বকবক পায়রা
-সুমন মোহান্তি
ছোটবেলায় গরমের ছুটিতে বা পুজোর ছুটিতে দেশের বাড়ি গেলে শহরে না-দেখা অনেককিছুই খুব মনে ধরত আমার। দোতলা মাটির কোঠাবাড়ির খড়ের চালা থেকে হাঁড়ি ঝুলত অনেকগুলো, তার মধ্যে পায়রাদের বাস ছিল। গরম ভাপ ওঠা দুপুরে চারদিক নিঝুম, মোরামের রাস্তা দিয়ে দু-একটি গরুর গাড়ি চলে যাওয়ার শব্দ মিলিয়ে গেলে দুপুরের স্তব্ধতা ভেঙে পায়রাদের একটানা বকবকম শোনা যেত।
শহরে বাড়ির ছাদে বা কার্নিশে মাঝেমধ্যে পায়রার ঝাঁক উড়ে এসে বসলেও বেশিক্ষণ থাকে না তারা। তাই ভুলেই গিয়েছিলাম নিঝুম দুপুরে শোনা সেইসব বকমবাজ পায়রাদের স্মৃতি। একদিন সন্ধ্যায় শুনলাম পাশের বাড়ির রবীনকাকু বলছেন, “সুরেশদা, পাড়ায় এক বকমবাজ পায়রা এসেছে। আলাপ হয়েছে?’’
“ভদ্রলোকটি কে?’’
“নন্দীবাবুর উল্টোদিকের যে প্লটটা খালি ছিল সেখানেই বাড়ি শুরু করেছেন ভদ্রলোক। ফণীন্দ্র শাসমল নাম। আলাপ হয়নি আপনার সঙ্গে?’’
“না তো।’’
“হয়ে যাবে।”
ফণীন্দ্র শাসমলের সঙ্গে কয়েকদিনের মধ্যেই আলাপ হল বাবার। আলাপ শুধু নয়, রীতিমত ভাব জমে গেল। শাসমলবাবুর সঙ্গে বাবার বেশ কিছু ব্যাপারে দৃষ্টিভঙ্গি মিলে গেল। আপ্লুত বাবা বলল, “ফণীবাবুর মতো সদালাপী মানুষ হয় না। রবীনবাবুর পছন্দ হবে কেন? নিজেই যে মিশুকে নন।’’
তখন পাড়া কংক্রিটময় হয়ে ওঠেনি, অনেক ফাঁকা জায়গা পড়েছিল, বাড়ির সংখ্যাও কম ছিল। ছ’মাসের মধ্যে গৃহপ্রবেশ হয়ে গেল বাড়ির। শাসমলবাবু রিটায়ার্ড পোস্টমাস্টার, তাঁর দুই ছেলেই প্রতিষ্ঠিত, আধুনিক মডেলের সুন্দর বাড়ির নাম রাখলেন ‘মালঞ্চ’। গৃহপ্রবেশের একবছরের মধ্যেই বাবার প্রিয় ‘সদালাপী এবং মিশুকে’ শাসমলবাবু কিছু বাড়ির ত্রাস হয়ে উঠলেন। সকালে-বিকেলে-সন্ধেয় যেকোনো সময় যেকোনো বাড়িতে তিনি ঢুকে পড়েন। রবীন্দ্রনাথ থেকে নেহরু, বাঙালির অধঃপতন, রাজ্য রাজনীতি থেকে জাতীয় রাজনীতি বিভিন্ন বিষয়ে একনাগাড়ে তিনি বকেই চলেন। সৌজন্যের খাতিরে রান্নার ব্যস্ততার মধ্যেই সসপ্যানে চায়ের জল বসাতে হয়, তাঁর উচ্চকিত ভাষণের ঠেলায় পড়ুয়া ছেলে বা মেয়েটিকে রুম থেকে উঠে অন্যত্র জায়গা খুঁজতে হয়। থলি হাতে কেউ বাজার যাচ্ছে দেখে শাসমলবাবু তাঁর সঙ্গে শুরু করেন, “বাজার যাচ্ছেন?’’
“হ্যাঁ।’’
“কাল একজনের সঙ্গে পরিচয় হল, বুঝলেন? ইয়ং চ্যাপ। ব্রিলিয়ান্ট রেজাল্ট,বুঝলেন মশাই? কী হতে চায় জানেন? আই এ এস হতে চায়। শুনে কী যে ভালো লাগল।”
দীর্ঘ ভাষণের নেহাতই ভূমিকা এই সংলাপ। বাঙালি সর্বভারতীয় পরীক্ষায় পিছিয়ে পড়ছে, জাতটার আর কিছু হবে না, স্বামীজী এবং নেতাজী কী বলেছিলেন, সাবলীল ইংরেজি বাঙালিরা বলতে পারে না, ইংলিশে মাস্টার ডিগ্রি পাশ করা প্রজন্ম দু’লাইন ইংলিশ লিখতে পারে না, একজনকে তিনি জিজ্ঞেস করেছিলেন যে হাওয়া বয় শনশন,সেই বাক্যের ইংরেজি ট্রানশ্লেশন করতে গিয়ে ঘেমেনেয়ে অস্থির, এই তো শিক্ষার হাল, তাঁর সন্তান কী হতে চায়?
এতক্ষণ নীরব থাকা শ্রোতা বললেন, “ইঞ্জিনিয়ার হতে চাইছে।”
“ইঞ্জিনিয়ার? কী করবে ইঞ্জিনিয়ার হয়ে? কোম্পানির চাকর হবে? বেঙ্গল নিডস আই.এ.এস অ্যান্ড আই. পি এস।”
জানাবাবু বা নন্দীবাবু বা মিত্রবাবু যিনি মুখোমুখি পড়ে যান অস্থির হয়ে ঘড়ি দেখেন বারবার। কথার তোড়ের মাঝখানে ‘এখন আসি দাদা, বাজার যাব’ এটুকু বলার অবকাশও রাখেন না শাসমলবাবু। বাধ্য হয়ে কাজের সময় শাসমলবাবুকে দূর থেকে দেখতে পেলে কেউ চট করে অন্য গলি ধরে ঘুরপথে মেন রাস্তায় ওঠেন। কেউ বারকয়েকের অভিজ্ঞতায় শাসমলবাবু ভূমিকা শুরু করার আগেই বুদ্ধি করে বলে ফেলেন, “বিস্তর কাজ আছে। পরে শুনব। এখন আসছি।’’
আমাদের উল্টোদিকে সুবীরকাকুর বাড়ি। এক সকালে সেখান থেকে শাসমলবাবুর উদাত্ত কন্ঠ ভেসে এল। সত্তর পেরোলেও তাঁর গলায় যথেষ্ট জোর, উচ্চগ্রামে উচ্ছ্বসিত তাঁর বাচনভঙ্গি। দোতলার খোলা জানালার পাশে রবীন্দ্রনাথ শুরু করেছেন তিনি। রবীন্দ্রনাথের গান, ঈশ্বরচেতনা, প্রকৃতিপ্রেম নিয়ে বলেই চলেছেন শাসমলবাবু। প্রায় আধঘন্টা পরে সুবীরকাকু নীচে নেমে রাস্তায় পায়চারি করছেন দেখে জানতে চাইলাম, “কী হল কাকু?’’
“আর বোলো না। সাতসকালে কানের পোকা ঝেড়ে দিল একেবারে।’’
“তাহলে যে ওনার গলা শুনতে পাচ্ছি এখনও।’’
“তোমার কাকিমাকে উপনিষদ বোঝাচ্ছে এখন। আমি কাজের অজুহাত দেখিয়ে পালিয়ে এসেছি। লোকটার সেন্স বলে কিছুই নেই? তোমার কাকিমা রান্নাঘর, বাতিক, মানত আর টিভি ছাড়া কিছুই বোঝে না। উলুবনে মুক্তো ছড়িয়ে যাচ্ছে শাসমল। পরের দিন আর ঢুকতেই দেব না। কাঁহাতক সহ্য করা যায়?’’
দু’দিন বাদে শাসমলবাবু সকালে খুব উত্তেজিত ভাবে আমাদের ড্রয়িংরুমে এসে বসে পড়লেন।
“চরম অভদ্র এরা। আনসোশ্যাল। সিম্পলি ননসেন্স,” শাসমলবাবু গজগজ করলেন।
“কী হয়েছে?’’
“ঐ যে সুবীরবাবু, দরজাই খুললেন না। কলিংবেল টিপে হাত ব্যথা হয়ে গেল,জানেন? বাঙালি বাড়ি করবে,ব্যাঙ্ক-ব্যালান্স করবে, শুধু পার্থিব চাহিদা। এদের মরাল ভ্যালুজ কোথায়?’’
বাবা সায় জানিয়ে বলল, “একদম ঠিক।’’
আমি শব্দদূষণের ভয়ে ওপরে পালিয়ে আসি। পৌনে এগারোটার দিকে বাবা ছুটতে-ছুটতে গেট পেরোল। নীচে নেমে জিজ্ঞাসা করি, “ মা, বাবা ওরকম দৌড়ে গেল যে!’’
“শাসমল এসেছিলেন। কিছুতেই ছাড়ে না। তোর বাবা তো বোকা, তাল মিলিয়ে কথা বলছিল শুরুতে। ব্যস,কিছুতেই আর ওঠে না। তোর বাবা যত বলে একটু উঠি,স্নান করি, স্কুল যেতে হবে, কথার তোড় থামে না কিছুতেই। কোনোমতে পাঁচ মিনিটে স্নান-খাওয়া সেরে ছুটল তাই।’’
প্রতিবেশী অভদ্র,আনসোশ্যাল বলে ক্ষুব্ধ শাসমলবাবু শুরু করতেই বাবা বোধহয় সেদিন সাহসী হতে পারেনি কিছুতেই।
পাঁচ বছরের মধ্যেই পাড়ার বাসিন্দাদের কাছে শাসমলবাবু প্রায় ব্রাত্য হয়ে পড়লেন। অধিকাংশ মানুষ তাঁকে এড়িয়ে চলেন। পাড়ার খালি জায়গাগুলিতে অনেক নতুন বাড়ি গড়ে উঠতে শুরু হল। শাসমলবাবু যাওয়ার নতুন নতুন বাড়ি পেলেন। আলাপী মিশুকে বুড়োমানুষকে পেয়ে যাঁরা আহ্লাদিত হয়েছিলেন প্রথমে, তাঁরাও বছর ঘুরতেই সুবীরবাবুর মতোই ‘অভদ্র এবং আনসোশ্যাল’ হয়ে গেলেন। শাসমলবাবু নিজের ঘরে বন্দি হয়ে পড়লেন ক্রমশ। কেউ তাঁর ছায়াটি মাড়ায় না। জানালার পাশে বসে থাকেন চুপচাপ। কমবয়সী কাউকে দেখতে পেলে বলেন, “ভেতরে আসবি প্রকাশ?’’
“না,দাদু। এখন নয়,পরে। ব্যস্ত আছি।”
“অনুশ্রী, কলেজ যাচ্ছিস?’’
“হ্যাঁ দাদু।”
“বিকেলে আসবি? গীতবিতান পড়ে শোনাব। বুঝবি জীবনবোধ কাকে বলে?’’
“বিকেলে টিউশন আছে।”
“ও!’’ তিনি শূন্যদৃষ্টিতে চেয়ে থাকেন। উদাস দেখায় তাঁকে।
দুই ছেলে কর্মসূত্রে বাইরে, নিয়ে যেতে চাইলেও কিছুতেই তাদের কাছে যাবেন না তিনি। বিপত্নীক মানুষ, বড্ড জেদি, বাইরে মিশুকে হলেও শোনা যায় ঘরে এককালে দাপুটে ছিলেন ভীষণ। তাঁর দাপটে তিতিবিরক্ত হয়ে এক ছেলে স্বেচ্ছায় অন্যত্র বদলি নিয়ে চলে গেছে।
চনমনে নীরোগ শাসমলবাবু ঝিমিয়ে পড়লেন। আগে রাস্তায় দ্রুতগতিতে হাঁটতেন,অসম্ভব ফিট চেহারা, কথা বেশি আর বলতেন না। লোকজন বলল, “এদ্দিনে বুড়োমানুষের সেন্স হয়েছে। কথা বলতে গল্প করতে কারও তো আপত্তি ছিল না। মুশকিল হল ওনার ইঞ্জিনে ব্রেক নেই, স্টার্ট দিলে আর থামত না।”
ঘরে আর রবীন্দ্রসংগীত বাজে না, নিঝুম নিষ্প্রাণ মনে হয় বাড়িটাকে। বড় বাড়িটায় একটা রুমেই আলো জ্বলে, বাকিটা পড়ে থাকে একাকিত্বের অন্ধকারে।
বৈশাখের এক সকালে রান্নার মাসি কাজ করতে এসে বারবার কলিংবেল টিপেও সাড়া পেল না। অনেক ডাকাডাকির পরে পাড়ার লোক দরজা ভেঙে দেখল, বিছানায় পড়ে আছেন শাসমল। ডক্টর এসে পরীক্ষা করে জানালেন, হি ইজ নো মোর। ভোররাতে সেরিব্রাল অ্যাটাকে অনন্ত নৈঃশব্দের দেশে চলে গিয়েছেন তিনি।
ফণীন্দ্র শাসমল চলে গিয়েছেন দু’হাজার বারো সালে। পাড়ায় বাড়ির সংখ্যা বেড়েছে প্রচুর, লোকজন অনেক, কাউকেই আর সেভাবে কেউ চেনে না। বিজয়া দশমীর পাট উঠে গেছে। কেউ কারও বাড়ি খুব প্রয়োজন ছাড়া যায় না। সুভাষপল্লী এখন শহরের অন্যতম অভিজাত পাড়া। শাসমলের ‘মালঞ্চ’ ভেঙে বহুতল মাথা তুলেছে। বত্রিশটি ফ্ল্যাট নিমেষেই বিক্রি হয়ে গেল। বাবা নাক কুঁচকে বললেন, “ছ্যা,এসব পায়রার খোপে মানুষ থাকে?’’
বাবার বয়স সত্তর পেরিয়েছে। মারণরোগ থাবা বসিয়েছে শরীরে। পাড়ায় হাঁটতে বেরিয়ে কারও সঙ্গে দেখা হলেই গল্প করে। ঘরে বাবার একটানা বকবকে সবাই বিরক্ত হই। মাঝেমধ্যে নিজের মনেই বকে চলে অনর্গল, দেয়ালই তার শ্রোতা।
জমি-সংক্রান্ত একটি কাজে এক মুহুরির কাছে গিয়েছিলাম। বাবার প্রাক্তন ছাত্র। কথায়-কথায় তিনি বলেই ফেললেন, “ওরে বাবা ! স্যার কী সাংঘাতিক বকতে পারেন! আমার ফোন আর কান দুটোই গরম হয়ে যায়।”
স্কুলের হীরক-জয়ন্তী উপলক্ষে বাবার স্কুলের অনিলকাকু কার্ড দিয়ে আমন্ত্রণ জানাতে এলেন। বাবা তখন বাথরুমে। বললাম, “বসুন,বাবা আসছে এখনই।”
অনিলকাকুকে আতঙ্কিত দেখাল, “না,একদম সময় নেই। অনেক জায়গা যেতে হবে। সুরেশদা কথা বলতে শুরু করলে আর থামবেন না। এখন আসি। বাবাকে বলে দিয়ো।’’
ডাক্তারের কাছে গেলে বাবা সবিস্তারে বলেই চলে। একই কথা,একই উপসর্গ ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে বলতে শুরু করলে সামাল দিই। সংক্ষেপে বলে প্রেসক্রিপশন নিয়ে বাইরে বাবাকে একরকম জোর করে টেনে আনি। ক্ষুন্নগলায় বাবা বলে, “সবেতেই তোর সামারি। গুছিয়ে না বললে ঠিকঠাক চিকিৎসা হয় না।’’
সারাদিন একাই ঘরে কাটায় বাবা। কেউ এলে বিছানা থেকে উঠে প্রায় ছুটে কথা শুরু করে দেয়। আমার বন্ধু বা সহকর্মী কাউকে পেলেই বাবাই অনর্গল বলে চলে। আমার বা তাদের কথা বলার সুযোগই থাকে না। বুঝতে পারি শ্রোতা ওঠার জন্য ছটফট করছে।
বাধ্য হয়ে একদিন বলি, “বাবা, তোমার স্থান-কাল-পাত্র কিছুই কি খেয়াল থাকে না আজকাল? লোকের সময়ের দাম আছে।”
রেগেমেগে বাবা তাকায়, “সবার মতো মুখে কুলুপ এঁটে বসে থাকব? কথা বললে মানুষ ক্ষয়ে যায় না।’’
“তুমি দেখছি ফণীন্দ্র শাসমলের ডুপ্লিকেট হয়ে যাচ্ছ।”
“শাসমল লোকটা বেশি বকত। বেশ করত। এখন তো দেখি সবাই প্রাণের দরজায় তালাচাবি মেরে বিচ্ছিন্ন বসে থাকে। এটা জীবন না নির্বাসন?’’
বাবাকে রোখা অসম্ভব বুঝে কথা বাড়াই না। রোজ সকালে বাবা পাড়ায় বেরিয়ে পড়ে। মা হাসে, “তোর বাবা পাড়া বেড়াতে গেল।’’
রাস্তাতেই হাঁটে বাবা,বেশিদূর যায় না। নেক-ফিমার অপারেশনের পর থেকে বেশি হাঁটতে পারে না,অল্প খোঁড়ায়। যার সঙ্গে দেখা হয় কথা বলে,গল্প করে,কুশল জিজ্ঞাসা করে। অবশ্য বেলাগাম হয় না, কারও বাড়িতে ঢুকে পড়ে না। শুধু বাড়িতে কেউ এলে বাবার কথা কিছুতেই ফুরোয় না। দু’হাজার ষোলোর শুরুতেই বাবার শরীর ভাঙতে শুরু করল, নিস্তেজ থাকে সারাক্ষণ, বেশি কথা বললে হাঁপিয়ে ওঠে। লোকাল ডক্টর বললেন, “কিছু করার নেই। ধরে নিন বড় গাছ ঝড়ে পড়ে গেছে। এখন শেষের অপেক্ষা।”
অপেক্ষা না-করে ছুটে যাই কলকাতার সেই ক্যান্সার হসপিটালে যেখানে নিয়মিত বাবাকে দেখানো হচ্ছে সাত বছর ধরে। আই.সি.ইউ-তে বারোদিন কোমায় পরে বাবা চলে গেলেন পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে।
সন্ধেতে অ্যাম্বুলেন্সে করে বাবার মৃতদেহ নিয়ে পাড়ায় ঢুকতেই চমকে উঠি। গলির শেষমাথা অব্দি বাইক আর সাইকেলের ভীড়। অসংখ্য পরিচিত মানুষ এসেছে বাবাকে শেষবারের মতো দেখতে। সারা পাড়া ভেঙে পড়েছে আমাদের বাড়ির সামনে। মনে-মনে বাবাকে সবাই এত পছন্দ করত! শেষদিকে এরা কেউ কেন আসত না, কেন বাবাকে উদাসভাবে বাগানের দিকে চেয়ে চুপচাপ বসে থাকতে হত?
রাতে শববাহী গাড়ি ধীরে ধীরে বেরোচ্ছে বাবাকে নিয়ে। শাসমলের বাড়ি ভেঙে গড়ে ওঠা সেই বহুতল প্রায় স্তব্ধ। বাবার কথিত ‘পায়রার বাসা’-গুলিতে আলো জ্বলছে। কয়েকটি ব্যালকনি থেকে উঁকি দিল অচেনা কিছু মুখ।
কেন যেন মনে হল শাসমল এবং বাবার পরে আমাদের সবারই পালা আসবে। আমরা সবাই বুড়ো এবং এভাবেই একা হব একসময়…






এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান