অন্ধকারে আগুনের স্মৃতি

এ অরণ্যের অন্ধকারে আজও জ্বলে আগুনের স্মৃতি,
রাত নামলে নদীর ধারে কুয়াশা ভিজে ওঠে রক্তে।
বাতাসে ভাসে পোড়া চুলের দগ্ধ গন্ধ,
মাটি নরম হয় লাল স্মৃতিতে অচেনা, অনন্ত।

দূর থেকে আসে সেই চাপা গলার ডাক,
পুরনো এক দুঃস্বপ্ন ফিরে আসে বারবার।
একলা পথে হাঁটি, হঠাৎ কচুরিপানার জলে
ডুবতে থাকা এক মুখ চাঁদের আলোয় ধরে আছে,
উঠতে পারে না। এমনি করেই কত জীবন
হারিয়ে গেছে কালের স্রোতে।

এই দেশ কি মনে রাখে সে ঝিম ধরা রাতের কথা?
যখন ঘাসও ভয়ে মুখ লুকিয়ে ছিল,
যখন আকাশের বুকে নিঃশব্দে উড়ে গিয়েছিল
অদৃশ্য হিংসার কালো ডানা।

যারা সেদিন আলোর দিকে দৌড়েছিল,
তারা আজ ফসিলের মতো ঘুরে বেড়ায়;
শুনে না ঘুমে জেগে ওঠা মেয়েটির কান্না।

মাঝরাতে আমি টের পাই:
আমার বুকের ভেতর দপদপ করে জ্বলে চাপা থাকা এক আগুন—
হয়তো সেই মানুষের, যার হাত ভাসছিল নদীর কোলে,
হয়তো সেই মায়ের, যার চোখ খোলাই রইল চিরদিনের জন্য।

হে স্বাধীনতা,
তুমি মাটির নিচের সেই গরম লাল পাথর,
যা হাতে ধরলে পুড়ে যায় আঙুল,
তবু ফেলে দেয়া যায় না কোনোমতেই;
কারণ তোমার গভীরে লেগে আছে আমার মানুষের শেষ নিঃশ্বাস।

আবার এমনি এক রাতে
আকাশে ফিরে আসে কালো ডানা,
পুরনো শকুনের দল ঘুরে বেড়ায় অবিরাম।
শুনতে পাই তাদের ডানার ভিতর ক্ষুধার ছুরি,
তাদের থাবায় শব্দ ভেজা রক্তের।

তাদের থামাতেই হবে, এখনই।
নইলে এই পবিত্র ভূমি
আবার একদিন নিজেরই ছায়ার নিচে
ধসে পড়বে নিঃশব্দে, চিরতরে।


Discover more from Shikor

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান

Trending