
আমাতে বহমান
আমার হনূর হাড়ে ঝলসে ওঠে আর্যের তেজ
আর দুর্ধর্ষ চোখে চেঙ্গিসের লোহিত উতরোল
নিশ্চিহ্ন করে ডরের দুর্বল বেদী।
আমি প্রবল পরাক্রমে প্রতিরোধের মুখে হই ক্ষ্যাপা।
আবার কখনো নূপুর নিক্বণে,নয় মুজরার রসে
রাঙিয়ে তুলি আমার অস্থির।
ধূর্ত শ্বাপদের নীল রক্ত আমার শিরায় বহমান।
পারঙ্গম কৌশলে ভরতে ঝুলি
অন্যের ঐশ্বর্য – ধন।
আমি কখনো মসিয়ে,কখনো মশাই,কিংবা জনাব
সব ডাকেই দেই সাড়া।।
একাধারে পাঠ করি অনর্গল
সংস্কৃত স্তোত্র যেমন
তেমনি আবার সুরমা চোখে
তাম্বুল রাগে ধরি ঠুমরী কিংবা টপ্পা।
আমার চরণে আলতার রঞ্জন।
আর হাতে বাঁশের লাঠি,লগি-বৈঠা।
ভরাগাঙে ভাটিয়ালি সুরে আনমনা আমি দিনমান।
আমার আকাশে যখন শকুন ওড়ে,
নখর বসায় নরম কাশবনে হিংস্র দাঁতাল শুয়োর
আমি মধুমতী সাঁতরে মায়ের আদরের খোকা থেকে
হয়ে যাই গনগনে সূর্য।
হুংকারে ধ্বনিত হয় আমার বজ্রকন্ঠ।
আমি একখণ্ড মায়াময় বাংলাকে দশ আঙুলে আঁকড়ে ধরি
চিৎকারে বলি “এ মাটি আমার”!
সুদূর ইতিহাস থেকে উঠে আসা সংস্কৃত,পালি,অপভ্রংশ
সব পাঠ মগজে পুরে
হৃদয়কে সোনায় মুড়ে
হয়েছি তোমার সন্তান।
আমি বাঙালি।বাংলা আমার ভাষা
এদেশ আমার প্রাণ।






এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান