সালাম, হে সুলতানা

হে সুলতানা, একবার এই দিকে চেয়ে দেখুন,
আমার মেয়ে আজ তরুণ ম্যাজিস্ট্রেট,
পরাধীন দেশে…যেমনটি একদা ছিলেন
আলোকিত হৃদয়ের মানুষ সাখওয়াত হোসেন;
আমার ভাগ্নি-ভাস্তি আজ ব্যাংকার,
দুহাতের দশ আঙুলে স্বামীর টাকাপয়সার হিসাব নয়,
পুরষতন্ত্রের ব্যাংকে বসে তারা মিলিয়ে নিতে পারে
দিনশেষে, নারীজীবনের ব্যাল্যান্স সীট;
আমার জীবনসঙ্গিনী– যে অর্থনীতির এমএ,
দাদি-নানীর মুরগির খুল্লা ছেড়ে আজ
সংসার সামলে মাঝারি কিসিমের ব্যবসায়ী,
আর সোহরাওয়ার্দীর গাউন পরে যেতে পারে
বিজ্ঞ আদালতেও; কাঠগড়ার কথা ভেবে
আমি নিজেও সতর্ক থাকি,– ঘরে। বাইরেও।
আমার বেয়াইন আজ পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক
ঘরভরতি ক্লাসে নিউটনের সূত্র পড়াতে পড়াতে
চোখেমুখে রচনা করেন এক পৃথিবী অভিকর্ষ,
কখনো দূরে– কখনো কাছে, কখনো-বা অদৃশ্যে
টানটান হয়ে ওঠে সবুজাভ ভারকেন্দ্রগুলো;
তাকে ঘিরে অধ্যক্ষ মশাই মানে আমার বেয়াই,
আহ্নিকগতি পায়ে নিয়ে ঘোরেন ঠিকঠাক–
মহাকর্ষ নিয়ন্ত্রিত বার্ষিক গতির ঘোর মাখা কক্ষপথে;
যার গালে প্রাপ্তবয়স্ক প্রথম চুমু দিয়েছিলাম
পউষের কাছাকাছি রোদমাখা সেইদিনে,
যে আমার তরুণ নদীর ঝরনা ছিল পাঁচ পাঁচটি বছর,
গাল মুছে নিয়ে সময়ের রুমালে সে এখন
অবসরপ্রাপ্ত ভিআইপি; শারদ মেঘের দিকে
তাকালেই তার কথা মনে আসে…

বারঘাটের জল ছুঁয়ে আসা আজকের এই আমার;
আর আমার ভালোবাসার স্টেশনে যে লেট ট্রেন,
সে আজ ভালোবাসামাখা শক্তহাতে চালায়—
আমার পিতার সেই পরিবার নয়,
আমার দাদার সেই পাড়া নয়,
রোদে টানটান– অন্ধকারে হিসহিস
আন্দোলনে উথাল পাতাল হতে অভ্যস্ত
আস্ত একখানি উত্তরাধুনিক জেলা ;
এবং এভাবে আরও বলতে পারি…..আরও..
আপনার কাছে আমার এত এত ঋণ, হে সুলতানা,
আমি শুধবো কী দিয়ে?
তেমন কোনো সম্পদ যে নেই আমার;
ভালোবাসার ভূগোলে–আমি শুধু এক
শব্দের শ্রমিক–সবুজ সোনালি চিত্রকল্পের চাষি;
আপনার ‘সুলতানার স্বপ্ন’ থেকে স্বপ্ন নিয়ে বুকে
বিল গেটসের চেয়েও ধনী যে নারী,
যে আমার পরিণত ভাবনার নায়িকাও,
তার দিকে দুচোখ ভরে তাকিয়ে–
বাজিগর-বুকে নিয়ে সবখানি অভিকর্ষ
প্রসারিত হাতে দিগন্ত ছুঁয়ে ফেলা
শাহরুখ খানের ভালোবাসা এনে কণ্ঠে,
বলি: ‘তোকে ছুঁয়ে দেখবো
যেভাবে বেগম রোকেয়ার ভাবনারা
ছুঁয়ে আছে নারীস্বাধীনতার কেন্দ্র; ’
সে হাসে; আমার ঋণ বেড়ে যায়….



Discover more from Shikor

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান

Trending