রুইতনের বিবি
     

ইচ্ছে করে ভুল বানানে তৈরি  ঘুমন্ত মানুষজন।সহজ করে ইঁদুরের মতো রাতারাতি বেড়ে ওঠে সময়।আর রাস্তাগুলো কাঁপছে নীল আলোর ছটায়।সবচেয়ে কঠিন অপেক্ষার জন্য চিৎকার।চেনা রাত আঁকড়ে ধরে শূন্য দেয়াল।

  :হাজারো প্রশ্ন।কবে আসবে?
  :কোথায়?
  : নম্বর হীন বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কবে ঠোঁটে ঠোঁট রেখে বলবে, তোমার শরীরে সূর্যমুখীর ঘ্রাণ।

যশোরের প্যারিস রোডে তখন আলোর পাগলামি।মাঝে মাঝে আলোর ফোটনে দেখা অরুন্ধতী। নম্বর হীন বাড়িটির সামনে দাঁড়ালে রাত নেমে আসে চোখে।শান্তি। কষ্ট। দুঃখ। মেয়ে মানুষের ঘ্রাণ।

চুপচাপ । খামখেয়ালি স্বপ্নেরা ডানায় গতি আনে।
সূর্যাস্তের ঠিক আগে রেল লাইনের ওপর হেঁটেছিলে। ফোঁটা ফোঁটা আগুনের স্পর্শ ভীষণ পাগলামি। তীব্র চাপে ভেঙে যায় সব। বহুদিন হলো মনোযোগ দিয়ে পড়া হয় নি আদিম আঁধারের পাঠ।

আর্নেস্ট হেমিংওয়ে,কার্লোস ফুয়েন্তেস,মারিও ভার্গাস ইয়োসা,কাফকা,শহীদুল জহির,শক্তি
চট্টোপাধ্যায়,লোরকা,মায়াকোভস্কি,বিনয় মজুমদারের ডায়েরি, শঙ্খ ঘোষের দামিনীর গান,সুবিমল সেওতো পড়েছি নয় মাস আগে।

:কেনো পড়নি অন্যকিছু?
:ছায়ায় ছায়ায় ছুঁয়ে থাকে রাত। বিবর্ণ হচ্ছে সময়।নোনা কাব্যের ভয় কিসের? তার জন্য হয়তো পড়া হয় নি।হয়তো পলিটিক্সে রোজই বদলে যাচ্ছে রাস্তা।

:চাঁদের আলোয় তুমি যেদিন হাসবে ঠিক সেদিন মারা যাবো।
:মেয়ে মানুষের ভেতর মরণ।তুমি মিথ্যা বলো।

সেদিন থেকে কেউ দেখেনি নম্বর হীন বাড়িটি। একদম কর্পূরের মতো ভ্যানিশ।আর তার সাথে সাথে ভ্যানিশ যে শিখিয়েছিল আদরের পাঠ।যত স্বপ্ন লুকিয়েছিল ঝরাপাতার ভেতর,  নম্বর হীন বাড়িটিতে ছিল রুইতনের বিবি।রুইতনের বিবির জন্য পলাশের ফুল বুক পকেটে।  রাস্তায় ঘুরে বেড়ায় পুরুষের চুম্বন। গিন্সবার্গের চোখ ছুঁতেই পারি না।মেয়েটিকে না দেখলে বুকটা হু হু করে ওঠে।প্যারিস রোড,সার্কিট হাউজের রাস্তায় ঘুরে বেড়ায় পুরুষের চুম্বন।

তখনই খিলখিল করে ভেসে আসে হাসির শব্দ।তাকে দেখা যায় না।শালা ওই মেয়েমানুষ ছিল, বন্ধুর বউ।তবে বন্ধুকে বলা হয় নি।অরুন্ধতীর পার্সের ভেতর থাকতো রুইতনের বিবি আর ল্যাকমের নাইট ক্রিম।

জ্যাক কেরুয়াকের কবিতার লাইন জৈবিক শরীরে ফিরে ফিরে  টিয়ের বুকের হাড় হয়।
    কাফনের ব্যাগ উড়ছে হাওয়ায়
    পতাকার মতো করে
    মাঝরাতে ফিরলাম
    তাদের মুখ শয়তানের মতো
    বিস্মিত, বিরক্ত
    সোনার অক্ষরে লেখা হবে হয়তো
    লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত থাকবে
    ফিনেগানস নিদ্রাভঙ্গে নীল সময়

যখন চোখে নিঃসঙ্গতা নেমে আসবে তখন বলবো,রুইতনের বিবি আর কেউ না…
ঘুমে হেঁটে হেঁটে দেখে আসা ঘোর জোছনার
কান্না থেকে তৈরি হয় ছায়া। নম্বর হীন বাড়িটির রুইতনের বিবি সবুজ মুদ্রায় ভ্যানিশ। ঠোঁটের মাংস নিমগ্ন তখন আঙুরের ধ্যানে।বোতলের নেশা।কানন দেবীর গান বুনো ফুল গো।যদি ভালো না লাগে দিও না মন।

শালা সলিড জীবনে হাওয়া আর
      নাই তখন দেয়ালের শৈবাল।বন্ধু তোমার বউ কিন্তু আমার…অরুন্ধতী আজ খুব ঘুম পাচ্ছে । তুক্কো রুইতনের বিবি পিছলে যায়  রোদ্দুরের গভীরে।
      তবে শেষ পর্যন্ত কোনো কথা আর গোপন থাকে না।


Discover more from Shikor

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান

Trending