ইতিহাসের একমাত্র পঙক্তি
তিনি ছিলেন না শুধু একজন মানুষ, তিনি ছিলেন এক ভাষার জন্ম,
এক নদীর উচ্ছ্বাস, এক জাতির প্রথম উচ্চারণ।
যখন পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলার নাম ছিল না,
তিনি ছিলেন সেই অনুচ্চারিত নাম, যা প্রতিটি নিঃশ্বাসে
জেগে উঠত, প্রতিটি বুকের ভেতর আগুন হয়ে জ্বলত।
তিনি ছিলেন না কোনো রাজনীতির কৌশলী,
তিনি ছিলেন এক অগ্নিস্নাত কবিতা,
যার প্রতিটি পঙক্তি ছিল রক্তে লেখা, যার ছন্দে জেগে উঠেছিল
সাত কোটি মানুষ।
তিনি ছিলেন সেই সূর্য, যিনি অস্ত যেতেন না কোনো পশ্চিমে,
যার আলোয় জেগে উঠত ভাষাহীন শিশুর কণ্ঠ,
ভীত কৃষকের বুক, বঞ্চিত নারীর চোখ।
তিনি ছিলেন সেই বৃক্ষ, যার ছায়ায় দাঁড়িয়ে একটি জাতি
প্রথমবার বলেছিল “আমি স্বাধীন”।
তিনি ছিলেন সেই সাগর, যার ঢেউয়ে ভেসে গিয়েছিল
শোষণের প্রাচীন প্রাসাদ, যার গর্জনে
কেঁপে উঠেছিল সাম্রাজ্যের মসনদ।
তিনি ছিলেন সেই নাম, যা উচ্চারণ করলে ভাষা পায় আত্মা,
আত্মা পায় দিগন্ত, দিগন্ত পায় পতাকা।
তিনি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান,
কিন্তু তাঁর নামই ছিল বাংলাদেশ।
সে নামের ভেতর ছিল একটি জাতির কান্না, হাসি, যুদ্ধ, প্রেম,
একটি ভাষার জন্ম, একটি পতাকার রঙ।
তাঁর হৃদয় ছিল বাংলার মানচিত্র, তাঁর স্বপ্ন ছিল
পৃথিবীর প্রতিটি বন্দীর মুক্তি।
তিনি ছিলেন সেই কবিতা, যা পৃথিবীতে আগে কেউ লেখেনি,
পরবর্তীতেও কেউ লিখতে পারবে না।
কারণ তিনি ছিলেন সেই একমাত্র পঙক্তি,
যা ইতিহাস নিজ হাতে লিখেছিল।






এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান