
সন্তের শেষ কবিতা
এড়িয়ে যেতে যেতে আড়াআড়ি বিঁধে গেছে তির
মাঝপথে রাজপথের শেষ প্রান্তে যন্ত্রণার ভিড়।
তোমার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে সব শব্দ নিবিড়
নীরব আলোয় ভেসে গেছে সে রেখে গেছে তিমির।
সে এসেছিল কৃষ্ণচূড়ার রঙে রাঙাতে মাটির শরীর।
সে এসেছিল শহীদ মিনারে জাগাতে বেদনা গভীর।
সে কি আমারই মতো এড়িয়ে যায় প্রাচীর?
সে কি প্রাচীর ভেঙ্গে হাতে হাত রেখে, উচ্চ করে শির?
তার চোখে চোখ রেখে সাগর হয়েছে অস্থির।
তার সুরে সুর মিলিয়ে গান হয়েছে অধীর।
তার কাছেই জীবনানন্দ, তার কাছেই আমার সুখের নীড়।
তার হাতেই তির বিদ্ধ আমার হৃদপিণ্ডের কার্ডিয়াক প্রাচীর।
তুমি নীরবে দেখেছো সব নিঠুর খেলা প্রকৃতির।
লন্ড ভন্ড সময় ঘড়ির দোষ কেবলই নিয়তির।
তার কথা লেখা ছিলো পাতায় পাতায় ডায়েরির
সব শব্দ মুছে গেছে চোখের জলে –
প্রতিটি পাতায় ধরেছে এখন চির।
খোলা জানালায় ডেকে যায় সেই ডাক হিমাদ্রির
কত দূরে তার প্রতিধ্বনি বাজে জানেনা শহরের মুসাফির।
তাঁকে খুঁজে ফিরে আকাশের তারা, নদীর দুই তীর।
এ পারের দীর্ঘশ্বাসে ওপারে কাঁদে ভাঙা বুক পানকৌড়ির।
আমিই কি হিমাদ্রি আমিই কি দীর্ঘশ্বাস পার্বতীর?
ভাগ্যের ভাগাভাগির নির্মম পরিহাসে হেরে যাওয়া জিতবাজীর?
সে মুসাফির হারিয়ে গেছে, সাথী আজ ধুলোবালির।
তারই ডাক শুনি আমার প্রতিটি প্রবাহে শিরায় ধমনির।
এই তিমিরে তুমি কি শোনো আমার বেদনা আরতির?
কষ্ট আমার কষ্টই টানে কষ্ট জমাট পৃথিবীর।
কত কষ্ট পেলে কষ্ট ঘুচবে?
উড়বে পতাকা শান্তির।






এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান