বিলেতের বাংলা সাহিত্যে সংহতি সাহিত্য পরিষদ প্রায় তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে এক অবিস্মরণীয় মাইলফলক হিসাবে বিবেচিত । প্রবাসে থেকেও বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখার সংগ্রামে এই সংগঠন আজ ঈর্ষণীয় উচ্চতায় অধিষ্ঠিত। সংহতির এই দীপ্ত অভিযাত্রায় যেসব কবি ও সাহিত্যিক তাঁদের অনন্য অবদানের রেখাপাত করেছেন, তাঁদের মধ্যে উজ্জ্বল নক্ষত্রদের একজন হলেন কবি সৈয়দা তুহিন চৌধুরী, যিনি একসাথে কবি, নাট্যশিল্পী এবং সাংগঠনিক শক্তির অসাধারণ সমন্বয়ক।
১৯৮৯ সালে লন্ডনে প্রতিষ্ঠিত হয় সংহতি সাহিত্য পরিষদ। প্রতিষ্ঠার সেই প্রথম দিন থেকেই সৈয়দা তুহিন চৌধুরী সংগঠনের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত এবং প্রতিষ্ঠাটাতা ট্রেজারার । প্রথম কার্যনির্বাহী কমিটিতে তিনি ট্রেজারার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, যা ছিল একাধারে দায়িত্বপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ পদ। পরবর্তীতে তিনি যুগ্ম সমন্বয়ক এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে কাজ করে সংগঠনের কর্মযজ্ঞে নতুন মাত্রা সংযোজন করেন।
সিলেটের মাটিতে জন্ম নেওয়া তুহিন চৌধুরী ১৯৮৬ সালে শৈশবে পরিবারসহ যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান। লন্ডনের বহুসাংস্কৃতিক আবহ তাঁর শিল্পমানসকে প্রসারিত করে, কিন্তু শেকড়ের টান, মাতৃভূমির স্মৃতি এবং বাংলা ভাষার প্রতি অগাধ প্রেমই তাঁর সৃজনশীলতার মূল প্রেরণা।
২০১৭ সালে বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ “সূর্যাস্তে আনত সূর্যমূখী”। শিরোনামের মতোই গ্রন্থে ফুটে উঠেছে আলো-অন্ধকারের চিরন্তন দ্বন্দ্ব, আশার দীপ্তি এবং জীবনের অনন্ত যাত্রা। প্রবাস জীবনের টানাপোড়েন, নারীজীবনের স্বর, মাতৃভূমির স্মৃতি এবং মুক্তির আকাঙ্ক্ষা তাঁর কবিতায় একাকার হয়ে গেছে। এ গ্রন্থ প্রকাশের মাধ্যমে তাঁর কবি-সত্তা সুদৃঢ় অবস্থান লাভ করে।
সাংস্কৃতিক ও সাহিত্যচর্চার মাধ্যমে সৈয়দা তুহিন চৌধুরী প্রবাসী বাঙালি সমাজে বাংলা ভাষা ও কবিতার দীপশিখা জ্বালিয়ে রেখেছেন। তিনি কেবল একজন সংগঠক নন, বরং দুই ভূখণ্ড, বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মাঝে এক গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন। তাঁর কবিতা, তাঁর সংগঠক সত্তা এবং তাঁর নিরন্তর সাধনা প্রমাণ করে, তিনি আধুনিক প্রবাসী বাংলা সাহিত্যের এক উজ্জ্বল প্রতীক।
তাঁর শিল্পভ্রমণ শুরু হয় লন্ডনের Half Moon Theatre থেকে। অভিনয়শিল্পী হিসেবে তিনি যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন বিদ্যালয়ে নাটক পরিবেশন করেছেন; এমনকি নেদারল্যান্ডসের আন্তর্জাতিক মঞ্চেও তাঁর অভিনয়ের দীপ্তি ছড়িয়েছে। তবে তাঁর প্রকৃত পরিচয় খুঁজে পাওয়া যায় কবিতায়। কবিতা তাঁর কাছে কেবল শব্দের বিন্যাস নয়, বরং অন্তরের অগ্নিস্রোত, বেদনার স্পন্দন ও স্বপ্নের আলোকমালা।
সৈয়দা তুহিন চৌধুরী, যিনি একাধারে সংগঠক, নাট্যশিল্পী ও কবি, প্রবাসী সাহিত্যাঙ্গনে চিরকাল স্মরণীয় থাকবেন। সংহতি সাহিত্য পরিষদের সঙ্গে তাঁর অনন্য পথচলা এবং কবিতার দীপ্ত সৃজনশীলতা তাঁকে করে তুলেছে প্রবাসী বাংলা সাহিত্যের এক অনন্য মুখ।
শিকড় পরিবারের পক্ষ থেকে কবি সৈয়দা তুহিন চৌধুরীর জন্মদিনে অনেক শুভ কামনা। শুভ জন্মদিন
ফারুক আহমেদ রনি
সম্পাদক, শিকড়






এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান