আগুন,মোরগ ফুল ও মাংসের গন্ধ

-অভিজিৎ বসু

বিউটি পারলারের সামনে অবন্তীর অচেনা শরীর।হাইলাইট করা চুলের ভেতর থেকে ফেনা কফির ঘ্রাণ। সোঁ সোঁ শব্দে চলেছে গাড়ি।রেডিওটা খুঁজে খুঁজে মেলে ধরে ধ্বনি তরঙ্গের দোলন।আচ্ছা মেয়ে বলতে পারো,তীব্র গোলাপী আলোয় কেমন লাগে তোমায়?
:তীব্র আলো।মানে আলো।
:চলো জাদু দেখতে যাই।

আর যেদিন জাদু দেখানো হয় এই শহরের প্রতিটি স্থানের আলো নিভে যায়।আকাশের বুক হয়ে যায় স্তনে দুধ ভরা টেনে টেনে নারীর মতো।মাংসের গন্ধে ছেয়ে যায় অলিগলি,প্রেমিকার শাড়ির আঁচল।:দুপুরের নাটক,ভোরের মহালয়া। নস্টালজিক মোমেন্ট।

হাত ধরলে মেয়েটিকে অবন্তীর মতো পাগল লাগে। ফেলিনির ছবির মতো,একটু হুইস্কি হবে।জল ভেঙে জড়িয়ে ধরা।
:এই রাস্তা তো পুলিশ একটু পর ব্লক করে দেবে।
কান্না কখনও চেপে রাখতে নেই।

০২.

মেয়েটি এবার ছাদের ওপর।মরে গেলে কাচের ঘরের ভেতর ঠান্ডা হিমাংকের নিচে হিসাব।জানো তো কাচ সিলিকার তৈরি।সিলিকন ডাই অক্সাইড।
তার আগে পাগলের মতো আদর হবে।তোমায় দেখলে ভুল হয়ে যায় পথ।বৃত্ত ঘুরে ঘুরে আবার একই স্থানে।খুব ইচ্ছে করে তোমার গালে ভ্যান গগের সূর্য মুখীর একটা ছবি আঁকি।
চুল খুলতেই রঙ নামলো।আলোতে চোখ ঝাপসা হয়ে আসছে।বইয়ের পাপ,তবে হলুদ শাড়িতে খুব সুইট।ঠোঁটে জ্বর নামে।উল্টে পাল্টে সব কেমন।
মেয়েটি নিচে নামে।ওয়েট জাস্ট ওয়ান মিনিট সুইট হার্ট।
বৃষ্টিতে ভিজছে শরীরের প্রতিটি খাঁজ।লোভ জাগে।তীব্র ভাবে পিষে ফেলি সব।
মেয়েটি জানতে চায়,ভ্যান গগ মাটির ঘরে শুয়েছে কখনো প্রেমিকার সাথে?

০৩.
পিঠের হাড়গুলো তার সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়ে উঠেছে বটগাছ। বুনো ভাব।এ বছর পূর্ণিমা নেই। শুধু অমাবস্যা। পূর্ণিমাতে শুষে নেওয়া হবে না চোখের ভেতরগত ভাঙন।
:ধ্যূত তুমি ভুলভাল বলো।সারা বছরে একদিনও পূর্ণিমা নেই এমনটি কী হয়?
:হয়।কতো কিছুতো কল্পনাকেও হার মানায়।

হাসাপাতালে স্ট্রেচারে ফেলে টেনে নিয়ে যায় জলের কাব্য।আগুনের অপেক্ষার প্রহর গুনতে গুনতে ফুটপাতে বসে বসে মেয়েটি সঙ্গে আনা সুতো দিয়ে ভাগ করে ডিম নুনের কৌটা,ভাতের সাথে মিশে যাচ্ছে ডিজে পার্টির গান।
কী এক চেনা গন্ধ। আহা মাংস রান্নার গন্ধ। শূন্য থেকে টেনে টেনে এক ঝটকায় ঝাঁকি দিয়ে বলা,মিস ম্যাচ কি?মোরগ ফুল দেবে একটা।শূন্য শূন্য মেঘের মেয়ে টলমল।

০৪.
মাদুরে মাদুরে শীত।অপেক্ষা। অর্ধেক ডিমের ওপর গোল মরিচের প্রলেপ।মেয়েটির চোখে নামে সেই রাজ্যের শীত।দূরে দেখো কেউ রঙচটা নাইটিতে বুকের ভেতর বেঁধেছে পাগলামির প্রলাপ।বোকা মানুষ হারিয়ে গেলো মেয়েটির রক্তের ভেতর।
:চলো সিনেমা দোখে আসি।এই শহরে একটাই সিনেমা হল বেঁচে আছে। সামনের বছর বিশাল শপিংমল হবে।না হলে চলো পালিয়ে যাই সমুদ্রের পাড়ে বালুর মূর্তির কাছে।

খুব শীত।মেয়েটি নারকেল,দুধ আর চিনি দিয়ে পিঠে তৈরি করে।আর সেই গন্ধে গন্ধে জন্ম নেয় মোরগ ফুল।
:তুমি কি মরে গেলে আগুন হবে?

০৫.
একসাথে আত্মহত্যা করবো বললে মেয়েটি রাজি হয়। তবে আগে তার কিছু জিনিস চাই।বিশটি গোলাপের কুঁড়ি, একটি দেশলাইয়ের বক্স,এক টাকার কয়েন বিশটি আর আগুন মাপার যন্ত্র।
মরে যাওয়ার আগে মেয়েটি ছুঁয়ে দেখতে হবে।কি আছে ওর ভেতর? সব ফেলে ওর সাথে..একটু হাত,একটু ঠোঁটের নিচে উষ্ণতা, ঘামে ভেজা জামার গন্ধ, মোরগ ফুলের শ্বাস।আর ওকে বলবো আজ থেকে তোমার নাম অবন্তী।

বিশটি গোলাপের কুঁড়ি, বিশটি এক টাকার কয়েন,এখন দেশলাইয়ের কাঠি খুব একটা বিক্রি হয় না অনেক ঘুরে ঘুরে বারুদের দেখা পাওয়া গেল।
আগুন মাপার যন্ত্র.. না এই শহরে নেই সেটা।
মেয়েটি মোরগ ফুলের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। কানন দেবীর গান বুনো ফুল তুমি/বাসন্তীকার কন্ঠ
:সব কিছু পাওয়া গেছে। তবে
:তবে,আগুন মাপার যন্ত্রটা পাওয়া যায় নি।
:ঠিক,কি করে জানলে?
:জানি

আত্মহত্যা করার জন্য দুজন হাঁটি।হেঁটে হেঁটে উপরে উঠবো রেললাইনের খুব কাছে।মেয়েটির হাত হাতের মুঠোয়।খুব কাছে।খুব কাছে।ঘামে ভেজা জামার গন্ধ, শেষ বারের মতো ঠোঁটের ভেতর ঠোঁট। ফুল ফুটানো পাপিয়া বুনো ফুল।
:আচ্ছা আগুন মাপার যন্ত্র দিয়ে কি করবে?

ট্রেনের হুইসেল শোনা যাচ্ছে। এক ঝটকায় ঝাপিয়ে পড়ে। আজ মেয়েটি পরেছে হলুদ শাড়ি।ইউ লুক সো সুইট। এর পরের জনমে ঠিক আগুন মাপার যন্ত্র এনে দেবো।
তখনি নাকে ভেসে আসে মাংসের গন্ধ। মোরগ ফুল ডপলার ইফেক্টে দুলতে থাকে মেয়েটির শরীরে।

আগুন মাপার যন্ত্র খুঁজে বের করবো একদিন… হাত টেনে নিয়ে বুকের ভেতর রাখে।পুড়ে যাচ্ছে শরীর। তবে ঐ যে বলা,কিছুই চূড়ান্ত হয় না। শেষ পর্যন্ত অনেক কষ্ট করে মেয়েটিকে অবন্তী নামে ডাকা হয়।


Discover more from Shikor

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান

Trending