গাধার শরীরে পেন্ডিং ডকুমেন্টস
(একটি উত্তরাধুনিক ট্র্যাজেডি)

তার পিঠে ঝুলে আছে
একটি অর্ধেক পোস্টমর্টেম রিপোর্ট
নিঃশ্বাস ভর্তি তিনটি উত্তপ্ত বালির বস্তা
মরুভূমিতে  প্রত্যক্ষ ছেঁড়া সংসার।
সে হাঁটে, যেন রাষ্ট্রের একটি ফাইল খুঁজছে
যা তলিয়ে গেছে তেপ্পানোটা বাজেটের নীচে,
আর তার কানে বাজে
বাচ্চাদের স্কুলের বেল,
স্কুলের বেতন, পরীক্ষার ফী, বাড়িওয়ালার হুমকি,
নয় মাসের বিদ্যুৎ বিলের নিঃশব্দ গর্জন।
রাতে, যখন সবাই ঘুমাতে যায়,
সে কেবল পূর্ণমাসি চাঁদের আলোয় দাঁড়িয়ে
নিজের ছায়া দেখে
আর ভাবে:
“ছায়া কি উত্তরাধিকার পায়?”
তার ঘর্মাক্ত দেহে ঝুলে থাকে
চাবি, তালা, রিমোট কন্ট্রোল,
আর কিছু না-পড়া কবিতার খাতা
যার পৃষ্ঠায় লেখা:
“তুমি গাধা হয়ে বেঁচে থাকো,
সিস্টেম তোমাকে ভালবাসবে”
তার ঘামে ফুঁড়ে ওঠে
নিস্তব্ধতার কবরস্থান,
যেখানে নামে নেই,
শুধু কাজের বিবরণ।
তার বাচ্চারা এখন মেট্রোতে চড়ে,
WiFi-র টাওয়ার ছুঁয়ে
রিভিশন নোট পড়ে,
তারা জানে না,
গাধারা লেখাপড়া জানে না বলে
পদত্যাগ করেছিল শব্দ থেকে।
সে এখন আর শুধু গাধা নয়
সে এক পোস্ট-ট্রুথ চরিত্র,
এক জেরক্স মানুষের ছায়া,
যার গল্প কেউ লিখেনা,
ইনবক্সে শুধু ‘Seen’ মার্ক দিয়ে রাখে।
তবু একরাতে
যখন সংসার ঘুমায়,
চিলেকোঠার কাঠেরবাক্স খুলে
ভেতরে ঢেলে দেয় নিজের মাথা,
কান,
দীর্ঘশ্বাসগুলো
যা কখনো কাউকে বলা হয়নি।
সকালে তাকে কেউ ডাকতে আসেনা।
ঘরের মানুষ ব্যস্ত,
নতুন সাবস্ক্রিপশনে
EMI-এর অ্যালার্ট।
দরজার নিচ দিয়ে গড়িয়ে পড়ে
এক ফালি দীর্ঘশ্বাস,
একটু ধুলা,
আর একটা কাগজে আঁকা
নীরব, কানবিহীন এক গাধার ছবি।
কেউ বোঝে না
সেই ছবিটিই
তার শেষ উত্তরাধিকার।


Discover more from Shikor

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান

Trending