ফারহানা ইলিয়াস তুলি
মা,
সারা রাত আমাকে মশায় কামড়ায় !
আমি ঘুমোতে পারি না। তুমি আমাকে
দেখতে এলে একটি মশারী নিয়ে এসো!
সাথে এক প্যাকেট শাদা খই। ওইদিন
পাশের রুমে সাবেরকে খই খেতে দেখেছি
আমি! তার মামা নিয়ে এসেছিলেন।
শুনেছি- আমার কোনো মামা নেই। তাই;
তুমি মনে রেখে আমার জন্য খই এনো!
মা,
ওরা আমাকে বার বার বলেন, তুমি আসবে!
মা আসবে শুনলেই আমি কাঁদি! কিন্তু তুমি
আসো না! আমার কথা কি তোমার মনে পড়ে
না- মা !
আমার একটা ব্যাডমিন্টনের ব্যাট দরকার।
আমাদের এতিমখানায় যে ব্যাটগুলো এসেছিল-
তা বড়’রা নিয়ে নিয়েছে। বলেছে, আগামী বছর
আমাদের দেবে ! আগামী বছর তো অনেক দূরে-
মা ! তুমি কি আমাকে একটা ব্যাট কিনে দিতে
পারো না ! তোমার কাছে বুঝি টাকা নেই !
এতিমখানার চত্বর জুড়ে ঘোর সন্ধ্যা নামছে!
আমি আমার, পঞ্চম শ্রেণীতে পড়ুয়া সন্তানের
হাত থেকে- ‘সান্তা ক্লজের কাছে লেখা চিঠি’
বইটির পাতা উল্টাতে উল্টাতে এতিমখানার
শিশুটির কথা ভাবছি!
যে শিশুটি জানে না- মাত্র ছয়মাসের
রেখেই তার মা, মেঘনা নদীতে ঝাঁপ দিয়েছিল!
সে জানেনা, কোনোদিনই তার মা তাকে দেখতে
আসবে না !
জারুল গাছটির দিকে আমি এগিয়ে যাই। বসন্তের
হাওয়া আমাকে ত্রস্ত করে তোলে। সাইরেন বাজিয়ে
মফিদুল ইসলামের একটি এম্বুল্যান্স-
এতিমখানার গেট পেরিয়ে যায়। পরের দিন দৈনিকে
সংবাদ আসে,ওই এতিমখানার পুকুরে একটি বালকের
শবদেহ ভেসে ওঠেছিল !





এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান