
আছিয়ারা মরে নাই
লক্ষ্মণ মোটেই ভালো নয়– চারিদিকে শুধু
ভয় আর ঘনঘোর আতঙ্কের বিভৎসিত ছায়া ;
অবাক হবার মতো তেমন কিছুই ঘটছে না,
বরং এটাই স্বাভাবিক; কেননা মানুষ নামে
যারা পরিচিত তারা কিন্তু জীব নয় –শুধু জন্তু,
জন্তু ছাড়া অন্য কিছু ইদানীং চোখেই পড়ে না।
মিশন সমাপ্ত হলে সারি সারি নিহত গোলাপ
রক্তমাখা মেঘ হয়ে উড়ে যাচ্ছে ফ্যাকাশে জ্যোৎস্নায়–
হিমাগারে অন্ধকার; কতিপয় হিংস্র জানোয়ার
অবুঝ শিশুকে নিয়ে এ কেমন অশ্লীল নেশায়
মেতে ওঠে! কে দেবে উত্তর? গন্ডারের চামড়া গায়ে
সভ্যতার সুশীল বাবুরা চোখ কান বন্ধ করে
মিডিয়া সেলুনে বসে পরম আনন্দে পা দুলিয়ে
তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলছে; আর বাল কামানোর ক্ষুরে
গোপন বাসনা বুকে ধার দিচ্ছে নাপিত মশায়।
হাটে ঘাটে দেখা যাচ্ছে গোবেচারা বনিক বেনিয়া
যদিও আগের মতো খোস মনে খুব ভালো নেই,
তবু তার কায়-কারবার ঠিক ঠাক বেশ চলছে :
নিজের নিয়মে নিত্যদিন সূর্য ওঠে সূর্য ডুবছে;
যদি ভয় সর্বত্রই সারাক্ষণ ওঁৎ পেতে রয়
তবে আল্লাহ মালুম গরীবের কী আছে কপালে!
আসন্ন মৃত্যুর গন্ধে ঝরে যাচ্ছে পলাশের কুঁড়ি–
মলিন বদনে আমাদের হতভাগী মা জননী চোর ডাকাতের পাশাপাশি বর্ণচোরা খুনি আর
ধর্ষকের ফাঁসির দাবিতে আজ নামে রাজপথে —
নিজের শিশুর জন্য সুরক্ষার মহল বানাতে
নিষ্ফল প্রহর গুণতে গুণতে তার চোখে ঘুম নেই।
রমজানের ঈদ আসে রক্তে ভেজা চাঁদের বেদীতে ;
ঈদের জ্বলন্ত চাঁদ পুড়ে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে —
ভস্মীভূত ছাইয়ে মোড়া খুকুমণি আছিয়ার লাশ–
এ লাশ কবরে নেই, শুয়ে আছে প্রাণের কেল্লায়:
আছিয়ারা মরে নাই অভিমানে ঘুমিয়ে পড়েছে ।






এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান