শিরনামহীন কবিতা- ১

সম্ভবত যে শহরটা খুঁজছি সেটা কী এই গলির শেষেই
আগুন নিভে গ্যাছে
তবুও তার নিতম্বে হাত বোলাতে বোলাতে
ভালবাসার কথা বলেছি কতশত
সে চোখ ঢেকেছিল দু’হাতে
সে আমার প্রেমিকা নয়
নিত্য প্রত্যাখ্যানের প্ররোচনায় দোদ্যুল্যমানতা
মুঠোয় ধরেছিলাম তাকেই
আমার নেতিয়ে পড়া বেঁচে থাকাকে মান্যতা দিতে
সে যখন বিশ্বাস করতে শুরু করেছিল
আমি নিঃশব্দে বিড়ালের মতো সরে গিয়েছিলাম
অন্ধ অরণ্যের মূঢ় গর্জনে খসে পড়েছিলো
তার আব্রু
ঝলমল করছে তার সিঁথিতে টিকলি গলায় চন্দ্রহার
দু’বাহুতে কেয়ুর কোমরে গোট
হাতে রতনচূড় দু’পায়ে নূপুর
কুসুমস্পর্ধী সে বৃক্ষ হাসছে খিল খিল করে
হোঁচট খেতে খেতে তখন চিৎকার করছি চোখ ঢাকো চোখ ঢাকো


শিরনামহীন কবিতা- ২

ঠেসেঠুসে চার বাই দুই যথেষ্ট
শুধু ফলকের উপর আলকাতরা লেপে দিও
কখনো সখনো বা সবুজের আভাস
দ্যাখা দিলে
ছেঁটে দিও তাও
ন্যাড়া মাটিতে কোন শোকের পতাকা থাকবে না
চারমাত্রা ছয়মাত্রা নিয়ে বিতর্ক বাঁধুক
মিছিলে মিছিলে ছয়লাপ হোক
নগরীর রাজপথ
সময়ের আগে চলতে চেয়েছিল কে
রূপকের ঠুলিতে সময়কে অন্ধ করে
ক্ষরনে স্খলনে
নিজেকেই উদযাপিত করেছে বারবার
একমাত্র শব্দশৈলী জানে কবির আত্মহননের কথা
ধর্ষকের কফিনে ছাতা ধরবে কে
বিজ্ঞাপনে মুখ ঢেকেছে নাগরিক সভ্যতা


শিরনামহীন কবিতা- ৩

ছাই রঙা আকাশের নীচে কিছু অনাদর পড়ে থাকে হিমে
অকাট্য বিরাগ আর অসমাপ্ত স্বরলিপি নিয়ে
খুঁজে চলে আঁচলের গিঁটে বাঁধা
চাবির গোছাতে
হলুদ খামারভরা শর্তপূরণের শস্যের শহরে
আগুন থমকে আছে কত রাত্রব্যাপী
অভিমানী তারারাও মুখ লুকিয়েছে আজ
অব্যর্থ কিছু স্থির শব্দভেদে
মুছে দিয়ে বিলাসী বিলাপ আর বীতরাগ বিষের বাঁশী
অবসন্ন পোড়া দেহে
প্রবল আর্তিতে বুঁদ
আমরণ চুম্বনে রত হয়ে বোঝাবে
এ আরত্র আঁধারে আলো কারে বলে


শিরনামহীন কবিতা- ৪

ভিখিরী পাগলে ছুঁয়ে দিয়ে
কী দেবে ধারনা
স্বচ্ছলতার সকল প্রস্তাবনা
যা নেই তাই দেবে আজ নিশ্চিত আশ্রয়
সংগোপনে কবিতার মুখ
ছন্দ ও লয়ের আশ্চর্য উপমা
সব ক্ষয়ে ক্ষয়ে রৌদ্র ও জোছনায় কে দিয়েছে আড়ি
সব দিয়ে থুয়ে
তুমিতো কেবলি উচ্ছন্নে বখে যাওয়া মাগী
শূন্যতার ও এমন আছে ভরাট আঁচল
আরো শূন্য হতে পারো
তুমি সেই নারী
চন্দনে সাজাবে সেই অভুক্ত চিবুকে
উন্মুক্ত আকাশতলে পেতে দেবে কোল
তৃষ্ণার্ত ঠোঁটে দেবে
মায়াভরা বুক
কবিতা লেখা হবে আবার ঐশ্বরিক স্পর্ধায়


শিরনামহীন কবিতা- ৫

সম্ভবত যে শহরটা খুঁজছি সেটা কী এই গলির শেষেই
আগুন নিভে গ্যাছে
তবুও তার নিতম্বে হাত বোলাতে বোলাতে
ভালবাসার কথা বলেছি কতশত
সে চোখ ঢেকেছিল দু’হাতে
সে আমার প্রেমিকা নয়
নিত্য প্রত্যাখানের প্ররোচনায় দোদ্যুল্যমানতা
মুঠোয় ধরেছিলাম তাকেই
আমার নেতিয়ে পড়া বেঁচে থাকাকে মান্যতা দিতে
সে যখন বিশ্বাস করতে শুরু করেছিল
আমি নিঃশব্দে বিড়ালের মতো সরে গিয়েছিলাম
অন্ধ অরণ্যের মূঢ় গর্জণে খসে পড়েছিলো
তার আব্রু
ঝলমল করছে তার সিঁথিতে টিকলি গলায় চন্দ্রহার
দু’বাহুতে কেয়ুর কোমরে গোট
হাতে রতনচূড় দু’পায়ে নূপুর
কুসুমস্পর্ধী সে বৃক্ষ হাসছে খিল খিল করে
হোঁচট খেতে খেতে তখন চিৎকার করছি চোখ ঢাকো চোখ ঢাকো


Discover more from Shikor

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান

Trending