মায়ালিপি
-আতিকা হাসান
পিতার নিকট টাকা চাহিয়া পুত্রের লেখা
প্রথম চিঠি , “বব! টক পঠ ত পঠ, ন পঠ ত ভত ভত মর যব!”
শুধু বর্ণ শেখা শিশু বিদ্যাসাগরের
আশ্চর্য বাংলা পত্র।
জননীর ঠোঁট, মুখ, নাক ছুঁয়ে
সন্তানের প্রথম বুলি , “মা!”
ব্যঞ্জনবর্ণের একমাত্রা অক্ষর বিন্যাস
কী তুমুল মায়াময়!
কী মধুর উচ্চারণ!
আকুল বেদনায় নিবেদিত প্রাণ
হাবুডুবু খায় ভাষার সংকটে
অথচ, বাংলা শব্দ বাক্য নোনাজলে
মুহুর্মুহু ভিজে প্রার্থনার দুইহাত!
গলির মুখের পাগলটা প্রায়ই দৌড়ে এসে
বাড়িয়ে দেয় মলিন বাহু ,”টাহা দে! ভাত খামু।”
বাংলা মদে চুর হয়ে প্রতি রাতেই বউ পেটায়
বস্তির মজনু
কম যায়না বউও
একই তালে চলে খিস্তি খেউর,
বাংলায় শান দেওয়া দুটো ঠোঁট
ঢাল হয়ে দাঁড়ায় বাঁচার নিমিত্তে।
যেদিন থেকে মাতার আঁচল তলায়
পেয়েছি ঠাঁই
বাংলা মাটির রং-রূপ-গন্ধে হয়েছি বিভোর
ঠিক সেদিন থেকেই
চিন্তা-চেতনে
আবেগ অনুভূতিতে
পঞ্চাশটি বর্ণে নিবিড় উপশম।
একুশের ত্যাগ, একুশের অহমিকায়
বিশ্বের সহস্র কোটি মানুষের বিস্মিত মননে
আমরা আমি হয়েছি।
বাংলা ভাষাー
বাঙালি জাতির অন্তঃস্থিত এক গভীর ব্যথা
বাঙালি জাতির অস্তিত্ব রক্ষার এক গর্বিত
সংগ্রামী আখ্যান।






এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান