ফকির ইলিয়াস
শেষ পর্যন্ত আমার হাতের তালুতেই স্থিত
হয়ে রইলো আগুনের ফুলকি।আমি দেখলাম
দখল হয়ে যাচ্ছে গ্রাম,শহর,কামানের গোলা,
কামারের হাতের লৌহখণ্ড। কুমোরের হাড়ি
জবরদখল করে কেউ ভেঙে ফেলছে খোলা মাঠে!
দেখলাম;শিশুরা কাঁদছে পিতার ভাস্কর্যের পাশে বসে,
যাদুঘরের রক্ষণকারী,প্রাণভয়ে ছুটে যাচ্ছেন অন্য
কোনো গন্তব্যে! পাখিরা বন্ধ করে দিচ্ছে,সুললিত সুর!
একাত্তরে,ঠিক এভাবেই এক নগ্নকাল নেমে এসেছিল
এই বদ্বীপে! অজানার উদ্দেশ্যে ছুটে চলেছিলেন বয়স্ক
পিতা ! একহারা শাড়ি পরে আশ্রয়ের খোঁজে দেশত্যাগ
করেছিলেন বৃদ্ধা মা। অবুঝ বোনটি-
ভয়ে কেঁপেছিল থরথর করে !
আমরা অনেক কিছুই ভুলে যাইনি।ভুলিনি,কোথায়
অস্ত্রহাতে দাঁড়াতে হয় ! কোথায় জমা দিতে হয় মনের
আগুন, কিংবা কীভাবে আঙুলে এঁকে রাখতে হয়
দাঁড়িকমার ভূমিকা ! বিশুদ্ধ কুয়াশার জন্মইতিহাস !
একদিন এই কুয়াশাগুলোই উড়িয়ে দেবে আগামী
প্রজন্ম । আকাশের সর্বোচ্চ স্তরে লাল-সবুজের পতাকা
উড্ডীন করে তারা বলবে,আমরা বিজয়ী হয়েই থেকে
যেতে চাই।পরাজয় বলে কোনো শব্দ
আমাদের সংবিধানে নেই !





এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান