দধীচির হাড়
পেপার ওয়েটের ভেতরে উড়ছে একটি স্ফটিক গাছ।
হঠাৎই উঠে এলো আমার সামনে কঙ্কাল দেহ নিয়ে
বেওয়ারিশ পোড়া কাঠ
নদীও কী রেখেছে মনে?
সারারাত সারাদিন সে ভূতের মতো
ভুল শহরের নাম ডেকে ডেকে গেছে…
মনে পড়েছে শেষমেশ
এও এক কেষ্ট মুচি…
একমুখ খোঁচা খোঁচা দাঁড়ি, পাতিকাকের মতো রং, ধূসর কালো চোখ,
ঢাউস এক মলিন কালো ছাতার তলায় ঝুঁকে ঠুকছে হাতুড়ি।
কে যেন এগিয়ে দিলো জুতো –
তোর ব্যাগে যে শুধুই দেখছি লাল চামড়া। কালো চামড়া বের কর।
অশুদ্ধ শব্দ নিকৃষ্ট মানুষের মুখ থেকে ছিটকে এলো–
বাটির কিছু খুচরো পয়সা নাড়া লেগে ছিটিয়ে গেলো জুতোর ওপরে।
গলদঘর্ম এই দুপুর –
পেপার ওয়েট থেকে অন্য কিছু বেরোতে পারতো!
পাইথন আর খরগোশ বসে আছে মুখোমুখি বা ডাইনোসরের সামনে একটা ময়ূর —
এই গালাগাল করছিস কাকে?
ব্রিজের তলা থেকে কবে ভাগিয়ে দিলো এই গাছের তলায়?
আপনার জুতোটা –
ডান হাতের লাল তালু মেলে দিলো সামনে,
আপনারা খেলা করেন আমরা দেখি।
ক্যারাম গলফ এসব আমাদের সীমানার বাইরে
স্ট্রাইকারের ধাক্কা খেতে খেতে আমরা ছিটকে ছিটকে নরকের গলি থেকে গলিতে হেঁটে বেড়াই।
ওপরের চামড়াটা শুয়োরের
মতো শক্ত ও কালো
ভেতরের লাল মাংস রক্তে ভিজে জবজবে…
আবার অশুদ্ধ ভাষা নিকৃষ্ট মুখ থেকে ছিটকে এলো-
দু টাকা কম দিলেন?
বাপটা বেজন্মা ঠিকানায় রেখে
নিজের লাশটাকে আগুনের গাদায় তুলে দিলো
ডোমটার গায়ের রঙটাও পোড়া- কালো
তবুও যদি গভীর রাতে ওর সন্তানের মুখে পূর্ণ চাঁদ এসে চুম্বন করে;
এই দধীচির সবটুকু তাকেই বিসর্জন দেবো






এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান