্রামের বাড়ি যেতাম তখন মৌলভীবাজার থেকে ছোট্ট নৌকায় মনু নদ পেরিয়ে হাঁটাপথ ধরতে হত। দাদার বাড়ি দৃশ্যমান হয়ে ওঠার আগেই সবার আগে দেখা যেত পুকুর ঘাটের পুরানো দুই খেজুর গাছ। পরদিন ঘুম ভাঙলেই মাটির কলসি ভরা রস নিয়ে আসতো ইয়াস পুতি। সুমিষ্ট সেই রস খেতে খেতেই রান্না ঘর থেকে ভেসে আসতো পিঠার জন্য রস ঘন করার সুগন্ধ। শুনতে পেতাম চাল গুঁড়ো করার ঢেঁকির শব্দ। তাড়াহুড়া করে নিমের মাজনে দাঁত মেজে মুখ ধুয়ে বেতের হাতে বোনা নকশি করা পাটিতে খদ্দরের চাদরে গা মুড়ে চুলোর ধারে বসেই খেতাম গরম গরম পিঠা। বাসন ভরে উঠতো পিঠায়। গরুর খাঁটি দুধ আর খেজুরের ঘন রসে ডুবে থাকা পিঠার কথা মনে করতে করতেই বারান্দা থেকে ঘরে প্রবেশ করলাম। বিলেতের শীতে এতক্ষণ বাইরে থাকা যায় না।
ভেতরে এসে কফির জল গরম করতে করতে মনে হল মহান শিল্পী এস এম সুলতানের আঁকা বিশালাকৃতির ক্যানভাসে দেখা আমাদের সম্পন্ন ও ঋজু গ্রাম বাংলার ছবির কথা। বিশেষ করে তাঁর সেই অসাধারণ ছবি যেটাতে সর্ষে রঙা রোদ আর স্বাস্থ্যবতী বাঙালি রমনী পিঁড়িতে বসে বাঁকানো বটি দা’য়ে মাছ কাটছেন। কী অপূর্ব!
আমার ছোটবেলায় গ্রামগুলো যেন অরগ্যানিক ছিলো। আনন্দগুলো ছিলো। হিন্দু-মুসলমানের ছিলো মিলিত আখ্যান। নানান আনন্দ-আয়োজনের ফাঁকে আজান, কাঁসার ঘণ্টা, নাড়ু ও নামাজ আসা-যাওয়া করতো অনায়াসে, পরম্পরায়। মেজমামা আলি মেহেদী খানের কর্মস্থান পটিয়ায় হ্যাজাক বাতির আলোয় তাবুর নিচে সবাই জম্পেস করে দেখেছি ‘রূপবান’ যাত্রাপালা। দিনের শেষে প্রচণ্ড পড়ুয়া নানীর কাছে গল্প শুনে শুনে বা মায়ের গুনগুনানিতে লালাবাই শুনে ঘুমিয়ে পড়েছি। সে সব উচ্চারণেও চিত্রকল্প থাকতো ‘মাছ কাটলে মুড়ো, ধান ভানলে গুঁড়ো’ আর ‘গাই বিয়োলে দুধের’ কথা।
স্মৃতি বড় ছোঁয়াচে ও দূরন্ত গতি সম্পন্ন। এক স্মৃতি দেশ-কাল-পাত্র টপকে আরেক স্মৃতিকে ছুঁয়ে দেয় বা টেনে ধরে। সেটি আরেক জায়গার আরেকটিকে। এদের কালের তকমায় আটকে ফেলতে চাওয়া এক মূর্খামি ছাড়া কিছু না। তাই জীবন বুড়ি ছোঁবো বলে বাংলাদেশের গ্রামীন বা লোক সংস্কৃতি সাহিত্যের কথা আমাকে বিলেত থেকে ছুটিয়ে নিয়ে চলেছে সেখানে যেখানে আমার শৈশব গেঁথে আছে।
বাবা আবু আহমদ মাহমুদ তরফদার শুধু সরকারি চাকরিজীবী ছিলেন না, ছিলেন সংস্কৃতিসেবী ও শিল্পপ্রেমিক। তাই বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা ও মহকুমা শহরে চাকরিসূত্রে ঘুরে বেড়াবার সময় ও বছরে একবার সিলেট যাওয়াতে আমি বহুমাত্রিক চিত্তাকর্ষক সব আয়োজন উদযাপনের সুযোগ পেয়েছি। আমার জাতিসত্তা ও আত্মসত্তার ভেতরে ধর্ম নিরপেক্ষতা গাঢ়ভাবে প্রোথিত হয়েছে। উপলব্ধি করেছি আমাদের লোক বা গ্রামীন সংস্কৃতি কতটা সার্বজনীন। শিল্প সাহিত্য, আহার আচরন,সঙ্গীত, বলি খেলা থেকে মোরগের লড়াই, পুঁথিপাঠ থেকে ধাঁধাঁ, ব্রতচারি নৃত্য থেকে ধামাইল সবই কত গুরুত্ববাহী। ভাটিয়ালী ভাওয়াইয়া, মুর্শিদী ও কীর্তন, জারি সারি সবই ধ্বনিত ও গীত হতো নৌকা বাইচ, পূজা, সিন্নি ও বিবাহায়োজনে। এক ধান থেকেই তৈরি হত চাল, চিড়া, খই, মুড়কি, করই, মুড়ি, পিঠা, খুঁদ, মোয়া, উড়কা।পিঠাও হত শত রকমের। মেলায় পাওয়া যেতো হাতে বানানো মাটির রবীন্দ্র ও নজরুল। একবার ছোট মামার সংগে চন্দ্রচড়িতে পুতুল কিনে নাগরদোলায় দোলা শেষে কিনতে গেছি বেতের বাঁশী। সেখানে পাওয়া যেত কামার ও কুমোরের তৈরি তৈজস। ঘুরতে ঘুরতে মুঠো খুলে দেখেছি হাত ঘেমে গলে গেছে মেলায় কেনা সোনালী বাতাসা বা শঙ্খের মত সাদা রস কদম। হাত চাটাতে চাটতে নানীর বাড়িতে ফিরেছি।
বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানের কথা যদি ধরি তবে আমার অভিজ্ঞতা তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফ না হলেও নেহায়েত নগণ্য না। সিলেট, সন্দ্বীপ, চাটগাঁ, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, টাঙাইল, ময়মনসিংহ, রাজশাহী, জামালপুর, নোয়াখালী, সিলেট, মৌলভীবাজার ইত্যাদি- কিন্তু কথা হল বাংলাদেশের এতস্থানের হারিয়ে যাওয়া সম্পদ নিয়ে বলার জন্য এ পরিসরও পর্যাপ্ত না। লিংগুয়াফ্রাঙ্কা বাংলা ভাষা হলেও দেশের এর প্রতিটি স্থানে নিজস্ব উপভাষার বা ডায়লেক্টের একটা ব্যাপার আছে। নিজেদের অনুষ্ঠান ও তার প্রদর্শনে লোকসংস্কৃতি থেকে উঠে আসা লোকনাট্য, মনিপুরী, লাঠি খেলার সঙ্গে লাঠি নাচ, খেমটা গানের সঙ্গে খেমটা নাচ এবং ঘাটু গানের সঙ্গে ঘাটুনাচ ছিল ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আর ময়মনসিংহ গীতিকা, চাঁপাই নবাবগঞ্জের গম্ভিরা, ছড়া, ধাঁধা, মন্ত্র, প্রবাদ-প্রবচন, পালা, কবির লড়াই প্রভৃতি ছিল যে কোন আয়োজনেই। হোলির গীত, গাজীর গীত, মাগনের গীত, বিবাহের গীতপ্রভৃতি লোকসংস্কৃতির আনুষ্ঠানিক প্রকাশগুলো হত আয়োজন করে। হতো বলছি, কারণ এখন আর তা হয় না। এখন সংস্কৃতির বিনাশ হচ্ছে কূপমন্ডুকতায়, স্বার্থচিন্তায়, রাজনৈতিক অধিকারের লিপ্সায়।
হস্তশিল্প দেশের লোকসংস্কৃতির কথা বলে, বলে সে স্থানের অতীত বেত, বাঁশ, কাঠ, চামড়া ও বুননশিল্প প্রতিটির আলাদা ইতিহাস, মোটিফ ও মূল্য। মসলিনের যুগ পেরিয়ে আজকের জামদানি যে অবস্থানে এসেছে তা লোকশিল্পেরই অবদান। এ থেকে শিল্পীর মনের প্রতিটি দশক চিহ্নায়ন সম্ভব এবং সেটাই হবার কথা। অযাচিত ও অকস্মাৎ পরিবর্তনে বিবর্তনের স্বাভাবিক ধারা ব্যহত হয়। নগর সংস্কৃতি ও সুবিধার দ্বারা প্রভাবিত হয়ে মৃত্তিকা জায়গায় প্লাস্টিক, চটের জায়গায় পলিথিন, মাটির গহনা, বেলোয়ারি রেশমী চুড়ির স্থানে এসেছে অক্সিডাইজড গহনা। শাড়ি, ধুতি উবে গেছে। গামছার স্থানে তোয়ালে, নিমের মাজনের বদলে টুথব্রাশ আর মেয়েদের বেনীতে সুতির কালো ট্যাসেলের জায়গায় এসেছে প্লাস্টিকের চুল বা উইগ।
পাহাড়পুর-ময়নামতির পোড়ামাটির ফলকে আমাদের হাজার বছর আগের যে শাড়ির প্রচলন ছিল তার প্রমাণ আছে। কিন্তু মাত্র কয়েক দশকেই কর্মজীবীনারীদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশেষ করে গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে কাজ হওয়া পর শাড়ি হয়ে গেছে পার্টির পোশাক। মাথায় উঠেছে বাঙালি ঘোমটার জায়গায় আরবি সাজ। বৈশাখী, বসন্ত গানের ও রবীন্দ্র-নজরুল জয়ন্তী, একুশের অনুষ্ঠান ছাড়া শাড়ি খুব কম দেখা যায়। মেয়েরা শাড়ি পরতেও ভুলে গেছেন। কেউ কেউ এখন বিউটি পার্লারে গিয়ে অন্যের হাতে শাড়ি পরে তবে অনুষ্ঠানে যান। পুরুষদের গায়েও এখন চড়ে বসেছে সার্বক্ষণিক জিন্স ও টি শার্ট। আগে যেভাবে স্থানিক চেহারা ছিল তা এখন বৈশ্বিক। এই এরাই উনিশ শতকের শেষের দিকে ইংরেজদের মতো করে ব্যাপকভাবে গ্যালেস লাগানো কোট প্যান্ট পরা শুরু করেছিলেন৷
পুঁথিপাঠ, ও কবির লড়াই উঠে এসেছে অনবরত কবিতা পাঠ, বৃন্দ কবিতা পাঠ, নাচের সঙ্গে কবিতা। সে কবিতা বাজে অনলাইনের লিংকে। হাতে ধরে বই পড়া উঠে যাচ্ছে, এসে যাচ্ছে ই-বুক বা অডিও বুক। এখন গাড়ি চালাতে চালাতে বা ট্রেনে বাসে চলতে চলতে কানে শোনা যায় হুমায়ুন আহমেদের ‘দেবী’, পডকাস্ট বা বেঞ্জামিন জাফানায়ার কবিতা। কবিরাও কবিতা পাঠ করেন না- করেন কবিতা পারফর্মেন্স। এখন জন্মদিনে হায়ার করে আনা হয় স্টোরিটেলার, ক্লাউন ও ম্যাজেশিয়ান।হয়তো একদিন আমাদের পুঁথিপাঠ, কবির লড়াই এগুলোর ঐতিহাসিক গুরুত্ব ছাড়া আর কোন খবরই থাকবে না।
বছর কয়েক আগে মৌলভি বাজারের সেই কুয়াশা ঘেরা গ্রামের বাড়িতে গিয়ে দেখি সে কুয়াশা নেই, আগের সেই ঢেঁকিও নেই। বেতের আসবাব নেই। বিয়ের আসরে ধামাইল নেই। নেই আমার দাদী নানীদের সুর করে গাওয়া ইউসুফ- জুলেখার গান। সুন্দর সুন্দর প্লাস্টিক প্যাকেটে করে আসছে চালের গুঁড়ো। এখন সে গুঁড়ো লন্ডনের ব্রিকলেন বা রোমান রোডের বাঙালি দোকানেও পাওয়া যায়। বিলেতে শুধু চালের গুঁড়োই নয় পাওয়া যায় ফ্রোজেন পুলি পিঠা, মেরা পিঠা ও চালের গুঁড়োর রুটিও।
ধরে নিলাম বৈশ্বায়নের কারণে আমাদের সংস্কৃতির এ পরিবর্তন, সাহিত্যের এ পরিবেশনা নবায়ন অপরিহার্য। বিবর্তন না হলে এগুনো ব্যহত হয়। তবু আমার যে বুকটা চিন চিন করে তার কারন কি? সে কি আমার নিজের ব্যক্তিগত স্মৃতির উপমা হারিয়ে যাচ্ছে বলে নাকি আমাদের সমষ্টিগত আত্মবিক্ষনের অনুপান হারিয়ে ফেলছি বলে। কেউ কেউ ভাবতে পারেন তারও কি কোন দরকার আছে? ইমোশনের কারনে কিছু ধরে রাখা কি ঠিক? আমার ধারনা নিটোল বর্তমান বলে কিছু নেই। সবই আসলে অতীতের উপর দাঁড়ানো। তাই বর্তমান নিয়ে ভাবলে বাঙালি জাতি হিসেবে আমাদের আত্ম পরিচয় একদিন লুপ্তও হয়ে যেতে পারে। যখন আমাদের দেশে একটার পর একটা নাম পরিবর্তন করা হয়েছে আমি অনেক ভেবেছি। আর উপলব্ধি করেছি এক মানুষ থেকে আরেক মানুষের ছায়া আলাদা করে দেখবার দরকার আছে। কিন্তু তা নতুন নির্মানে হবে পুরাতন মুছে নয়।জীব বৈচিত্র্য যেমন জীবের টিকে থাকার জন্য জরুরী তেমনি মানুষের সংস্কৃতি ও সাহিত্যের বৈচিত্র্যও তাদের মনের স্থিতিশীলতার জন্য সমান জরুরী তাই সে ধারাবাহিকতা রাখাটা আরো জরুরী। পৃথিবীর সব জাতি সব গোষ্ঠীর শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতিরই বিবর্তন ঘটে। বাঙালি সংস্কৃতিও সেই পথ ধরে চলছে। শত বছর আগের বাঙালি সংস্কৃতির সঙ্গে আজকের বাঙালি সংস্কৃতির পুরো মিল থাকবে না সেটাই স্বাভাবিক। তবে ধারাবাহিকতা না থাকলে সেটাই এক সময় বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।
প্রায় ৫০ বছর ধরে আমাদের যে শিল্পকর্ম আছে তাতে মুক্তিযুদ্ধের স্মারক হিসেবে যুক্ত হয়েছে বিশাল বিশাল অপরূপ ভাষ্কর্য, বলাকা, বাউল, বাঘ। নির্মিত হয়েছে সুলতানের মত ছবি, ও রশীদ চৌধুরীর মত ট্যাপেস্ট্রি। এতে শিল্পীগন আমাদের অগ্রগতির পরিচায়ক তাঁর সৃষ্টিতে আমাদেরই ঐতিহ্যের দাম প্রত্যক্ষ রাখার একটা সূক্ষ্ম ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। তাই এর দাম কমেনি – বরং বেড়েছে। রাষ্ট্রও পাশে ছিল বলেই তার বিস্তার হয়েছে। এটাই হওয়া উচিত। বিলেতে ব্রিটিশ লাইব্রেরীর আর্কাইভ সেকশনে গিয়ে হতবাক হয়ে গেছি।
এ বছরের গোড়ার দিকের কথা। তখনো কোভিডের তান্ডব শুরু হয়নি। শান্তি নিকেতনে গিয়েছিলাম। সকালটা ছিল এমনি কুয়াশাময়। কিন্তু সেদিনের দুপুরটা ছিল একদম নিরাকপরা। কিন্তু শিল্পকলা বিদ্যালয়ে দর্শকগন ঘুরে ঘুরে শিল্প দেখছেন। দেখছেন পুরো মাঠে ছড়িয়ে থাকা শিল্পকর্মগুলো। যার প্রতিটি পরতে রয়েছে অতীতের দাগ। চারিদিক সুমসাম কেবল একটি বৃক্ষের নিচে দেহাতি এক গায়ক আপন মনে গান গাইছেন। রোদের গায়ে ভর করে তার গানের কথা ও সুর ছড়িয়ে যাচ্ছিল । তিনি গানের সঙ্গে বাজাচ্ছিলেন দেশী বাদ্যযন্ত্র। হয়তো তা তাঁরই তৈরি। তিনি চোখ বুঁজে গাইছেন,
‘তোমায় হৃদ মাজারে রাখিবো ছেড়ে দেবো না
ওরে ছেড়ে দিলে সোনার গৌড় আর তো পাবো না।’
মনে হচ্ছিল কলিজার থোড় ছিঁড়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের লোক শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতিই আমাদের ঠিকুজী, আমাদের কলিজা। তার ধারাবাহিকতায় যা সৃষ্ট তাই আমাদের সোনার পঙ্খী। তা ছেড়ে দিলে কিছুতেই আর পাবো না। সুতরাং তাকে ছাড়া যাবে না। অপশক্তিকে কিছুতেই ছাড় দেয়া যাবে না।
শামীম আজাদ ঐহিক ৬.৬.২৪ লন্ডন
ছেড়ে দিলে সোনার পঙ্খী…
একটু একটু করে ভোর হচ্ছে। বাইরে হেমন্তের শেষ শীত। আলো নিভিয়ে পর্দা সরাতেই দেখি কুয়াশার বুক চিরে সূর্যের চিকন আলো উঠে আসছে। ঘন কুয়াশায় ঢেকে আছে রাস্তার ওপারের বার্চ ও খয়েরি বৃদ্ধাশ্রম। ঝুলে আছে লাইট পোস্টের বাতি সেক্সপিয়রের সনেট তিয়াত্তরের অটামের মরা হলদেটে শেষ পাতাটির মতো। কুয়াশায় তার মুখখানাও আবছা। পৃথিবীর যেখানেই থাকি না কেন এরকম ঘন কুয়াশা দেখলে গায়ে শীতশীত লাগলে আমার স্মৃতি খুলে যায় আর তাজা খেজুর গাছের রসের ঘ্রাণে মন ম ম করে।
প্রায় ছয় দশক আগে স্কুলের ছুটিতে যখন মুরুজপুর গ্রামের বাড়ি যেতাম তখন মৌলভীবাজার থেকে ছোট্ট নৌকায় মনু নদ পেরিয়ে হাঁটাপথ ধরতে হত। দাদার বাড়ি দৃশ্যমান হয়ে ওঠার আগেই সবার আগে দেখা যেত পুকুর ঘাটের পুরানো দুই খেজুর গাছ। পরদিন ঘুম ভাঙলেই মাটির কলসি ভরা রস নিয়ে আসতো ইয়াস পুতি। সুমিষ্ট সেই রস খেতে খেতেই রান্না ঘর থেকে ভেসে আসতো পিঠার জন্য রস ঘন করার সুগন্ধ। শুনতে পেতাম চাল গুঁড়ো করার ঢেঁকির শব্দ। তাড়াহুড়া করে নিমের মাজনে দাঁত মেজে মুখ ধুয়ে বেতের হাতে বোনা নকশি করা পাটিতে খদ্দরের চাদরে গা মুড়ে চুলোর ধারে বসেই খেতাম গরম গরম পিঠা। বাসন ভরে উঠতো পিঠায়। গরুর খাঁটি দুধ আর খেজুরের ঘন রসে ডুবে থাকা পিঠার কথা মনে করতে করতেই বারান্দা থেকে ঘরে প্রবেশ করলাম। বিলেতের শীতে এতক্ষণ বাইরে থাকা যায় না।
ভেতরে এসে কফির জল গরম করতে করতে মনে হল মহান শিল্পী এস এম সুলতানের আঁকা বিশালাকৃতির ক্যানভাসে দেখা আমাদের সম্পন্ন ও ঋজু গ্রাম বাংলার ছবির কথা। বিশেষ করে তাঁর সেই অসাধারণ ছবি যেটাতে সর্ষে রঙা রোদ আর স্বাস্থ্যবতী বাঙালি রমনী পিড়িতে বসে বাঁকানো বটি দা’য়ে মাছ কাটছেন। কী অপূর্ব!
আমার ছোটবেলায় গ্রামগুলো যেন অরগ্যানিক ছিলো। আনন্দগুলো ছিলো। হিন্দু-মুসলমানের ছিলো মিলিত আখ্যান। নানান আনন্দ-আয়োজনের ফাঁকে আজান, কাঁসার ঘণ্টা, নাড়ু ও নামাজ আসা-যাওয়া করতো অনায়াসে, পরম্পরায়। মেঝমামা আলি মেহেদী খানের কর্মস্থান পটিয়ায় হ্যাজাক বাতির আলোয় তাবুর নিচে সবাই জাম্পেস করে দেখেছি ‘রূপবান’ যাত্রাপালা। দিনের শেষে প্রচণ্ড পড়ুয়া নানীর কাছে গল্প শুনে শুনে বা মায়ের গুনগুনানিতে লালাবাই শুনে ঘুমিয়ে পড়েছি। সে সব উচ্চারণেও চিত্রকল্প থাকতো ‘মাছ কাটলে মুড়ো, ধান ভানলে গুঁড়ো’ আর ‘গাই বিয়োলে দুধের’ কথা।
স্মৃতি বড় ছোঁয়াচে ও দূরন্ত গতি সম্পন্ন। এক স্মৃতি দেশ-কাল-পাত্র টপকে আরেক স্মৃতিকে ছুঁয়ে দেয় বা টেনে ধরে। সেটি আরেক জায়গার আরেকটিকে। এদের কালের তকমায় আটকে ফেলতে চাওয়া এক মুর্খামি ছাড়া কিছু না। তাই জীবন বুড়ি ছোঁবো বলে বাংলাদেশের গ্রামীন বা লোক সংস্কৃতি সাহিত্যের কথা আমাকে বিলেত থেকে ছুটিয়ে নিয়ে চলেছে সেখানে যেখানে আমার শৈশব গেঁথে আছে।
বাবা আবু আহমদ মাহমুদ তরফদার শুধু সরকারি চাকরিজীবী ছিলেন না, ছিলেন সংস্কৃতিসেবী ও শিল্পপ্রেমিক। তাই বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা ও মহকুমা শহরে চাকরিসূত্রে ঘুরে বেড়াবার সময় ও বছরে একবার সিলেট যাওয়াতে আমি বহুমাত্রিক চিত্তাকর্ষক সব আয়োজন উদযাপনের সুযোগ পেয়েছি। আমার জাতিসত্তা ও আত্মসত্তার ভেতরে ধর্ম নিরপেক্ষতা গাঢ়ভাবে প্রোথিত হয়েছে। উপলব্ধি করেছি আমাদের লোক বা গ্রামীন সংস্কৃতি কতটা সার্বজনীন। শিল্প সাহিত্য, আহার আচরন,সঙ্গীত, বলি খেলা থেকে মোরগের লড়াই, পুঁথিপাঠ থেকে ধাঁধাঁ, ব্রতচারি নৃত্য থেকে ধামাইল সবই কত গুরুত্ববাহী।ভাটিয়ালী ভাওয়াইয়া, মুর্শিদী ও কীর্তন, জারি সারি সবই ধ্বনিত ও গীত হতো নৌকা বাইচ, পূজা, সিন্নি ও বিবাহায়োজনে। এক ধান থেকেই তৈরি হত চাল, চিড়া, খই, মুড়কি, করই, মুড়ি, পিঠা, খুঁদ, মোয়া, উড়কা।পিঠাও হত শত রকমের। মেলায় পাওয়া যেতো হাতে বানানো মাটির রবীন্দ্র ও নজরুল। একবার ছোট মামার সংগে চন্দ্রচড়িতে পুতুল কিনে নাগরদোলায় দোলা শেষে কিনতে গেছি বেতের বাঁশী। সেখানে পাওয়া যেত কামার ও কুমোরের তৈরি তৈজস। ঘুরতে ঘুরতে মুঠো খুলে দেখেছি হাত ঘেমে গলে গেছে মেলায় কেনা সোনালী বাতাসা বা শঙ্খের মত সাদা রস কদম। হাত চাটাতে চাটতে নানীর বাড়িতে ফিরেছি।
বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানের কথা যদি ধরি তবে আমার অভিজ্ঞতা তেতুলিয়া থেকে টেকনাফ না হলেও নেহায়েত নগণ্য না। সিলেট, সন্দ্বীপ, চাটগাঁ, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, টাঙাইল, ময়মনসিংহ, রাজশাহী, জামালপুর, নোয়াখালী, সিলেট, মৌলভীবাজার ইত্যাদি- কিন্তু কথা হল বাংলাদেশের এতস্থানের হারিয়ে যাওয়া সম্পদ নিয়ে বলার জন্য এ পরিসরও পর্যাপ্ত না। লিংগুয়াফ্রাঙ্কা বাংলা ভাষা হলেও দেশের এর প্রতিটি স্থানে নিজস্ব উপভাষার বা ডায়লেক্টের একটা ব্যাপার আছে। নিজেদের অনুষ্ঠান ও তার প্রদর্শনে লোকসংস্কৃতি থেকে উঠে আসা লোকনাট্য, মনিপুরী, লাঠি খেলার সঙ্গে লাঠি নাচ, খেমটা গানের সঙ্গে খেমটা নাচ এবং ঘাটু গানের সঙ্গে ঘাটুনাচ ছিল ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আর ময়মনসিংহ গীতিকা, চাঁপাই নবাবগঞ্জের গম্ভিরা, ছড়া, ধাঁধা, মন্ত্র, প্রবাদ-প্রবচন, পালা, কবির লড়াই প্রভৃতি ছিল যে কোন আয়োজনেই। হোলির গীত, গাজীর গীত, মাগনের গীত, বিবাহের গীতপ্রভৃতি লোকসংস্কৃতির আনুষ্ঠানিক প্রকাশগুলো হত আয়োজন করে। হতো বলছি, কারণ এখন আর তা হয় না। এখন সংস্কৃতির বিনাশ হচ্ছে কূপমন্ডুকতায়, স্বার্থচিন্তায়, রাজনৈতিক অধিকারের লিপ্সায়।
হস্তশিল্প দেশের লোকসংস্কৃতির কথা বলে, বলে সে স্থানের অতীত বেত, বাঁশ, কাঠ, চামড়া ও বুননশিল্প প্রতিটির আলাদা ইতিহাস, মোটিফ ও মূল্য। মসলিনের যুগ পেরিয়ে আজকের জামদানি যে অবস্থানে এসেছে তা লোকশিল্পেরই অবদান। এ থেকে শিল্পীর মনের প্রতিটি দশক চিহ্নায়ন সম্ভব এবং সেটাই হবার কথা। অযাচিত ও অকস্মাৎ পরিবর্তনে বিবর্তনের স্বাভাবিক ধারা ব্যহত হয়। নগর সংস্কৃতি ও সুবিধার দ্বারা প্রভাবিত হয়ে মৃত্তিকা জায়গায় প্লাস্টিক, চটের জায়গায় পলিথিন, মাটির গহনা, বেলোয়ারি রেশমী চুড়ির স্থানে এসেছে অক্সিডাইজড গহনা। শাড়ি, ধুতি উবে গেছে। গামছার স্থানে তোয়ালে, নিমের মাজনের বদলে টুথব্রাশ আর মেয়েদের বেনীতে সুতির কালো ট্যাসেলের জায়গায় এসেছে প্লাস্টিকের চুল বা উইগ।
পাহাড়পুর-ময়নামতির পোড়ামাটির ফলকে আমাদের হাজার বছর আগের যে শাড়ির প্রচলন ছিল তার প্রমাণ আছে। কিন্তু মাত্র কয়েক দশকেই কর্মজীবীনারীদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশেষ করে গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে কাজ হওয়া পর শাড়ি হয়ে গেছে পার্টির পোশাক। মাথায় উঠেছে বাঙালি ঘোমটার জায়গায় আরবি সাজ। বৈশাখী, বসন্ত গানের ও রবীন্দ্র-নজরুল জয়ন্তী, একুশের অনুষ্ঠান ছাড়া শাড়ি খুব কম দেখা যায়। মেয়েরা শাড়ি পরতেও ভুলে গেছেন। কেউ কেউ এখন বিউটি পার্লারে গিয়ে অন্যের হাতে শাড়ি পরে তবে অনুষ্ঠানে যান। পুরুষদের গায়েও এখন চড়ে বসেছে সার্বক্ষণিক জিন্স ও টি শার্ট। আগে যেভাবে স্থানিক চেহারা ছিল তা এখন বৈশ্বিক। এই এরাই উনিশ শতকের শেষের দিকে ইংরেজদের মতো করে ব্যাপকভাবে গ্যালেস লাগানো কোট প্যান্ট পরা শুরু করেছিলেন৷
পুঁথিপাঠ, ও কবির লড়াই উঠে এসেছে অনবরত কবিতা পাঠ, বৃন্দ কবিতা পাঠ, নাচের সঙ্গে কবিতা। সে কবিতা বাজে অনলাইনের লিংকে। হাতে ধরে বই পড়া উঠে যাচ্ছে, এসে যাচ্ছে ই বুক বা অডিও বুক। এখন গাড়ি চালাতে চালাতে বা ট্রেনে বাসে চলতে চলতে কানে শোনা যায় হুমায়ুন আহমেদের দেবী, পডকাস্ট বা বেঞ্জামিন জাফানায়ার কবিতা। কবিরাও কবিতা পাঠ করেন না- করেন কবিতা পারফর্মেন্স। এখন জন্মদিনে হায়ার করে আনা হয় স্টোরিটেলার, ক্লাউন ও ম্যাজেশিয়ান।হয়তো একদিন আমাদের পুঁথিপাঠ, কবির লড়াই এগুলোর ঐতিহাসিক গুরুত্ব ছাড়া আর কোন খবরই থাকবে না।
বছর কয়েক আগে মৌলভই বাজারের সেই কুয়াশা ঘেরা গ্রামের বাড়িতে গিয়ে দেখি সে কুয়াশা নেই আগের সেই ঢেঁকিও নেই। বেতের আসবাব নেই। বিয়ের আসরে ধামাইল নেই। নেই আমার দাদী নানীদের সুর করে গাওয়া ইউসুফ- জুলেখার গান। সুন্দর সুন্দর প্লাস্টিক প্যাকেটে করে আসছে চালের গুঁড়ো। এখন সে গুঁড়ো লন্ডনের ব্রিকলেন বা রোমান রোডের বাঙালি দোকানেও পাওয়া যায়। বিলেতে শুধু চালের গুঁড়োই নয় পাওয়া যায় ফ্রোজেন পুলি পিঠা, মেরা পিঠা ও চালের গুঁড়োর রুটিও।
ধরে নিলাম বৈশ্বায়নের কারণে আমাদের সংস্কৃতির এ পরিবর্তন, সাহিত্যের এ পরিবেশনা নবায়ন অপরিহার্য। বিবর্তন না হলে এগুনো ব্যহত হয়। তবু আমার যে বুকটা চিন চিন করে তার কারন কি? সে কি আমার নিজের ব্যাক্তিগত স্মৃতির উপমা হারিয়ে যাচ্ছে বলে নাকি আমাদের সমষ্ঠিগত আত্মবিক্ষনের অনুপান হারিয়ে ফেলছি বলে। কেউ কেউ ভাবতে পারেন তারও কি কোন দরকার আছে? ইমোশনের কারনে কিছু ধরে রাখা কি ঠিক? আমার ধারনা নিটোল বর্তমান বলে কিছু নেই। সবই আসলে অতীত্বের উপর দাঁড়ানো। তাই বর্তমান নিয়ে ভাবলে বাঙালি জাতি হিসেবে আমাদের আত্ম পরিচয় একদিন লুপ্তও হয়ে যেতে পারে। যখন আমাদের দেশে একটার পর একটা নাম পরিবর্তন করা হয়েছে আমি অনেক ভেবেছি। আর উপলব্ধি করেছি এক মানুষ থেকে আরেক মানুষের ছায়া আলাদা করে দেখবার দরকার আছে। কিন্তু তা নতুন নির্মানে হবে পুরাতন মুছে নয়।জীব বৈচিত্র্য যেমন জীবের টিকে থাকার জন্য জরুরী। তেমনি মানুষের সংস্কৃতি ও সাহিত্যের বৈচিত্র্য ও তাদের মনের স্থিতিশীলতার জন্য সমান জরুরী তাই সে ধারাবাহিকতা রাখাটা আরো জরুরী। পৃথিবীর সব জাতি সব গোষ্ঠীর শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতিরই বিবর্তন ঘটে। বাঙালি সংস্কৃতিও সেই পথ ধরে চলছে। শত বছর আগের বাঙালি সংস্কৃতির সঙ্গে আজকের বাঙালি সংস্কৃতির পুরো মিল থাকবে না সেটাই স্বাভাবিক। তবে ধারাবাহিকতা না থাকলে সেটাই এক সময় বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।
প্রায় ৫০ বছর ধরে আমাদের যে শিল্পকর্ম আছে তাতে মুক্তিযুদ্ধের স্মারক হিসেবে যুক্ত হয়েছে বিশাল বিশাল অপরূপ ভাষ্কর্য, বলাকা, বাউল, বাঘ। নির্মিত হয়েছে সুলতানের মত ছবি, ও রশীদ চৌধুরীর মত ট্যাপেস্ট্রি। এতে শিল্পীগন আমাদের অগ্রগতির পরিচায়ক তাঁর সৃষ্টিতে আমাদেরই ঐতিহ্যের দাম প্রত্যক্ষ রাখার একটা সূক্ষ্ম ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। তাই এর দাম কমেনি – বরং বেড়েছে। রাষ্ট্রও পাশে ছিল বলেই তার বিস্তার হয়েছে। এটাই হওয়া উচিত। বিলেতে ব্রিটিশ লাইব্রেরীর আর্কাইভ সেকশনে গিয়ে হতবাক হয়ে গেছি।
এ বছরের গোড়ার দিকের কথা। তখনো কোভিডের তান্ডব শুরু হয়নি। শান্তি নিকেতনে গিয়েছিলাম। সকালটা ছিল এমনি কুয়াশাময়। কিন্তু সেদিনের দুপুরটা ছিল একদম নিরাকপরা। কিন্তু শিল্পকলা বিদ্যালয়ে দর্শকগন ঘুরে ঘুরে শিল্প দেখছেন। দেখছেন পুরো মাঠে ছড়িয়ে থাকা শিল্পকর্মগুলো। যার প্রতিটি পরতে রয়েছে অতীতের দাগ। চারিদিক সুমসাম কেবল একটি বৃক্ষের নিচে দেহাতি এক গায়ক আপন মনে গান গাইছেন। রোদের গায়ে ভর করে তার গানের কথা ও সুর ছড়িয়ে যাচ্ছিল । তিনি গানের সঙ্গে বাজাচ্ছিলেন দেশী বাদ্যযন্ত্র। হয়তো তা তাঁরই তৈরি। তিনি চোখ বুঁজে গাইছেন,
‘তোমায় হৃদ মাজারে রাখিবো ছেড়ে দেবো না
ওরে ছেড়ে দিলে সোনার গৌড় আর তো পাবো না।’
মনে হচ্ছিল কলিজার থোড় ছিঁড়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের লোক শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতিই আমাদের ঠিকুজী, আমাদের কলিজা। তার ধারাবাহিকতায় যা সৃষ্ট তাই আমাদের সোনার পঙ্খী। তা ছেড়ে দিলে কিছুতেই আর পাবো না। সুতরাং তাকে ছাড়া যাবে না। অপশক্তিকে কিছুতেই ছাড় দেয়া যাবে না।
শামীম আজাদ ঐহিক ৬.৬.২৪ লন্ডন






এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান