কালরাত, পঁচাত্তরের ১৫ই আগস্ট

সেই রাত ছিল না কেবল অন্ধকার
ছিল রক্তের লাল কুয়াশায় ঢাকা আকাশ,
ছিল বারুদের ভারে ঝিমিয়ে পড়া বাতাস,
ছিল বজ্রবাণের গর্জনে কেঁপে ওঠা প্রাসাদ
বিশ্বাসঘাতকতার গহ্বরে ডুবে যাওয়া সমগ্র এক জাতি।

৩২ নম্বরের আঙিনা সেদিন
ছিল যেন ছিন্নমাথা স্বপ্নের সমাধিক্ষেত্র;
পিতার হৃদয়ে বিধল সীসার তীর,
বাংলার বুক চিঁড়ে ছিটকে পড়ল রক্তের জোয়ার
যেন ইতিহাসের নদী লাল স্রোতে ভেসে যাচ্ছে।

মা-বোনদের আর্তনাদ
দেয়ালে আছড়ে ফিরে এলো জ্বলন্ত শিখার প্রতিধ্বনি হয়ে,
যেন শোক নিজেই আগুনে রূপান্তরিত।
কিন্তু নৃশংসতার হাত থামেনি
মানবতার চোখে নেমে এলো পাথরের স্থিরতা।

সবচেয়ে দগ্ধ মুহূর্ত
যখন ছোট্ট রাসেল,
যে জানত না ষড়যন্ত্রের ভাষা, রাজনীতির গোপন অন্ধকার,
যে কেবল বইয়ের পাতায় রঙিন সূর্য এঁকে স্বপ্ন দেখত,
তাকেও গ্রাস করল মৃত্যুর অন্ধ সীসা
শুধু সে বঙ্গবন্ধুর সন্তান বলে।

রক্তে ভিজল সিঁড়ি
যেন পিতার পদচিহ্নও ডুবে গেল লালের নদীতে,
শাপলার বাগান পরিণত হলো কালো ছাইয়ে,
আর ইতিহাসের শিলালিপিতে লেখা হলো
“এই রাত, এই হত্যাযজ্ঞ,
মানবতার চূড়ান্ত কবর।”

১৫ই আগস্ট
শুধু একটি দিন নয়,
এ এক রক্তমাখা চিরস্থায়ী ক্ষত,
যেখানে জাতি দাঁড়িয়ে থাকে শোকের সমুদ্র, লজ্জার পাহাড়
আর প্রতিজ্ঞার আগুন বুকে নিয়ে
যেন কোনো ভোর আর কখনো
রক্তের সূর্যোদয় না দেখে।


Discover more from Shikor

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান

Trending