মাশূক ইবনে আনিস

শামীম আজাদ এক মাতৃপ্রতিম মহর্ষি। একজন সাহিত্যসাধিকা। কবি , কবিতা ও কবিত্বে পরিপূর্ণ এক মানবজীবন। ইতালিও সাহিত্যের জনক দান্তে আলিঘিয়েরি কবিতা সম্পর্কে বলেছিলেন, ” ভাব ও ভাষার যথার্থ ব্যবহার-ই একটি কবিতার জন্ম দিতে পারে বা একটি কবিতা সার্থক হয়ে ওঠতে পারে”, তাঁর বক্তব্যের রেশ ধরেই বলতে ইচ্ছে হয় —শামীম আজাদ কী ভাব —কী ভাষা দুয়ে-ই সকল বাংলায় আজ এক প্রণিধানযোগ্য সাহিত্যিক।
আজ থেকে তিন-দশক আগে এক সামারের জুনে সম্পূর্ণ নতুন এক বিখ্যাত নগরলন্ডনে পরিব্রাজক লেখক দিলু নাসের আমাকে নিয়ে গিয়েছিলেন ইলফোর্ড কাউন্টির গে পার্থরোডে কবি শামীম আজাদের বাসায় , একটা সাহিত্য বৈঠকে ।
কবির বাসায় অতিথি ছিলেন বাংলাভাষার শীর্ষ কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়। আরও ছিলেন জগদ্বিখ্যাত সাহিত্যিক অমর একুশে গানের স্রষ্টা আবদুল গাফফার চৌধুরী আর সদ্যপ্রয়াত প্রফেসর ও সুসাহিত্যিক সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম এবং আরও লন্ডনের স্থানীয় কবি-সাহিত্যিক- সাংবাদিকবৃন্দ।
তারও বহু-বহুদিন আগে থেকে শামীম আজাদ পাঠ করে আমি অভ্যস্ত ছিলাম। তিনি লিখতেন বাংলাদেশের সকল জাতীয় দৈনিক, সাপ্তাহিক ও বিশেষ সংখ্যাগুলিতে। কবি শামীম আজাদ জীবন ও জাগতিক ধারার লেখক। সাহিত্যে আধুনিকতার সূচনা ও বিকাশে অসামান্য ভূমিকা রেখেছে শামীম আজাদের সাহিত্যকর্মগুলি। তাঁর কবিতায় বুদ্ধি, অনুভূতি, প্রেম, একাকীত্ব, নাগরিক বোধ ও অস্তিত্ববাদের প্রভাব দেখা যায়। তিনি সবসময়-ই আধুনিকমনস্ক একজন বিবর্তনবাদী লেখক। তিনি বাংলাদেশের সমসাময়িক কবিতার এক বিশিষ্ট ও বহুমাত্রিক কণ্ঠস্বর—ওম, মায়ার জল, রূপান্তরের রাত্রি, গোপন মেঘদূত, এখানেই বাড়ি, দেহের ভিতর দেশ, জলরঙের পৃথিবী এই অনবদ্য কাব্যকর্মগুলো ছাড়াও শামীম আজাদের রয়েছে এক বিশাল অনুবাদসাহিত্যের ভাণ্ডার —যা আমাদেরকে সমৃদ্ধ করে পাঠে, জ্ঞানে এবং সাহিত্যচর্চায়!
বাংলা সাহিত্যের সব শাখাতে-ই শামীম আজাদ বিদ্যমান , তিনি এক সব্যসাচী প্রতিভা। লন্ডনে দীর্ঘদিন বসবাসের কারণে তাঁর কবিতায় অভিবাসী মানসিকতা, পরিচয় সংকট ও শিকড়ের টান খুব প্রকটভাবে ধরা দেয়। তার পরও কবি শামীম আজাদ সকল বৃত্তায়নে-ই পরিপক্ব –তালে, মাত্রায়, ছন্দে , লয় আর কবিতা নির্মাণে’র আধুনিকতায়।
দুই বাংলায় —তাঁর সম-সাময়িক খ্যাতনামা কবি সাহিত্যিক অনেকেই কবি’র খুবই নিকটজন। এই নিরহংকারী মানুষটির জন্মদিনে লন্ডনের “শিকড় ” সাহিত্য পত্রিকার অনবদ্য আয়োজন —বিশেষ সাহিত্য সংখ্যা আর জন্মদিন উদযাপন।
কবিতার কর্মকার ও কবিজনবিদিত নিবেদিত সাহিত্যপুরুষ কবি ও চলচ্চিত্রকার ফারুক আহমেদ রনি ও তাঁর আনুসঙ্গিকজনেরা মিলে আয়োজন করেছেন শামীম আজাদের জন্মদিন উদযাপনের অনুষ্ঠান, আমি তো কৃতজ্ঞচিত্তে অবনত তাঁদের কাছে মানে; শিকড়-সম্প্রদায়ের চিন্তনের কাছে যে, তাঁরা আমাদের মাতৃসম্যজনাকে এমন সম্মাননা ও মায়া দিয়ে প্রকারান্তরে আমার মতো অকবিকেও কবিদের কাতারে দাঁড়-করিয়েছেন ভালোবাসার যূথবদ্ধমালার বন্ধনে , কবি ফারুক আহমেদ রনি ও শিকড় সাহিত্যগোষ্টিকে ভালোবাসা আর শামীম আজাদকে তারুণ্যিক এই জন্মদিনময়ে এক অবোঝ শিষ্যসমজন’র বিনয়াবনত শ্রদ্ধা ও সনির্বন্ধ নম:নম প্রণামি …।
মাশূক ইবনে আনিস
কবি ও সম্পাদক
“স্বয়ম্ভূ ” দর্শন ও শিল্প-সাহিত্যের পত্রিকা






এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান